অর্থনীতি

গুলশান-বনানী-বারিধারা: আবাসিক প্লটকে বাণিজ্যিক বৈধতা দিচ্ছে রাজউক!

ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: হলি আর্টিজান হামলার পর নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজধানীর অভিজাত গুলশান, বনানী ও বারিধারার আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১৩ হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের নোটিসও দেয় সংস্থাটি। যদিও সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে রাজউক। আয় বাড়াতে নির্ধারিত ফির বিনিময়ে ভূমি ব্যবহারের শ্রেণী পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে তারা। রাজউকের সর্বশেষ বৈঠকে কাঠাপ্রতি ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব প্লট বাণিজ্যিক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও রাজউক চাইলেই ফির বিনিময়ে ইচ্ছামতো ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে পারে না বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা বলছেন, একটি শহর গড়ে ওঠার সময় তার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় বিন্যস্ত করা হয়। এ ধরনের শ্রেণী পরিবর্তনের আগে গণশুনানির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসরতদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাছাড়া এর সঙ্গে কূটনৈতিক পাড়ার নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। গত ১ জুলাই গুলশানে জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদেশী কূটনীতিকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তল্লাশি বাড়ানো হয় গুলশান, বনানী ও বারিধারার প্রবেশমুখগুলোয়। পুলিশের নিরাপত্তাচৌকির পাশাপাশি দেয়া হয় কাঁটাতারের ব্যারিকেড। যানবাহনও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ এলাকার জন্য নামানো হয়েছে আলাদা বাস ও রিকশা। অস্থায়ী দোকানপাট তুলে দেয়া হয়েছে, উচ্ছেদ করা হয়েছে হকার। গুরুত্বপূর্ণ ৩০০ পয়েন্টে বসানো হয়েছে ৬৫০টি সিসি ক্যামেরা। রাজউকও আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। যদিও গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে বলে এখন দাবি করছে রাজউক। যুক্তি হিসেবে তারা বলছে, কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই এত দিন এসব এলাকার আবাসিক প্লট বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হচ্ছিল। এগুলোর বৈধতা দিলে রাজউকের রাজস্ব বাড়বে। যোগাযোগ করা হলে রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) আবদুর রহমান বলেন, বেশকিছু সড়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা দিতে চাই আমরা। বোর্ডের সর্বশেষ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আমরা সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। মন্ত্রণালয়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ২০০৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গুলশান শুটিং ক্লাব থেকে গুলশান ২ নম্বর চত্বর পর্যন্ত; বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, গুলশান-বনানী সংযোগ ব্রিজ থেকে গুলশান-বারিধারা ব্রিজ পর্যন্ত এবং গুলশান-মহাখালী ব্রিজ থেকে বাড্ডা লিংক রোড (গুলশান দক্ষিণ এভিনিউ) পর্যন্ত উভয় পাশের প্লট বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহারে রাজউকের অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া বনানী ১১ নম্বর সড়কের উভয় পাশের প্লটগুলো বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে। তবে এগুলোর বাইরে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বিভিন্ন সড়কে বিপুল সংখ্যক আবাসিক প্লট রাজউকের অনুমোদন না নিয়েই বাণিজ্যিক ব্যবহার হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়াই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় কোনো ফি পাচ্ছে না রাজউক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজউকের অনুমোদন না নিয়েই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে গুলশান আবাসিক এলাকার ৪১ নম্বর সড়কের (৩৫ নম্বর সড়ক সংযোগস্থল থেকে পশ্চিম প্রান্তে গুলশান বনানী-লিংক রোড ব্রিজের উভয় পাশ পর্যন্ত) তিনটি প্লট। ৯৬, ১০৪ ও ১১৩ নম্বর সড়কের উভয় পাশে ৮৫টি প্লটের মধ্যে ১৮টি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে। বনানী আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কে (৪ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল থেকে ১২ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত দক্ষিণ পাশ) প্লট রয়েছে ৩৫টি। এর মধ্যে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে ২৯টি। ১০ নম্বর সড়কের (কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর সংযোগস্থল থেকে ১১ নম্বর সড়কের সংযোগ পর্যন্ত দুই পাশ) ২১টি প্লটের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে ১৮টি। ১২ নম্বর সড়কের (কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর সংযোগস্থল থেকে ১১ নম্বর সড়কের সংযোগ পর্যন্ত দুই পাশ) ২১টি প্লটের মধ্যে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে ১৭টি। বনানী ২৭ নম্বর সড়কে (কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর সংযোগস্থল থেকে বিমানবন্দর সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত দুই পাশ) প্লট রয়েছে মোট ৫১টি, যার মধ্যে ৩০টি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া বারিধারা আবাসিক এলাকায় ব্লক জেতে (প্রগতি সরণি-সংলগ্ন পূর্ব পাশের প্লট) প্লট রয়েছে ৫২টি। এর মধ্যে ৪৫টিই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। রাজউক বলছে, গুলশান, বনানী ও বারিধারা আবাসিক এলাকার এসব সড়কের অধিকাংশ প্লটই অনুমোদন না নিয়ে বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ এসব প্লট বাণিজ্যিক হিসেবে ঘোষণা করলে রাজউকের রাজস্ব বাড়বে। তবে কেবল রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পরিকল্পনার মূল বিষয় হতে পারে না বলে মনে করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের স্বার্থে ভূমির যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুলশান, বনানী ও বারিধারা আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। এ কারণে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ অভিযানও শুরু করে রাজউক। এখন অর্থের বিনিময়ে আবাসিক প্লট বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হলে তা হবে স্ববিরোধী। তাই রাজউককে অবশ্যই তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ সমীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভূমি ব্যবহারের শ্রেণী ইচ্ছামতো পরিবর্তনের সুযোগ নেই। গত ১ জুলাই গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিভিন্ন মহল থেকে মত আসে। ভূমি ব্যবহারের শ্রেণী পরিবর্তন করে গুলশান, বনানী ও বারিধারার আবাসিক প্লট বাণিজ্যিক ব্যবহারের বৈধতা দিলে নিরাপত্তার জন্য তা হুমকি হবে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিবাধারার আবাসিক এলাকায় আগে থেকে যেভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে, জমির শ্রেণী পরিবর্তনের পরও সেভাবেই তা ব্যবহার হবে। কাগজপত্রে পরিবর্তন হলেও বাস্তবে কার্যক্রম একই থাকছে। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য তা কোনো হুমকি হবে না। কারণ প্রত্যেকটি বাড়ি কিংবা মার্কেট বা শপিং মলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: বণিক বার্তা

  • ২ টাকার লবণ হাত ঘুরে প্রক্রিয়াজাত শেষে ৪০ টাকা

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: অপরিশোধিত লবণ বা লবণের কাঁচামালের প্রায় শতভাগ আমদানি হয় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে। আমদানিকৃত এসব লবণ বাংলাদেশের বন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসার পর টনপ্রতি দাম পড়ে সর্বনিম্ন ২০ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২৫ ডলার। সে হিসাবে বন্দরে পৌঁছানো পর্যন্ত কেজি প্রতি লবণের দাম পড়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৯৫ পয়সা। কিন্তু হাত বদল হয়ে এ লবণ পরিশোধন মিল পর্যন্ত আসতে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ২২ পয়সা। এর পর প্রক্রিয়াজাত শেষে ভোক্তাদের কাছে প্রতি কেজি লবণ বিক্রি করা হয় ৪০-৪২ টাকায়। নারায়ণগঞ্জের লবণ আমদানিকারকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি অপরিশোধিত লবণে ভ্যাট দিতে হয় ১১৬ শতাংশ। এ লবণ চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ পৌঁছাতে ৭৪ কেজির বস্তায় পরিবহন ভাড়া দিতে হচ্ছে ৭০ টাকা, নদীর ঘাটে দেয়া হচ্ছে বস্তাপ্রতি ৫ টাকা, ঘাট থেকে গুদামে পৌঁছাতে শ্রমিককে দেয়া হচ্ছে বস্তাপ্রতি ১০ টাকা এবং বস্তা কিনতে ব্যয় হচ্ছে ১০ টাকা। সব মিলে ৭৪ কেজির এক বস্তা লবণ নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছাতে মোট ব্যয় হচ্ছে ৪৬০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজি লবণের কাঁচামালের দাম পড়ে ৬ টাকা ২২ পয়সা। লবণের কাঁচামাল অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হওয়ার কথা স্বীকার করেন নারায়ণগঞ্জ লবণ আড়তদার মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মামুন-উর-রশিদ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে লবণের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি থাকায় সরকার তিন দফায় আড়াই লাখ টন লবণ আমদানির সুযোগ দেয়। এ লবণের কাঁচামাল ১৬ টাকায় বিক্রি হওয়াটা অস্বাভাবিক। কাঁচামাল বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা অস্বাভাবিক মুনাফা করছেন বলে মনে করেন তিনি। এদিকে কক্সবাজারের লবণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কৃষক পর্যায়ে বর্তমানে প্রতি কেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ১১ টাকা ২৫ পয়সা। আর মধ্যস্বত্বভোগী পর্যায়ে ১১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সায়। আর ম্যানুয়াল মিলাররা প্রতি কেজি লবণ বিক্রি করছেন ১২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১৪ টাকায়। অথচ অটোমিলাররা প্রতি কেজি লবণ বিক্রি করছেন ৩৫-৪০ টাকায়, যা রাজধানীর বাজারে খুচরা পর্যায়ে ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্যাকেটজাত লবণ উত্পাদন করছে এমন উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে— এসিআই সল্ট লিমিটেড, ইউনাইটেড সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, পূবালী ভ্যাকুয়াম ইভ্যাপোরেটেড সল্ট প্লান্ট, ডায়না ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড, মোল্লা সল্ট (ট্রিপল রিফাইন্ড) ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ক্রিস্টাল, মধুমতিসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। দেশে লবণ বাজারজাত হচ্ছে ভ্যাকিউম, মেকানিক্যাল ও সনাতন এ তিন পন্থায় পরিশোধন হয়ে। ভ্যাকিউম, মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে পরিশোধিত হয় ৬০ শতাংশ লবণ। এ দুই পন্থায় বাজারজাত হওয়া লবণের বাজারে ৮০ শতাংশ দখল করে আছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩০। এদিকে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন বলছে, ভারত থেকে প্রতি কেজি লবণ ৮০ পয়সায় কেনা হয়। ট্রেড ভ্যালু কেজিপ্রতি আরো ৮০ পয়সা, ৯২ শতাংশ শুল্ক এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সব খরচ মিলে কেজিপ্রতি লবণের কাঁচামাল সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ টাকার উপরে হবে না। লবণ মিল মালিক সমিতি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে কেনা লবণের সঙ্গে যৌক্তিক কিছু খরচ যোগ হয়। এর মধ্যে আছে জাহাজ ভাড়া, পরিবহন খরচ, সরকারি কর। এসব খরচ যোগ করে কেজিপ্রতি অপরিশোধিত লবণের দাম সর্বোচ্চ ৫ টাকা হতে পারে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫ টাকায়। মূলত এর পেছনে আছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজি। লবণ আমদানিতে সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে এ অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের প্রকাশ ঘটছে। আমদানির অনুমোদন পাওয়া নামসর্বস্বরাই অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। আর এ প্রবণতার দরুন অস্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে বাজারজাতকৃত লবণের দাম। জানা গেছে, সরকার চলতি মৌসুমে মোট ২৪১টি প্রতিষ্ঠানকে ভোজ্য ও শিল্প লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ৭০-৮০টি প্রতিষ্ঠানের লবণ পরিশোধনের মিল রয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো নামসর্বস্ব। সরকার প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৬১৯ টনের বেশি লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। অর্থাত্ যাদের মিল আছে এবং যারা নামসর্বস্ব উভয় ধরনের ব্যবসায়ী— একই পরিমাণ লবণ আমদানির অনুমোদন পেয়েছে। যদিও যাদের মিল আছে, তারা ৬১৯ টনের দ্বিগুণ লবণ পরিশোধনের সক্ষমতা রাখে। মিল সচল রাখতে বাধ্য হয়ে তারা অন্য আমদানিকারকের থেকে বেশি দামে কাঁচামাল বা অপরিশোধিত লবণ কিনছেন। অতিরিক্ত দাম দিয়ে কেনা অপরিশোধিত লবণ পরিশোধনের পর তা বিক্রিও হচ্ছে অস্বাভাবিক দামে। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন, লবণ আমদানির পর কিছু যৌক্তিক খরচ যোগ হয়। এটি তেমন কোনো সমস্যা তৈরি করে না। কিন্তু লবণ আমদানির অনুমোদন যারা পেয়েছেন, তাদের মধ্যে ৭০-৮০টি ছাড়া বাকিরা সবাই নামসর্বস্ব। যদিও সমপরিমাণ লবণ আমদানির অনুমোদন পেয়েছে সবাই। অনুমোদন পাওয়া আমদানিকারকদের মধ্যে যাদের বিপুল পরিমাণ পরিশোধন ক্ষমতা আছে, তারা পড়ছেন বিপাকে। মিল চালু রাখতে বাধ্য হয়েই নামসর্বস্বদের কাছ থেকে ক্রুড লবণ কিনছেন। আর সুযোগ বুঝে নামসর্বস্বরা ৫ টাকার পণ্য ১৫ টাকায় বিক্রি করছেন। এভাবেই আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে লবণের কাঁচামালের মূল্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সহসভাপতি সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যে দামে কিনে লবণ আমদানি করা হয়, তার সঙ্গে অনেক খরচ যোগ হয়। এর মধ্যে আছে জাহাজীকরণ ব্যয়, কর, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি। তবে দামের অস্বাভাবিক পর্যায় সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতায়। এ প্রবণতার কারণেই লবণের মূল্য বর্তমানে অস্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, প্রতি কেজি লবণ উত্পাদন থেকে আয়োডিন মেশানো, প্যাকেজিং ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসাব করলে সর্বোচ্চ ৮ টাকার বেশি হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অথচ বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ বিক্রি হচ্ছে ২৮-৪২ টাকায়। এতে একদিকে কৃষক উত্পাদন করে ঠকছেন, অন্যদিকে ভোক্তাকেও অতিরিক্ত দামে তা কিনতে হচ্ছে। বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, বছরে লবণের চাহিদা রয়েছে ১৬ লাখ টন। এর মধ্যে খাবার লবণ আট লাখ টন এবং শিল্পে ব্যবহূত বাকি আট লাখ টন। ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত দেশে লবণ উত্পাদন হয়েছে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার টন। এর মধ্যে খাবার লবণ উত্পাদন হয়েছে ৮ লাখ ৩৫ হাজার টন। নতুন লবণ নীতিতে ২০১৬-২০ সাল পর্যন্ত ভোজ্য লবণের চাহিদা নির্ণয় করা হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক জনপ্রতি ভোজ্য লবণের চাহিদা ১৪ দশমিক ৫ গ্রাম। এ হিসাবে বার্ষিক চাহিদা নির্ণয় করা হয়েছে। তবে ভোজ্য লবণের পরই শিল্প লবণ বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে বার্ষিক ভোজ্য লবণের চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৪৮ হাজার টন, শিল্প লবণের চাহিদা ৩ লাখ ৪৮ হাজার টন, মত্স্য প্রক্রিয়াজাত লবণের চাহিদা ৬৯ টন এবং প্রাণী খাতে ব্যবহূত লবণের চাহিদা ২ লাখ ২ টন। সূত্র: বণিক বার্তা

  • পুঁজিবাজারের ভালো দিন সামনে: অর্থমন্ত্রী

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রয়েছে দাবি করে সামনে ‘ভালো দিনের’ আশা দেখিয়েছেন। বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্য অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। মুহিত বলেন, গত কয়েকবছরে পুঁজিবাজারে অনেক সংস্কার হয়েছে। পুঁজিবাজার এখন স্থিতিশীল ও মজবুত ভিত্তি পেয়েছে। এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। “এ সরকারের আমলেই পুঁজিবাজার ভালো অবস্থানে যাবে। আমার ধারণা ২০১৮ সালে পুঁজিবাজার ভালো করবে।” পুঁজিবাজার নিয়ে নিজের বিরূপ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মুহিত বলেন, “পুঁজিবাজার নিয়ে অনেক দিন কোনো মন্তব্য করিনি, পুঁজিবাজার আমাকে বড় কষ্ট দিয়েছে। “আমার খারাপ লাগে পুঁজিবাজারের বড় দুটি ধস হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, অথচ আওয়ামী লীগ সরকারই পুঁজিবাজারের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে।” তবে দেরিতে হলেও এখন পুঁজিবাজারে নিয়ম-কানুন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা নিয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনও ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিএলসি ইনভেস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।

  • ফার্নেস অয়েল কালোবাজারে বিক্রির শংকা

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: শুল্কমুক্ত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি পাচ্ছে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকরা। একই সঙ্গে তারা হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ৯ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জের অর্থ ফেরত পাবেন। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগ প্রয়োজনীয় অনুমতি দেবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তেল আমদানির জন্য বর্তমান আইন সংশোধনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া সরকারি কেন্দ্রের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডও (পিডিবি) জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) বাদ দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি আমদানি করা যাবে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত জ্বালানি অন্য কোথাও ব্যবহার, বিক্রি বা পাচার হচ্ছে কিনা তা মনিটরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফলে এ খাতে ব্যাপক লুটপাটের আশংকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে সরকারের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে তেল এনে তা কালোবাজারে বিক্রি করতে পারে। গভীর সমুদ্র বন্দর থেকেও লাইটার জাহাজের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতে পারে কোটি কোটি টাকার তেল। দেশে তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা মোট ৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ১৮ ও বেসরকারি ২৭টি। এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য দৈনিক ৯১৮৩ মেট্রিক টন জ্বালানির প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে সরকারি ২৫৫৮ মেট্রিক টন এবং বেসরকারি কেন্দ্রের জন্য ৬৬২৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে অধিকাংশই ফার্নেস অয়েল। আগামীতে নতুন কেন্দ্র অনুমোদন দেয়া হলে চাহিদা আরও বাড়বে। চাহিদার সিংহভাগ তরল জ্বালানি বেসরকারি পর্যায়ে শুল্কমুক্ত আমদানি হবে। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪টি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ফার্নেস অয়েল আমদানি করে সাড়ে ৯ লাখ টন। আর বিপিসি আমদানি করে ৫ লাখ টন। চলতি ২০১৬ সালের ৪ মাসে বিপিসি আমদানি করেছে ৬০ হাজার টন। অন্যদিকে আইপিপিগুলো আমদানি করে ৪ লাখ টন। বিপিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তার প্রশ্ন- তাহলে এই তেল গেল কোথায়? চার মাসে সব বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল প্রয়োজন। সেখানে এরই মধ্যে আমদানি করা হয়েছে ৪ লাখ টন। এতে স্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অসৎ কর্তৃপক্ষ মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে ফার্নেস অয়েল আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করছে। এ অবস্থায় তারা ডিজেল আমদানির সুযোগ পেলে তা বাইরে বিক্রি করবে। বিপিসির ওই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এতে সরকার নিয়মিতভাবে বড় ধরনের রাজ্য হারাবে। বিদ্যুৎ নিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। সূত্র জানায়, ২৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহারের জন্য তরল জ্বালানি আমদানির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মালিকদের হাতে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পরিচালনার জন্য স্পন্সর কর্তৃক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল (ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল) আমদানির ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইপূর্বক প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রদানের জন্য ১৬ অক্টোবর নির্দেশ দেয়া হয় বিদ্যুৎ বিভাগকে। একই সঙ্গে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য তেল আমদানির অনুমতি দেয়া হয় পিডিবিকে। ওই সভাতেই সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তেল আমদানির জন্য বর্তমান আইন সংশোধনের কথা বলা হয়। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়। সভায় বলা হয়, বর্তমানে দেশে ১০৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে তরল জ্বালানিভিত্তিক (হাই স্পিড ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল) বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ১৮টি আর বেসরকারি ২৭টি। শিগগিরই তেলভিত্তিক আরও ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আসছে। এজন্য ৩১টি কোম্পানিকে যোগ্য বিবেচিত করা হয়েছে। সরকারি খাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৩৪৪ মেগাওয়াট আর বেসরকারি খাতে ২ হাজার ৩১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রয়েছে। সভায় বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি এক পত্রে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানায় নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রাথমিকভাবে বিপিসি তেল সরবরাহ করলেও ভবিষ্যতে এসব প্ল্যান্ট নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তেল আমদানি করতে পারবে। ওই সময় বিদ্যুৎ বিভাগকে এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ এতদিন এই নির্দেশনা কার্যকর করেনি। এ কারণে ২৯ সেপ্টেম্বরের সভায় পিডিবির আওতাধীন তরল জ্বালানিভিত্তিক সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেল আমদানির জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সরবরাহকারী নির্বাচন করে তাদের কাছ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু জ্বালানি বিভাগ তা বাস্তবায়ন করেনি। এই অবস্থায় ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় চিঠি দিয়ে আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ ওই চিঠিও আমলে না নিয়ে ১৭ এপ্রিল বিপিসিকে জানিয়ে দেয় তাদের সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি বিপিসি থেকে কিনতে হবে। একইভাবে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকেও আগের মতো তাদের প্রয়োজনীয় ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল বিপিসির কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে বলে জানিয়ে দেয়। এই অবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকরা আবারও সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে তাদের আগের আবেদন বিবেচনার অনুরোধ জানায়। বৈঠকে বিদ্যুৎ সচিব জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য তেল আমদানির অনুমতির ক্ষমতা বিদ্যুৎ বিভাগকে দেয়া হলেও পেট্রোলিয়াম আইন-২০১৬ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন আইন-২০১৬ অনুযায়ী জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষমতা বিপিসির ওপর ন্যস্ত। তাই এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও নিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনেও সংশোধনী আনতে হবে। সচিব আরও বলেন, ২০১১ সালের পত্রে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হলেও বর্তমানে বিপিসি তাদের স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি অনেক বৃদ্ধি করেছে বিধায় আমদানির ক্ষেত্রে অনাপত্তি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তবে বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ায় নতুন আইন প্রণয়ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ জ্বালানি তেল আমদানি করলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না বলেও জানায়। এরপর সভায় সিদ্ধান্ত হয় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পরিচালনার জন্য স্পন্সর কর্তৃক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেবে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মূলত সরকারকে চাপে ফেলে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকরা তেল আমদানির অনুমতি বাগিয়ে নিয়েছে। এপ্রিল মাসেও নৌ-ধর্মঘটের কারণে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ডিজেল আমদানির অনুমতি দিতে সরকারকে চাপ দিয়েছিল। তাদের অভিযোগ এতদিন কিছু কিছু বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক ফার্নেস অয়েল আমদানি করত। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে আমদানি করা এই তেল তাদের অনেকেই বাইরে বিক্রি করেছে। এরপরও তাদের ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমতি দেয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পেছনে সরকার বছরে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকার একদিকে কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করছে, অপরদিকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছে। সেই বিদ্যুৎ জনগণের কাছে সরকার বিক্রি করছে অর্ধেকেরও কম মূল্যে। এভাবে কেনাবেচার নামে বছরে মোটা অংকের অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। জনগণের পকেট কেটে এ লোকসানের ভার লাঘবের জন্যই সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দশ জেলায় ৩১ কোম্পানি যোগ্য : দেশের ১০ জেলায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে দেশী-বিদেশী ৩১টি কোম্পানি প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। চাঁদপুর, নোয়াখালী, বাগেরহাট, বগুড়া, জামালপুর, ফেনী, মেঘনাঘাট, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, শান্তাহারে ১০০ মেগাওয়াটের একটি করে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ৯ আগস্ট এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। মোট ৩৬টি কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে ৫টি কোম্পানির আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এর মধ্যে সামিট পাওয়ারের ১টি, রহিম আফরোজ পাওয়ারের ২টি ও এন্ট্রাকো পাওয়ারের ২টি আবেদন বাতিল করে দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বাকি ৩১টি কোম্পানি টেকনিক্যালি যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই যোগ্য কোম্পানিগুলোর দেয়া ফিন্যান্সিয়াল অফার যাচাই-বাছাই করা হবে। এদের মধ্যে যারা সরকারের কাছে সবচেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে তারা চূড়ান্তভাবে যোগ্য বিবেচিত হবে। সোমবার পিডিবি বাছাইকৃত কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট রয়েছে। এ কারণে দ্রুত যোগ্য কোম্পানীগুলোর সঙ্গে উৎপাদন চুক্তি করা হবে। প্রাথমিক বাছাইপর্বে চাঁদপুর জেলার জন্য ৩টি কোম্পানি যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। এগুলো হল রিজেন্ট স্পিনিং পাওয়ার, এক্সেল পাওয়ার ও ডরিন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। নোয়াখালী জেলার জন্য দুটি কোম্পানি যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। এ দুটি হল এনার্জি প্রিমা ও ম্যাক্স পাওয়ার লিমিটেড। বাগেরহাট জেলার জন্য যোগ্য হয়েছে ৮টি কোম্পানি। এগুলো হল ইউনাইটেড পাওয়ার লিমিটেড, এক্সেল পাওয়ার, ডরিন পাওয়ার, এক্সসিইএল, সামিট কর্পোরেশন, কমোডটি পাওয়ার, বারাকা পাওয়ার লিমিটেড ও পাওয়ার প্যাক্ট লিমিটেড। বগুড়া জেলার জন্য ২টি কোম্পানি যোগ্য হয়েছে। এই দুটি হল মিডল্যান্ড পাওয়ার ও কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড। জামালপুর ও ফেনী জেলার জন্য ১টি করে কোম্পানি যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুরে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ আর ফেনীর জন্য শ্রীলংকান কোম্পানি লাকথানবি পাওয়ার। মেঘনাঘাটের ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যোগ্য ৪টি কোম্পানি হল রিজেন্ট স্পিনিং, পাওয়ার সোর্স, পাওয়ার প্যাক্ট ও প্রিসিসান পাওয়ার লিমিটেড। ঠাকুরগাঁও জেলার দুটি যোগ্য কোম্পানি হল ম্যাক্স পাওয়ার ও এনার্জি প্যাক লিমিটেড। রংপুরের জন্য ৪টি কোম্পানি যোগ্য হয়েছে। এগুলো হল এনার্জি প্যাক, মোশারফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস, লাকথানবি ও কনফিডেন্স সিমেন্ট। শান্তাহারে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৪টি কোম্পানি যোগ্য হয়েছে। এগুলো হল বারাকা পাওয়ার, এক্সসিইএল, জেন্ট পাওয়ার ও মিডল্যান্ড পাওয়ার। রহিম আফরোজ পাওয়ার ২টি জেলায়, এন্ট্রাকো সিএনজি ফেনীসহ ২ জেলায় ও সামিট পাওয়ার চাঁদপুরের জন্য আবেদন করলেও তারা নন রেসপনসিভ হয়।

আন্তর্জাতিক

আজ ‘পদত্যাগের’ ঘোষণা দেবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

ডিপিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাই আজ মঙ্গলবার দেশের জনগণের উদ্দেশে সরাসরি বক্তব্য রাখবেন। প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের ঘোষণার পরেই বিক্ষোভকারীরা ধারণা করছেন, আজ হয়তো তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্ত পদত্যাগের জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে পার্ক আবারো তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন পার্ক। আইনপ্রণেতাদের অভিসংশন চাপ এবং জনগণের পদত্যাগের চাপের মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে পার্ক প্রেসিডেন্ট পদ ত্যাগ সরে যাওয়ার ঘোষণা দেবেন। তবে এই আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন পার্ক নিজেই। তবে আজ মঙ্গলবার পার্ক তার ভাষণে আসলে কি বললেন সেই সম্পর্কে কোন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে যদি পদত্যাগের ঘোষণা দেন, সেটি হবে আশাতীত। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আর আগেও দুইবার জনগণের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। দেশটিতে গত প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলছে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকেও আজকের বক্তব্য সম্পর্কে কোন ইঙ্গিত দেয়া হয়নি। প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি তার বান্ধবী চুই সুন-সিলকে পর্দার আড়াল থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন।

  • রোহিঙ্গা নির্যাতন: মিয়ানমারে কফি আনান

    ডিপিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ এবং সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মিয়ানমারে এসেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। মিয়ানমারের নতুন সরকার রোহিঙ্গা সম্পর্কিত এক নতুন কমিশন গঠন করেছেন। সেটির নেতৃত্ব রয়েছেন কফি আনান। তিনি কমিশনের সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। জাতিসংঘের সাবেক এ মহাসচিব এমন এক সময়ে মিয়ানমার সফর করছেন যখন দেশটিতে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের কারণে হাজার-হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান তাদের ঘর-বাড়ি থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন দিচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে সংঘাত বন্ধে এবং সংখ্যা গরিষ্ঠ বৌদ্ধ ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের মাঝে সম্পর্ক উন্নয়নে মিয়ানমার সরকারকে পরামর্শ দেবেন কফি আনান। মূলত মিয়ানমারের গনতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সূচীর আগ্রহে আনানকে এ কমিশনের প্রধান করা হয়েছে। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা আনানের নেতৃত্বে কমিশনকে পছন্দ করছেন না এবং তারা এই কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছিল। প্রায় চারমাস আগে আনানকে এ কমিশনের প্রধান করা হলেও কিছুদিন পরেই রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাতের শুরু হয়। রোহিঙ্গা মুসলমানদের অভিযোগ এবারের দমন-পীড়ন অতীতের যে কোন মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। যদিও মিয়ানমার সরকারের দাবি, কয়েকটি পুলিশ ক্যাম্পে হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিহত হওয়ার পর তারা এ অভিযান চালায়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করছে মিয়ানমারের সরকার। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর ব্যাপক অত্যাচার ও নিপীড়নের অভিযোগ স্বত্বেও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূচীর নীরবতার কারণে অনেকে তার সমালোচনা করছেন।

  • কাশ্মীরে দেড় শতাধিক বাড়ি রহস্যজনকভাবে পুড়ে ছাই!

    ডিপিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে কাশ্মীরে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। এতে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে ৩ জন। আহত হয়েছে আরো অন্তত ৬ জন। শনিবার ভোরে কাশ্মীরের নরওয়াল এলাকার বস্তিতে এই ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে যায় অনেকেই। এসময় আহত হয়েছেন ৫ জন। আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে বস্তিত থাকা ১৫০টির বেশি ঘর। জম্মু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রমেশ গুপ্তা জানিয়েছেন, তিনটি আগুনে পুড়া মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে দগ্ধ আরো ছয়জনের অবস্থা গুরুতর। পুড়ে যাওয়া বস্তিতে স্থানীয়দের বাইরেও নির্যাতনে মিয়ানমার ছাড়া বহু রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল।

  • ‘নোট বাতিলের আগে ২৩ স্থানে জমি কিনেছে বিজেপি’

    ডিপিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের কিছুদিন আগে দলীয় কার্যালয়ের জন্য ২৩টি স্থানে জমি কিনে রেখেছিল ভারতের ক্ষমতাসীন দল জনতা পার্টি (বিজেপি)। তথ্য প্রমাণসহ এ অভিযোগ করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও জনতা দলের (জেডিইউ) নেতা নীতিশ কুমার। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নীতিশ কুমার অভিযোগ করে বলেন, সরকারের নোট বাতিলের বিষয়টি আগে থেকে জেনে এর পুরো সদ্ব্যবহার করেছে দলটি। আর এ কারণেই নোট বাতিলের আগেই দলীয় সিদ্ধান্তে বিহার রাজ্যে অনেক জমি কিনে রেখেছিল বিজেপি। নোট বাতিলের এক মাস আগে ওই রাজ্যের ২৩টি স্থানে দলীয় কার্যালয়ের জন্য বিজেপি এই জমি কিনেছিল এমন তথ্যপ্রমাণ হাজির করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে বিজেপি নিজেদের কালো টাকা সাদা করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, জমি কেনা হয়েছে চেকের মাধ্যমে। এখানে কোনো কালো টাকা ব্যবহার করা হয়নি। কালো ও জাল রুপি বন্ধ করতেই চলতি মাসের ৮ নভেম্বর হঠাৎ করেই ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই নোট বাতিলের পর নানামুখী সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার বলেন, ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের আগে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের জন্য ২৩টি স্থানে জমি কেনা হয়। সম্মিলিত জনতা দলের মুখপাত্র নিরাজ কুমার বলেন, নোট বাতিল হওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই জানত ক্ষমতাসীন বিজেপি। এ কারণেই অর্থের সদ্ব্যবহার করতেই তারা আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে অনেক জমি কিনেছে। জনতা দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিজেপির জমি কেনার সময় নির্ধারণের দিকে নজর দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২৩টি স্থানে কার্যালয়ের জন্য জমি কিনেছে বিজেপি। অথচ নোট বাতিলের ঘোষণা আসে ৮ নভেম্বর। তবে বিজেপির বিহারের প্রধান মঙ্গল পাণ্ডে বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তার নির্দেশনার পরই প্রতিটি এলাকায় দলীয় কার্যালয় নির্মাণের জন্য জমি কেনা শুরু হয়। পুরো ভারতেই একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।’ সূত্র: এনডিটিভি

শিক্ষাঙ্গন

আজ বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা

ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। প্রকৌশল, পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদসমূহের বিভিন্ন বিভাগের অধীনে স্নাতক কোর্সে ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে লেভেল-১, টার্ম-১-এ শিক্ষার্থী ভর্তির পরীক্ষা সকাল ৯টায় শুরু হবে। বুয়েট সূত্র জানায়, আগামীকাল শনিবার শুধুমাত্র পুরকৌশল ভবনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদিন এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পুরকৌশল ভবন ব্যতীত অন্যান্য ভবনে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।ভর্তির জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের নামের তালিকা আগামী ১২ নভেম্বর প্রকাশিত হবে। জানা গেছে, বুয়েটের বিভিন্ন অনুষদে মোট আসন সংখ্যা এক হাজার। এতে পড়ার সুযোগ পেতে প্রায় সাড়ে আট হাজার পরীক্ষার্থী এবারের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

তথ্যপ্রযুক্তি

post-10

হেডফোনেও তথ্য নিরাপত্তার হুমকি!

ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তির কল্যাণে সভ্যতা অনেক দূর এগিয়ে গেলেও এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, প্রযুক্তি এখন ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকিও সৃষ্টি করছে। এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে হেডফোনও। অর্থাৎ হেডফোন কম্পিউটারে ব্যবহার করাটা আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা হুমকি হতে পারে। ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির একটি গবেষক দল এ ধরনের একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করে দেখিয়েছে। তারা বিশেষ কিছু কোড তৈরি করেছে, যা ব্যবহারকারীর হেডফোন নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে (বিস্তারিত জানতে আগ্রহীদের জানিয়ে রাখি, রিয়েলটেক কোডেকের অডিও জ্যাক পুনরায় ফাংশন করতে সক্ষম) এবং মাইক্রোফোনে রুপান্তর করে, কথোপকথন রেকর্ড করতে সক্ষম। যেভাবে এটি কাজ করে: ভয়ংকর এই কোডের নাম হচ্ছে ‘স্পিকার’, যা এয়ারবাড বা হেডফোনের স্পিকার ব্যবহার করে বাতাসের কম্পন ক্যাপচার করে এবং তাদের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক সংকেতে রূপান্তর করে অডিও ধারণের উপযোগী করে। বেন গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি রিসার্চ ল্যাবের প্রধান গবেষক মর্ডেচাই গুরি বলেন, মানুষ এই গোপনীয় দুর্বলতা সম্পর্কে ভাবে না। এমনকি যদি আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে মাইক্রোফোন খুলে ফেলেন, যদি শুধু হেডফোন ব্যবহার করেন তাহলেও কথোপকথন রেকর্ড করা সম্ভব হবে। গবেষকরা এখন পর্যন্ত শুধু রিয়েলটেক অডিও ব্যবহৃত পিসির ক্ষেত্রে এ গবেষণা করেছেন। খুব শিগগির তারা অন্যান্য অডিও কোডেক চিপ এর ওপর এই নিরাপত্তা পরীক্ষাটি চালাবে এবং সম্ভবত স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে। যদিও এটা নিরাপত্তা গবেষকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি উন্নত সংক্রান্ত গবেষণা কিন্তু তারপরও যদি আপনি দুশ্চিন্তায় থাকেন, তাহলে যখন হেডফোন ব্যবহার করছেন না, তখন তা কম্পিউটার থেকে খুলে রাখতে পারেন।

  • স্মার্টফোনের আলোয় শরীর ও মস্তিষ্কের ক্ষতিকর প্রভাব

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: আমাদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপের স্ক্রিন অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী নীল আলো তৈরি করতে সক্ষম হয়। স্ক্রিনের মধ্যে থাকা এই আলো এতটা উজ্জ্বল যে, আমরা রৌদ্রজ্জ্বল দিনেও তা দেখতে পাই। রাতে তা আরো বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আর তাই রাতের বেলা অবশ্যই স্ক্রিনে চোখ রাখা বন্ধ করতে হবে, রাতের অন্ধকারে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ ব্যবহার খুব ভয়ানক একটি ধারণা। আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই একটি চক্র অনুসরণ করে চলে যা আমাদের সতর্ক রাখে, দিনের বেলায় জেগে থাকতে সহায়তা করে ও রাতের বেলা প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে সহায়তা করে। কিন্তু যখন ঘুমের প্রস্তুতির সময় যখন আপনি স্ক্রিনে চোখ রাখেন তখন মস্তিষ্ক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্ত হয়। স্ক্রিনে থেকে নির্গত নীল আলোর সঙ্গে সকালের সূর্যের আলোর অনুরুপ প্রভাব রয়েছে, যা মস্তিষ্কে মেলাটোনিন উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এটি এমন একটি হরমোন যা শরীরকে সময়মতো ঘুমাতে ইঙ্গিত দেয়। স্মার্টফোনের স্ক্রিনের আলো মেলাটোনিন উৎপাদন ব্যাহত করে স্বাভাবিক ঘুম চক্র নষ্ট করে দেয়। মেলাটোনিন মাত্রা পরিবর্তনের ফলে মানুষের দেহঘড়ির সময়ের হিসেবে গণ্ডগোল হয়। ফলে বিষণ্ণতাসহ নানা মানসিক সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা বেড়ে যায়। অনিদ্রার অভ্যাস হয় এবং যা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোনের নীল আলো চোখের রেটিনার ক্ষতি করে। এ নীল আলোতে বেশি সময় থাকলে তা চোখের ‘সেন্ট্রাল ভিশন’ নষ্ট করতে পারে। এক্ষেত্রে চোখের কাছে নিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। প্রোস্টেট ও ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়ায়। নিচের ছবি থেকে দেখে নিন স্মার্টফোনের স্ক্রিনের আলো যেভাবে শরীর ও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে তথ্যসূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

  • আবারও চালু হবে সিটিসেল

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: সিটিসেলকে দ্রুত তরঙ্গ বরাদ্দ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সিটসেলকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে ১’শ কোটি টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে সিটিসেলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর সিটিসেল বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হয়নি এই অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার সিটিসেলের কার্যক্রম (তরঙ্গ) স্থগিত করে দেন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

  • ই-মেইল প্রতারণায় সর্বনাশ!

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: ভারতের পুনে শহরের এক ব্যবসায়ী ই-মেইল প্রতারণার শিকার হয়ে ১৪ কোটি রুপি খুইয়েছেন। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পুনে শহরের পুলিশ ও সাইবার অপরাধ বিভাগে এ ধরনের ১৬টি মামলা হয়েছে। এ ঘটনাগুলোতে মোট ১৪ কোটি ৪৭ লাখ রুপি খুইয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি পুনের ওই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার কাছ থেকে ই-মেইল প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে টিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুনের ওই ব্যবসায়ী জার্মানিভিত্তিক একটি কোম্পানির কাছ থেকে কিছু যন্ত্র কেনার জন্য ই-মেইল চালাচালি করেছিলেন। পারস্পরিক চুক্তিতে পৌঁছানোর পর ওই ব্যবসায়ী জার্মান কোম্পানির কাছ থেকে দ্রুত অর্থ পরিশোধের একটি মেইল পান। ওই মেইলের মধ্যে বিস্তারিত সবকিছু ঠিক ছিল। সেখানে থাকা একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৮২ লাখ রুপি অর্থ পাঠান ওই ব্যবসায়ী। পরে তিনি দ্রুত প্রতারণার বিষয়টি ধরতে পারেন। কারণ, মূল প্রতিষ্ঠান অর্থ না পাওয়ার কথা জানায়। সব মেইল আবার ভালোভাবে পরীক্ষা করে তিনি দেখেন, প্রায় আসল ই–মেইল ঠিকানার মতোই আরেকটি ই–মেইলের মাধ্যমে তাঁকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন। তদন্ত করে দেখা যায়, ওই অর্থ পোল্যান্ড হয়ে নাইজেরিয়ার একটি অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। এ ধরনের ঘটনাগুলোকে বলা হয় ‘ই-মেইল স্পুফিং’। এর মাধ্যমে আসল ই-মেইল ঠিকানাকে এমনভাবে কাজে লাগানো হয়, যাতে মেইল সেখান থেকে এসেছে বলেই মনে হয়। কিন্তু আসলে এর পেছনে কাজ করে সাইবার দুর্বৃত্তরা। সাধারণত প্রতারণার জন্যই এ ধরনের মেইল ব্যবহার করা হয়। ভারতের সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, মেইল প্রতারণার শিকার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক ব্যবসা থেকে আরেক ব্যবসা বা ‘বিজনেস টু বিজনেস’–এর ক্ষেত্রে বেশি হয়। আসল ই-মেইল আইডির চেয়ে এ ধরনের আইডিতে খুব সামান্য পরিবর্তন থাকে, যা খুঁটিয়ে খেয়াল না করলে ধরা কঠিন। তবে অর্থ হাতিয়ে নিতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর পরিবর্তন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এ ধরনের নিখুঁত মেইল তৈরির ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখান থেকে তথ্য ব্যবহার করতে পারে দুর্বৃত্তরা। তথ্যসূত্র: টিএনএন

বিনোদন

Back to Top

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top