• dpcnews24.com এর অফিস পরিবর্তন

    dpcnews24.com online পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সাংবাদিক , কলাকেীশলী ও শুভাকাক্ষীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, গুলিস্থান শপিং কমপ্লেেক্্রের ৮ম তলা, রুম নং-৭/৩৯, ২ বিবি এভিনিউ, ঢাকা-১০০০, এ অফিসপরিবর্তন করা হয়েছিলো। কিন্তু অফিসের স্পেস কম হওয়ায় ও স্থান সংকুলন না হওয়ায় উক্ত অফিস আবারও পরিবর্তন কওে বর্তমানে বড় অফিস ও প্রোডাকশন হাউজ করা হয়েছে। মিতালী মার্কেট, ভবন নং-৮, ২য় তলা, সাইনবোর্ড, সিদ্দিরগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ। dpcnews24.com এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আগামী ১লা জানুয়ারী-২০১৭ইং তারিখ থেকে মিতালী মার্কেট, ভবন নং-৮, ২য় তলার ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। আদেশক্রমে কাজী ফরিদ আহমেদ Editor & CEO dpcnews24.com Phone: 01964229099

  • New Delhi mission launches special Victory Day publication

    Bangladesh High Commission New Delhi, India Date: Tuesday, December 27, 2016 Headline: New Delhi mission launches special Victory Day publication New Delhi, Dec. 27: - Bangladesh High Commission in New Delhi has unveiled a coffee table book (ctb) to mark the Victory Day-2016. Bangladesh High Commissioner to India Syed Muazzem Ali launched the 98-page CTB at a simple ceremony at the conference room of the chancery on Tuesday. He was flanked by officers of the mission. The publication contains write-ups _ illustrated with photos _ on Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, the history of 1971 War of Liberation, Bangabandhu Memorial Museum, Prime Minister Sheikh Hasina, a national icon and global player, ten special initiatives launched by the prime minister and Bangladesh’s enviable achievements in women empowerment, social security and international cricket. The CTB also has articles on Bangladesh’s heritage and culture, the investment opportunities for foreign companies, the tourism attractions among others. Syed Muazzem Ali said the publication has highlighted Bangladesh’s glorious past, shining present and bright future. He thanked the mission’s press wing for its work in bringing out the “excellent book.”

  • Bangladesh High Commission pays homage to martyrs to mark the Victory Day

    Bangladesh High Commission New Delhi, India PRESS RELEASE New Delhi, Dec. 17:- The Bangladesh High Commission here celebrated the 45th anniversary of the Victory Day on Friday paying homage to the martyrs of the 1971 War of Liberation and Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman under whose leader Bangladesh gained independence after nine-month war against Pakistan. The day’s events were marked by hoisting of national flag at the chancery compound, reading out of Victory Day messages from President Md. Abdul Hamid, Prime Minister Sheikh Hasina, Foreign Minister Abul Hassan Mahmood Ali M.P. and State Minister for Foreign Affairs Md. Shahriar Alam M.P., offering special prayer seeking divine blessings for the martyrs of the Liberation War and Bangabandhu and his family members killed along with him on the tragic night of August 15 in 1975. Acting High Commissioner Salahuddin Noman Chiwdhury, accompanied by officers at the mission, hoisted the national flag as the national anthem was played. A cultural function, presented in the evening by the students and teachers of Dhaka’s Govt. Music College, at the Maitree Hall of the mission enthralled the audience that included Housing and Public Works Minister Mosharraf Hossain, Disaster Management and Relief Minister Mofazzal Hossain Chowdhury Maya, war veterans, foreign diplomats, academics, journalists and family members of the mission’s officers and officials. Moshararraf Hossain and Maya, both valiant freedom fighters, narrated how heroic was the MuktiBahini’s fight against the occupation Pakistani military, equipped with most modern and sophisticated war machines. Welcoming the guests the Salahuddin Noman fondly remembered the supreme sacrifices the freedom fighters had made at the call of Bangabandhu Sheikh Mujib against the brutal Pakistani soldiers who carried out one of the history’s worst genocide killing three million unarmed civilians. He said Bangladesh remains grateful to India and its citizens for extending military, economic, diplomatic and moral support to Bangladesh’s War of Liberation. Officers of the mission also attended a seminar on Bangladesh liberation war organized by India Foundation in association with War Veterans Association, Babu Jagjivan Ram Trust and Nehru Memorial Trust at Nehru Memorial Museum in the morning. Mofazzal Hossain Maya, BirBikram spoke at the seminar as chief guest, while Indian State Minister for External Affairs V. K. Singh was the special guest. Indian and Bangladeshi veterans of the 1971 liberation war, including Lt. Col. (Retd) Quazi Sajjad Ali Zahir BirProtik, reminisced their battle days and how the war ended with the surrender of 93,000 Pakistani soldiers in Dhaka on December 16, 1971.

  • বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এদেশে ১০ বছর কারফিউ ছিল

    যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কারফিউ দিয়ে দেশ চালাতো তাদের মুখেই আজ গণতন্ত্রের বুলি, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বলতে গেলে ১০টা বছর এদেশে কারফিউ ছিল সারারাত। তিনি বলেন, সেসময় ‘পাকিস্তানি হানাদার’ বাহিনী বলা যেতো না। বলতে হতো শুধু হানাদার। কিন্তু কারা সে হানাদার? নতুন প্রজন্মকে এসব জানতে দেওয়া হতো না। তখন সব দোষ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগকে। সেসময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও দেওয়া যেতো না। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এ জাতির ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা হয়েছে। একটি জাতি যখন ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতি সামনে এগোবে কী করে! এ সময় তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ঘাতকদের যারা লালন-পালন করেছেন তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে শুরু করতে হবে। স্বজনহারা বেদনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে বাঙালির জন্য আমার বাবা এতো কিছু করলেন, সে বাঙালি কী করে তার বুকে গুলি চালালো! সপরিবারে হত্যা করা হলো। আজও বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে ধানমন্ডির দোতালার সিঁড়ির কাছে গিয়ে বসি।

  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুব মৈত্রীর প্রতিরোধের ঘোষণা

    বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর জাতীয় পরিষদ সভা আজ দুপুর ২.৩০টায় তোপখানাস্থ শহীদ আসাদ মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা আলমগীর রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পরিষদ সভায় সদ্য প্রয়াত কিউবার মহান বিপ্লবী ও প্রেসিডেন্ট কমরেড ফিদেল ক্যাস্ত্রো, কবি সৈয়দ শামসুল হক, সামাজিক আন্দোলনের নেতা অজয় রায়, সাবেক ছাত্রনেতা মহাবুবুল হক শাকিলসহ বিভিন্ন সময় বিশিষ্টজন যারা প্রয়াত হয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। জাতীয় পরিষদ সভায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জাতীয় পরিষদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, সহসভাপতি টিপু সুলতান এমপি, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, এম এ সাঈদ, আনিসুর রহমান মিথুন, মুর্শিদা আখতার ডেইজী, সহ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তপন, আব্দুল আহাদ মিনার, রফিকুল ইসলাম সুজন, মনিরুদ্দিন পান্না, অরুণ কুমার ঘোষ তরুন, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী মাহমুদুল হক সেনা, রাশেদ খান মেনন, ভবেশ রায়, রেজওয়ান রাজা প্রমুখ। রোহিঙ্গা ইস্যু আমাদের দেশের জন্য হুমকি। মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি উল্লেখ করার কথা হলেও বিষয়টি অবশ্যই মানবিক কিন্তু তার চেয়েও বেশি রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক। অতীতে এবং বর্তমানে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের উপর যেভাবে অত্যাচার করছে তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের বর্বর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে এবং রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে নিরসন করতে এবং রোহিঙ্গাদের সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা প্রদান করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিরসনে বিশ্বব্যাপী মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য জাতীয় পরিষদ মনে করে। সাধারণভাবে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদকে কিছুটা পিছু হটছে বলে মনে হলেও আসলে মোটেও তাই না। বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানাতে পারছি বিভিন্ন পরিবারের শিক্ষার্থী নিখোঁজ হচ্ছে। যা কোন প্রকার শুভ লক্ষণ নয়। তদন্তের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে এই সকল নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদের দিক্ষায় দিক্ষিত হয়ে জঙ্গিবাদে পথে পাড়ি জমাচ্ছে। দুর্নীতি ও দলীয়করণ আজ মহামারিতে পরিণত হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রশাসন ও সর্বস্তরে দুর্নীতির আগ্রাসন লক্ষ করার মতো। উন্নয়নের গতি যেভাবে হচ্ছে সেইভাবে পাল্লা দিয়ে চলছে দুর্নীতি। সেই দুর্নীতির কারণে দেশের প্রবৃদ্ধির প্রায় হারে কমে যাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুব মৈত্রীকে সর্বাত্মক লড়াই ঘোষণা ও অব্যাহত রাখতে হবে বলে যুব মৈত্রীর জাতীয় পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সা¤্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার মিত্রদের আমাদের দেশের রাজনীতির মধ্যে নাক গলানো ও হস্তক্ষেপ ষড়যন্ত্র চলমান সেই দিকে নজর রেখে দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা এগিয়ে নিতে আমাদের সংগঠিত ও সক্রিয় থাকা জরুরি। জাতীয় পরিষদ সভা থেকে আগামী ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৭ম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ পুনর্নিধারণ করা হয় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আগামী ৬ জানুয়ারি ২০১৬ ঢাকায় এবং ৭ জানুয়ারি দেশব্যাপী “দুর্নীতি মুক্ত চাকুরি চাই” “প্রশাসনের সর্বস্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোল” উপরোক্ত দাবিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার করা হয়। নাসির নগরের সংগঠিত হিন্দু ধর্মালম্বীদের উপর হামলার সাথে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে বিচার ও গোবিন্দগঞ্জের আদিবাসীদের হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে জাতীয় পরিষদ সভা। রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। জাতীয় পরিষদ মনে করে বিদ্যুৎ যেমন প্রয়োজন ঠিক তেমনিভাবে সুন্দরবন রক্ষায় সরকারকে যতœবান হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সুন্দরবন রক্ষায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব ন্যূনতম ২০-৩০ কিলোমিটার রেখেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে পারে। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কর্তব্য বলে যুব মৈত্রী মনে করে। নারী নির্যাতন ও মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সংগঠন এবং সংগ্রাম গড়ে তোলার জন্য জাতীয় পরিষদ সভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

  • মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহঙ্কার

    বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ বিশ্ব ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় স্বাতন্ত্র্যে ভরপুর। এই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহঙ্কার। এই মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা নিজের জীবন বাজি রেখে শত্রু মোকাবেলা করেছেন তারা যুগ যুগ ধরে আমাদের হৃদয়ে মর্যাদার আসনে স্থান করে রেখেছেন। এই মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া এক অসম সাহসী বীর একজন সাধারণ পরিবারের ছেলে। নাম তার রুহুল। মা আদর করে তার নাম দিয়েছেন রুহুল। মা জুলেখা খাতুন বাবা আজহার পাটোয়ারি মিঞা ছোট কাল হতে রুহুলের ভিতর এক অসামান্য প্রতিভা দেখতে পেয়েছিলেন। সবার সাথে তার ছেলেটি অনায়াসে মিশে যেতে পারতেন। অকৃত্রিম বন্ধুবৎসল, সদা হাসিমুঝখ, মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ইত্যাদি চরিত্রের অধিকারি ছিলেন রুহুল। নিজের সহজ-সরল স্বভাব দিয়ে যে কোন আড্ডার মধ্যমণী হতে সময় নেন না পলকমাত্র। এমনি চরিত্রের অধিকারি রুহুলের আচরণ দেখে বাবা তাকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী ছিলেন। গ্রামের কোন মানুষের কোন সমস্যায় সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। কোন দ্বিধা ছিল না তার। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর প্রারম্ভেই রুহুলের জীবনে এক বড় সংকট তৈরি হয়। তার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী জাকিয়া ছোট ছোট ছয় সন্তান রেখে এ পৃথিবী হতে বিদায় নেয়। সংসারে আরো চার বোন ২ ভাই, মা-বাবা। এত কিছুর পরও রুহুল মা-মাটি দেশের কথা ভেবে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। বাবার যুদ্ধে যাওয়ার কথা শুনে ১০ বছর বয়সের মেয়ে নারগীছ কান্না-কাটি শুরু করে। ছোট ছোট ভাইবোনগুলোকে কে দেখবে কি হবে তাদের এ সকল চিন্তা করে নারগীছ প্রায় দিশেহারা। বাবা রুহুল মেয়েকে সারা জীবনের একটা দিক নির্দেশনা দিলেন। বসে বসে অনেক বুঝালেন। কঠিন ও কঠোর এ পিতা বোঝালেন কিন্তু নিজে বুঝলেন না। কি অসহায় করে যাচ্ছেন এই পরিবারটিকে। তার যাওয়া যে পরিবারটিকে শেষ করে দেয়া এক মুহুর্তের জন্য তিনি ভাবলেন না। মা জুলেখা খাতুন ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল। ছেলের এহেন সিদ্ধান্ত মা মেনে নিতে পারেন নি। আবার এই দুর্দিনে দেশের কাজে আসবে। দেশ মাতৃকার সেবা এই পুত্র যে তার কত যোগ্য একমাত্র তিনিই জানেন। কঠিন করে নিষেধ করতে পারলেন না। শুধু বললেন- ‘তোর মা-হারা এই সন্তানগুলোকে কে দেখবে বাবা, তুই কেন চলে যাইতেছস, তুই যাসনে বাবা’। মায়ের আকুতি, বাবার নিষেধ, সন্তানের আহাজারি সব কিছুকে পিছনে ফেলে পুত্র রুহুল একটি কথাই বললেন- মা আমার জন্য চিন্তা করো না, আমি মরলে যে দাম এবং বাঁচলেও আমার দাম তেমনি থাকবে। যে দেশের জন্য আমি জীবন দিতে যাচ্ছি সে দেশ আমার সন্তান ও আমার পরিবারকে দেখবে। তুমি ভেবো না মা”। রুহুল জীবীত কালীন যে কথা বলেছে সত্যিই বাস্তবে সেটি হয়েছে। এই মা জুলেখা খাতুনকে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে ঢাকায় নিয়ে যান এবং তার হাতে তার পুত্রের ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ সন্মাননা সার্টিফিকেট তুলে দেন এবং মারা যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সম্মানে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মা জুরেখা যে রাস্তা দিয়ে রুহুল চলে গিয়েছেন তার পানে সব সময় চেয়ে থাকতেন। রুহুলের শহীদ হওয়ার খবর পেয়ে বাবা আজহার তৎক্ষণাৎ বুকে হাত দিয়ে বিছানা পড়ে যান এবং মৃত্যুমুখে পতিত হন। অনাদরে অবহেলায় তার ছোট সন্তানটি মারা যায়। “এক পা নেই, দু হাতে দুটো ক্রাচ ধরে আস্তে আস্তে একজন মানুষ বাড়িতে প্রবেশ করল। তখন ঘরময় বাতাসে পর্দাগুলো উড়ছে। জানালার ফাঁক দিয়ে মানুষটি ভিতরে উঁকি দিয়ে দেখল ভেতরের মানুষগুলো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এরা তো সবাই ভালোই আছে। ঘুমন্ত মানুষগুলোকে দেখেই মানুষটি বুঝল এদের কাছে আমার প্রয়োজন নেই’। মানুষটি যেমন করে এলো ঠিক তেমনি করে আবার চলেও গেলো”। এই মানুষটি আর কেউ নয়। আমাদের বাবা। আমাদের জন্মদাতা বাবা। এই স্বপ্নটা দেখি এই জন্য যে আমরা কখনও বাবার লাশটি দেখিনি। সুপ্ত মনে সদা জাগরুক হয়ে আছে- বাবা আমার আছে, বেঁচে আছে। আমাদের সব কর্মকা- আমার বাবা দেখতে পাচ্ছেন। আমাদের চারপাশেই আমার বাবা সর্বদা বিচরণ করছেন। অনেক বড় বিপদে কেমন করে যেন রেহাই পেয়ে যাই। মনে হয় আমার বাবা আমাকে বিপদ হতে উদ্ধার করছেন। অনেক বড় সমস্যা দুই/তিন দিন ভাবছি। হঠাৎ একটা সমাধান হয়। জীবনে চলার পথে বাবার অভাব যে কি রকম অনুভব করেছি তা একমাত্র আমাদের পরিবারটিই বুঝতে পেরেছে। ১৯৭১ সালে বাবা ঘর ছেড়ে গেছেন। পেছনে রেখে গিয়েছেন মা হারা ছয় সন্তান অবিবাহিত বোন, কর্মহীন ভাই ও মা-বাবা। এ পরিবারটি দেখার কেউ ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা অনেক অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। আমার নানা আজহার মিঞা এবং নানী ছালেহা খাতুন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের সহযোগিতা করেন। অনেক সময় ভাবি আমার বাবার এভাবে যাওয়া উচিত হয়নি। একজন সাধারণ মা-বাবার সন্তান হয়ে কিভাবে একজন মানুষ এত অসাধারণ হতে পারে? পৃথিবীতে কেউ অবিনশ্বর নহে। জন্মিলে মরিতে হবে। আমার বাবার মৃত্যু আমাদের চলার পথ অনেক কণ্টকাকীর্ণ করলেও এ ভেবে সুখ পাই যে, আমার বাবা কোন সাধারণ ব্যক্তি নয়। বিশ্বের যে কোন দেশে আমার বাবাকে এক নামে চিনে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমীন। বিনা চিকিৎসায় আমার ছোট ভাই মানসিক ভাবে অসুস্থ, বড় ভাই মো. আলী এ পৃথিবীতে নেই। আমরা তথা আমাদের পরিবারটি এত বেশি কষ্টের মধ্যে ছিলাম যে, কখনো খেয়ে কখনো না খেয়ে জীবনাতিপাত করেছি। এক সময় নৌবাহিনী থেকেই বলছিল এদের কোন অভিভাবক যেহেতু নেই এদের এতিমখানায় পাঠিয়ে দেয়া হোক। শহিদ পরিবার হওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হওয়ায় ৭৫ পরবর্তী সময়ে আমরা অনেকটা লুকিয়ে জীবনযাপন করতে হত। বার বার আমাদের পরিবারের প্রতি আঘাত আসার পরও বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের পুরো পরিবার ছিল/আছি/থাকব চিরকাল আস্থাশীল বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি বলেই ২০০৯ সালে আমাদের পুরো পরিবারটিকে ভাতের সাথে বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলতে চেয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী শক্তিরা। বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আজাদীসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এটি ছাপিয়েছিল। বাংলাদেশ নৌবাহিনী যদি তড়িৎ ব্যবস্থা না গ্রহণ করত তাহলে পরিবারের প্রায় সদস্য সেদিন মৃত্যুমুখে পতিত হত। নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত এই বীর পরিবারটি। সেই ১৯৭১ সালের ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো আমাদের সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে কোন সময় তাদের কালো থাবা আমার বাবাদের মত দেশ প্রেমিকদের কে শেষ করছেই তাদের পরিবারকে পর্যন্ত রেহাই দেয় নি। আমি ব্যক্তি পর্যায়ে কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার বাবার নামে নোয়াখালী জেলার শহীদ রুহুল আমিন উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেটি আমাদের পরিবার হতেই প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়াতে উত্তর পোমরা উচ্চ বিদ্যালয় টি আমার বাবার নামে প্রথম নামকরণ করা হলেও প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারনে পরবর্তীতে সেটি স্থানীয় জায়গার নামে নামকরণ করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখা করি, কিন্তু তিন যাদের নির্দেশ প্রদান করেন তারা তা রাখেন নি। বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ৬০০ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে। প্রথমে আমার স্বামীর দেয়া খরচে শিক্ষকদের বেতন দেয়া হলেও পরবর্তীতে স্কুলটি এমপিওভুক্তি হয়। দেশের সেবা, দেশের মানুষের সেবা করাই হচ্ছে আমি এবং আমাদের পুরো পরিবারের উদ্দেশ্য। জীবনে দেশ সেবা করার যদি কোন সুযোগ পাই তাহলে বঙ্গবন্ধু আদর্শে ভরা সোনার বাংলা গঠন কল্পে জীবন বিসর্জন দিতে কুণ্ঠাবোধ করব না। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যাকে একবার সেনাকুঞ্জে প্রশ্ন করেছিলাম - আপা আপনি ঢাকা থেকে সব মহিলা সাংসদ নির্বাচন করেছেন, যারা কখনও গ্রামে যাবেনা, আপনি চট্টগ্রামে মাত্র দু’জন মহিলা সাংসদ নিয়েছেন। ’ আমার নেত্রী আপা তার মিষ্টি হাসি দিয়ে আমাকে বলেছিলেন - তোমার বয়স এখন কম। পরের বার তোমার কথা ভেবে দেখব। আমি আমার আপার কথায় আশাবাদী। দেশের উপকারে যেন নিজেকে বিসর্জন দিতে পারি সে সুবর্ণ অপেক্ষায় আছি এবং থাকব। আজ ১০ই ডিসেম্বর। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন রূপসার বুকে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন বীরের মত। দেশ মাতৃকার জন্য, পরিবার, সন্তান, মাতা-পিতা, ভাই-বোন কাউকে মনে স্থান দেননি। দেশকে সবার উপরে তুলে ধরেছেন। যেখানে নিপুন সাঁতারু এই বাবা আমার অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারতেন কিন্তু সেখানে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে জাহাজকে রক্ষা করার জন্য শেষ পর্যন্ত শত্রু অভিমুখে কামান চালিয়ে গেছেন এবং নিজেকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এই বীর বাবাকে মাথা নিচু করে স্যালুট করি। সাথে সাথে শ্রদ্ধা জানাই আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে যিনি এই বীরকে তার যোগ্য সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ পদকে ভূষিত করেছেন। এই অভিসাংবাদিত বিশ্ব নেতাকে আন্তরিকভাবে সালাম জানাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা তৃণমূলে যে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের শহীদ পরিবারদের যারা কখনও জাতীয়ভাবে মূল্যায়িত হয়নি তাদেরকে তিনি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং মূল্যায়ন করেছেন। আশার কথা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি ওয়েভ সাইট করা হচ্ছে যেখানে সব ধরণের মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি রক্ষিত থাকবে। তাদের সব ধরনের সমস্যা গুলো একটি ফিতায় আবদ্ধ করা হবে। যেখানে মুক্তিযোদ্ধা মানেই গরীব, মুক্তিযোদ্ধা মানেই গৃহহীন এই ধারণাটা বদলে যাবে। যার ডাকে সাড়া দিয়ে এ সকল মুক্তিযোদ্ধারা সব হারিয়েছে, তার সুযোগ্য কন্যা এ সকল মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ণ করছেন এবং ভবিস্যতেও করবেন এটা আশা করি। এই কাজগুলো করার জন্য আমাদের দেশনেত্রীকে আল্লাহ্ যেন সুষ্ঠ রাখেন, দেশদ্রোহীদের কুনজর থেকে রক্ষা করেন সব সময় এই দোয়া করি। আজ ১০ই ডিসেম্বর দিবসকে সামনে রেখে সকলের কাছে একটিই আহবান এ বীর যে উদ্দেশ্য নিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন সে উদ্দেশ্যকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে সদা প্রস্তুত থাকব। এ বীরের কীর্তি সদা জাগরুক রবে আজীবন। আমরা সকলে এ বীর এবং তার পরিবারের জন্য দোয়া ও মঙ্গল কামনা করি।

  • ঐতিহ্যের ধারক টাকা জাদুঘর

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: মুদ্রা একটি দেশের পরিচয় বহন করে। বিনিময়ের প্রধান উপকরণ মুদ্রা। মুদ্রার গুরুত্ব কতখানি তা বোধকরি দোকানে লজেন্স কিনতে চাওয়া ছোট্ট ছেলেটিও বুঝতে পারে। তাই তো যুগে যুগে প্রতিটি রাষ্ট্রই তার নিজস্ব মুদ্রাব্যবস্থা চালু করেছে এবং তা সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছে। শুধু কি তাই, প্রতিটি দেশের মুদ্রার মাঝে ছাপাঙ্কিত থাকে সেই দেশের জাতীয় বৈশিষ্ট্য। একটি জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও বোঝা যায় মুদ্রায় অঙ্কিত বিষয়াবলি থেকে। সেসব চিন্তা থেকেই বাংলাদেশেও এখন আছে আধুনিক একটি টাকা জাদুঘর। ২০১৩ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠিত হয় টাকা জাদুঘর। ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সের একটি অংশে গড়ে তোলা হয় জাদুঘরটি। এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম টাকা জাদুঘর। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রাব্যবস্থা। যুগভেদে তাদের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও বিকাশ সম্পর্কে জানানোর উদ্দেশ্যেই মূলত এ উদ্যোগটি নেয়া হয়েছিল। মিরপুর ২ নম্বরে মেইন রোডেই বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্স। দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্সটির টাকা জাদুঘর অংশের ভবনটির বাইরের দশা কিছুটা ভগ্নপ্রায় হলেও ভেতরে ঢুকেই মন ভালো হতে বাধ্য। ভবনের বাইরের দেয়ালে প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য অসাধারণ টেরাকোটার ম্যুরালে চোখ আটকে যাবেই। ভেতরে ঢুকে আরো একবার চমক লাগবে। কারণ, সচরাচর বাংলাদেশের জাদুঘর বলতে সাধারণের সামনে যে দৃশ্যপট ভেসে ওঠে, তা পুরোই পাল্টে যাবে এখানে এলে। আধুনিক দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক মানে সমৃদ্ধ একটি জাদুঘর। দু’টি গ্যালারিতে বিভক্ত করে সাজানো হয়েছে জাদুঘরটি। গ্যালারি ১-এ শুরুতেই রয়েছে এ উপমহাদেশের একদম প্রাচীন যুগগুলোর মুদ্রা। বঙ্গভূমির সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আজ অবধি সব মুদ্রারই সংগ্রহ রয়েছে জাদুঘরে। অনেক দুর্লভ সংগ্রহ জাদুঘরটিকে সমৃদ্ধ করেছে। এমনকি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রের মুদ্রার সংগ্রহও আছে। প্রাচীন যুগের বিনিময় মাধ্যম কড়িও স্থান পেয়েছে মুদ্রা জাদুঘরের শোকেসে। রুপার তৈরি ছোট্ট মুদ্রাগুলো আলো পড়ে চকচক করছে। কিছু কিছু তো কালের পরিক্রমায় কালচেই হয়ে গেছে। তবুও এক ধরনের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। মোগল আমলের স্বর্ণমুদ্রাগুলো তো এখনো ঝলমল করছে। এ যেন দিব্যচোখে রাজকোষের ধনভাণ্ডার দেখা। আর কড়িগুলো দেখলেই কেমন যেন লাগে। বহু বছর আগে মানুষ এগুলো ব্যবহার করেছে। আজকের যুগে বসে ভাবা যায়, কড়ি দিয়ে ফাস্টফুড কেনার কথা! তারপর আরো রয়েছে ছাপা নোট। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল ও পরবর্তী বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের নোটগুলো। নিকেল তামার পয়সা। এক পয়সা, দুই পয়সা দেখে যে কারো ছোট্টবেলার কথা মনে পড়বে। এ ছাড়া অতীতকালের গ্রামীণ পরিবেশও ডিওরোমা (মাটির মডেল) তৈরি করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গ্রামীণ বাজারব্যবস্থা, ব্যাংক প্রচলন, বিকিকিনি। রয়েছে মুদ্রা সংরক্ষণের আধার, পদ্ধতি, মুদ্রার সিল ও সুতা। এক কথায় যে কেউ মুদ্রাবিশেষজ্ঞ হয়ে গেলে অত্যুক্তি হবে না। গ্যালারি ২-তে স্থান পেয়েছে আন্তর্জতিক মুদ্রা। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের মুদ্রা। আরো আছে স্মারক মুদ্রা। বিভিন্ন উপলক্ষে স্মারক মুদ্রা বা নোটের কালেকশন দেখতে পাবেন। তবে এ গ্যালারির সবচেয়ে বড় চমক হলো ফটোকিয়স্ক। গ্যালারির এক কোণে ছোট করে একটি স্টুডিও। তাতে মুদ্রা ছাপানো হয়! তাও যে সে মূল্যমান নয়, পুরো এক লাখ টাকার নোট! সে নোটে আবার আপনার ছবিও ছাপিয়ে নিতে পারেন। এ জন্য আপনাকে গুনতে হবে মাত্র ৫০ টাকা। তবে হ্যাঁ, নোটটি কিন্তু স্মারক। বিনিময়যোগ্য নয়। আরেকটি ব্যাপার না বললেই নয়, জাদুঘর কর্তৃপক্ষের শিষ্টাচার। আর প্রতিটি মুদ্রার পাশেই মুদ্রার ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কখন, কোথায় পাওয়া গেছে; তাও লেখা রয়েছে। জাদুঘরের সংগ্রহটি কোথা থেকে হয়েছে তা যেমন উল্লেখ করা আছে তেমনি অনেক ব্যক্তিগত সংগ্রহ থাকায় দানকারী সংগ্রাহকের নামটিও সম্মানপূর্বক লিখে দেয়া হয়েছে। সেটি মাত্র একটি পয়সা হলেও। কর্তৃপক্ষ জানালেন, চাইলে এখনো যে কেউ তার ব্যক্তিগত সংগ্রহটি দান করতে পারেন জাদুঘরকে। মিরপুর ১ নম্বর থেকে বড় ভাইয়ের সাথে ছোট্ট রিদোয়ান এসেছিল মুদ্রার ভাণ্ডার দেখতে। মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস ফোরে পড়ে সে। বলল, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জমানোর শখ রয়েছে তার। এ রকম অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসেন। তবে স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরাই বেশি আগ্রহী। প্রতিদিনই প্রায় দুই-আড়াই শ’ দর্শনার্থী আসেন। কথা হয় জাদুঘরের প্রধান গাইড মো: আবু আল হাসানের সাথে। তিনি বললেন, জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যই হলো বাংলার প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের মুদ্রার ইতিহাস, বিবর্তন ইত্যাদি সম্পর্কে মানুষকে জানানো। আগ্রহী করে তোলা। শুরু থেকেই চেষ্টা ছিল গতানুগতিক ধারার বাইরে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ডিজিটাল জাদুঘর করা। তা ছাড়া যেহেতু এটি একটি সাবজেক্টিভ জাদুঘর এবং এর সাথে প্রতœতাত্ত্বিক বিষয়টিও জড়িত, যা বেশির ভাগ মানুষের বুঝের বাইরে। তাই আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি সাধারণের বোধগম্য করে, সহজ করে উপস্থাপন করার। এলইডি টিভি, থ্রিজি, প্রজেক্টর, ডিজিটাল সাইনেজ অডিও গাইড ইত্যাদি পদ্ধতির সাহায্যে সাজানো হয়েছে। আরো বেশি কিছু জানতে আগ্রহীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তথ্য জানতে পারবেন। আরো জানালেন, জাদুঘরটির আয়তন বর্তমানে ছয় হাজার বর্গফুট। একটি স্যুভেনির শপও আছে। আরো বৃহৎ পরিসরে তৃতীয় তলায় পরিবর্ধনের পরিকল্পনা থাকলেও শিগগিরই হয়তো সেটা হচ্ছে না বিভিন্ন জটিলতায়। তবে এখনো যা আছে, তাও কিন্তু কম নয়। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য সব দিনই জাদুঘর খোলা থাকে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। সাপ্তাহিক বন্ধ বৃহস্পতিবার। জাদুঘরে কোনো প্রবেশ ফি নেই। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নাম, যোগাযোগের ঠিকানা, ফোন নম্বর এন্ট্রি করেই আপনাকে ঢুকতে হবে। বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্যের অসাধারণ এক নিদর্শন দেখতে ও জানতে যেতে পারেন টাকা জাদুঘরে।

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top