• কোয়েল কবুতরের পাঁচ পদ

    ভাত বা পরোটার সঙ্গে কোয়েল ও কবুতর খেতে পারেন—এ রকম রেসিপি দিয়েছেন পাবনার রোকসানা রীমা। ছবি মিলন মাহামুদ কবুতরেররোস্ট উপকরণ কবুতর ১ জোড়া, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চামচ, আদা বাটা ১ চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, ধনে বাটা ১ চা চামচ, এলাচ ৬টি, দারচিনি ৬ টুকরা, মরিচ বাটা ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ চিরে নেওয়া ৭ টি, লবণ ১ চা চামচ, সয়াবিন তেল ১ কাপের ৪ ভাগের ৩ ভাগ। যেভাবে তৈরি করবেন ১. ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি ভেজে তাতে একে একে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। ২. মসলা কষানো হলে কবুতরের মাংস দিয়ে নেড়ে ঢেকে কষিয়ে নিন। ৩. মাংস কষানো হলে তাতে সামান্য পানি দিয়ে আবারও ঢেকে দিন। ৪. তেল ওপরে উঠে এলে বুঝতে হবে সিদ্ধ হয়ে গেছে। ৫. এবার নামিয়ে ওপরে একটু বেরেস্তা ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।     কবুতরেরমালাইকারি উপকরণ কবুতর ১ জোড়া, নারিকেলের দুধ ১ কাপ, দুধ ২৫০ লিটার, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, জিরা ভাজা গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ চিরে নেওয়া ৮টি, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ ১ চা চামচ, সয়াবিন তেল ১ কাপ। যেভাবে তৈরি করবেন ১.   কবুতরের সঙ্গে তেল, দুধ, নারিকেলের দুধ, পেঁয়াজ কুচি বাদে সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে ১ ঘণ্টা মেরিনেট করে রেখে দিন। ২.   ১ ঘণ্টা পর পাত্রে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে বাদামি করে ভেজে কিছুটা পেঁয়াজ ভাজা তুলে রাখুন। ৩.   বাকিটার মধ্যে মাখানো মাংসগুলো দিয়ে কষিয়ে নিন। ৪.   মাংস কষানো হলে দুধ আর নারিকেলের দুধ দিয়ে ঢেকে দিন। ৫.   কিছুক্ষণ রান্না করার পর তেল ওপরে উঠে এলে এবং মাংস সিদ্ধ হলে পেঁয়াজ ভাজাটুকু দিয়ে নামিয়ে পোলাও বা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।     কোয়েলললিপপ উপকরণ কোয়েলের মাংসের কিমা ২০০ গ্রাম, কোয়েলের সিদ্ধ ডিম ৬টি, পাউরুটি স্লাইস ২ পিস, কাবাব মসলা ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা আধা চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, লবণ আধা চা চামচ, ভাজা চিনাবাদাম বাটা ২ চা চামচ, ময়দা  আধা কাপ, ডিম ফেটানো ১টি, ব্রেডক্রাম আধা কাপ, ললিপপের জন্য কাঠি কয়েকটি, ফয়েল পেপার ছোট এক পিস, সয়াবিন তেল আধা কাপ। যেভাবে তৈরি করবেন ১.   পাউরুটির স্লাইস পানিতে ভিজিয়ে চিপে পানি বের করে কিমার সঙ্গে মিশিয়ে নিন। ২.   এবার রসুন বাটা, মরিচ বাটা, বাদাম বাটা, লবণ, কাবাব মসলা দিয়ে ভালোভাবে মাখুন। ৩.   ছোট ছোট ভাগ করে বল বানিয়ে তার মধ্যে একটি করে সিদ্ধ কোয়েলের ডিম ভেতরে দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন। ৪.   এবার ময়দায় জড়িয়ে ডিমের গোলায় চুবিয়ে ব্রেডক্রামে জড়িয়ে ডুবোতেলে অল্প আঁচে ভেজে তুলে নিন। ৫.   এখন ললিপপের কাঠিতে গেঁথে ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।     কোয়েলভুনা উপকরণ কোয়েল ২ জোড়া, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, ধনে বাটা ১ চা চামচ, শুকনা মরিচ বাটা ১ চা চামচ, কাঁচা পেঁপে বাটা ২ টেবিল চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ, তেজপাতা ২টি, লবণ আধা চা চামচ, সয়াবিন তেল ৪ টেবিল চামচ। যেভাবে তৈরি করবেন ১. তেল, তেজপাতা আর পেঁয়াজ কুচি বাদে সব উপকরণ একসঙ্গে কোয়েলের সঙ্গে মেখে মেরিনেট করে রেখে দিন। ২. ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে লালচে করে ভেজে তুলে নিন। ৩. এখন ওই তেলে তেজপাতা দিয়ে ভেজে মাখানো কোয়েল দিয়ে ৫ মিনিট কষিয়ে সামান্য পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। ৪. সিদ্ধ হয়ে তেল ওপরে উঠে এলে পেঁয়াজ ভাজাটুকু দিয়ে আরো ৬ মিনিট রান্না করে নামিয়ে ভাত বা পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন।     স্মোকিকোয়েল উপকরণ কোয়েল পাখি  ১ জোড়া, টক দই ২ টেবিল চামচ, আদা বাটা আধা চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ বাটা  ১ টেবিল চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, কাবাব মসলা ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, লবণ ১ চা চামচ, সয়াবিন তেল দেড় কাপ, ঘি ২ চা চামচ, জ্বলন্ত কয়লা ১ টুকরা। যেভাবে তৈরি করবেন ১.   পাত্রে তেল, ঘি আর কয়লা বাদে সব মসলা একসঙ্গে মেখে গোটা কোয়েলের সঙ্গে মেখে ১ ঘণ্টা মেরিনেট করে রেখে দিন। ২.   পাত্রে ২ টেবিল চামচ তেল গরম করে তাতে মাখানো কোয়েল দিয়ে রান্না করুন। ৩.   কোয়েল সিদ্ধ হওয়ার পর মসলার গ্রেভি থেকে কোয়েল তুলে রাখুন। ৪.   এবার ফ্রাইপ্যানে বাকি তেলটুকু দিয়ে কোয়েল লালচে করে ভেজে মসলার গ্রেভির মধ্যে দিয়ে ভালোভাবে মসলার সঙ্গে মেখে নিন। ৫.   একটি ছোট্ট বাটিতে জ্বলন্ত কয়লা দিয়ে তার ওপর ঘি ছড়িয়ে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ১০ মিনিট কোয়েলের পাত্রের মধ্যে দিয়ে ঢেকে রাখুন। ৬.   ১০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে কয়লার বাটি তুলে নিয়ে স্মোকি কোয়েল তুলে গরম গরম পরিবেশন করুন।

  • ভেষজ দাওয়াই

    শত গুণের শতমূলী শতমূলীর ভেষজগুণ জানালেন তিব্বিয়া হাবিবিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হাকিম ফেরদৌস ওয়াহিদ * শারীরিক দুর্বলতা ঘোচাতে কাঁচা মূলের রস ৪ চা চামচ ১ কাপ দুধে পরিমাণমতো চিনিসহ মিশিয়ে সকাল-সন্ধ্যা ১০ দিন সেবনে ভালো ফল পাওয়া যায়। * প্রসূতি মায়েদের স্তন্যধারা কমে গেলে একই নিয়মে ১০-১৫ দিন সেবনে স্তন্যধারা বৃদ্ধি পায়। * আকস্মিকভাবে প্রস্রাবের প্রবাহ কমে গেলে বা বাধাগ্রস্ত হলে ৪ চা চামচ কাঁচা মূলের রস দিনে ৩ বার ১ কাপ পানিতে মিশিয়ে ২ দিন পান করলে মূত্রপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। * রাতকানা রোগীরা কাঁচা পাতা ঘিয়ে ভেজে ২ চা চামচ পরিমাণে সকাল-সন্ধ্যা ১০ দিন পান করলে উপকার পাবেন। * অতিরিক্ত গরম বা পিত্তআধিক্যের কারণে হাত-পা জ্বালাপোড়া করলে কাঁচা মূলের রস ৪ চা চামচ দিনে ৩ বার ২ থেকে ৩ দিন পান করলে সমস্যা থাকবে না। * অপুষ্টিতে ভুগলে ১ চা চামচ শতমূলী গুঁড়া ১ কাপ দুধে মিশিয়ে সামান্য তালমিছরিসহ সকাল-সন্ধ্যায় পান করলে উপকার হবে।

  • রূপচর্চা

    ঠোঁটেরও চাই যত্ন শীতের সময় ঠোঁট ফাটা, কালো হওয়া ও প্রাণহীন দেখানোর মতো সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এর কারণ ও প্রতিকারের উপায় জানিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞ খালেদা পারভীন সিনথিয়া ঠোঁটের ত্বক খুবই নরম ও স্পর্শকাতর। কোনো তেলগ্রন্থি থাকে না। তাই ঠাণ্ডা, গরম, সূর্যরশ্মি, দূষণ সবই ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর। শীতে শরীরের যত্নের মতো ঠোঁটেরও যত্ন নিতে হয়।   কারণ * রোদে দীর্ঘ সময় থাকা, পানিশূন্যতা, রাত জাগা, সঠিক পুষ্টিকর খাবারের অভাবে ঠোঁট ফাটে। * মাত্রাতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা। * দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ানো, ঠোঁটের চামড়া টেনে ওঠানো। এতে ঠোঁটের চামড়া ও নরম মাংসপেশিতে আঘাত লাগে। পরিণামে ঠোঁটে ঠিকভাবে প্রসাধনী বসতে চায় না, ঠোঁটে নানা রকম দাগ দেখা যায়। * শরীরে লবণ, পানি ও ভিটামিন ‘বি’-এর অভাবে ঠোঁট ফ্যাকাশে হয়ে যায়। * ঠোঁট দীর্ঘ সময় শুষ্ক থাকলে অনেকেই বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজান। এমন অভ্যাস যাঁদের রয়েছে, তাঁদের ঠোঁট তুলনামূলকভাবে কালচে হয় বেশি। * ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঠোঁট কালো হয়। শরীরে আয়রনের পরিমাণ খুব বেশি হলেও ঠোঁট কালচে হয়।   রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে ঠোঁট ফ্যাকাশে হয়ে যায়। * খুব বেশি চা-কফি পান করার কারণেও ঠোঁট কালো হয়।   ঘরোয়াযত্ন * নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার এবং কমপক্ষে প্রতিদিন দুই লিটার পানি পান করতে হবে। শরীরে পানিশূন্যতা না থাকলে মুখ, চোখের নিচ ও ঠোঁট উজ্জ্বল দেখাবে।   ভিটামিন, প্রচুর সবুজ শাকসবজি ও ফল  খেতে হবে। * ঠোঁট যাঁদের বেশি শুষ্ক হয়, তাঁরা লিপবাম (এসপিএফ ১৫ বা ২০ যুক্ত) নিয়মিত ব্যবহার করবেন। * ঠোঁটের ওপর মরা চামড়া জমেও দাগ হতে পারে। গোলাপের পাপড়ি বেটে এর সঙ্গে মধু বা চিনি মিশিয়ে হালকা করে মাখুন। এতে ঠোঁটে জমে থাকা মরা চামড়া উঠে যাবে। ঠোঁট দেখাবে উজ্জ্বল। * ধুলা, রোদের তাপ বাঁচিয়ে চলুন। * ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ডায়রিয়া, বেশি ঘেমে যাওয়া, অতিরিক্ত দৈহিক পরিশ্রমের পর দুর্বল লাগলে ওরস্যালাইন খেতে হবে। এতে পানিশূন্যতা দূর হবে। ত্বকের অসুখ যেমন—একজিমা, অ্যালার্জি ইত্যাদির কারণেও ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে। এর জন্য ত্বক বিশেষজ্ঞর চিকিৎসা নিতে হবে। * লিপস্টিক ব্যবহারের পর ঠিকমতো তুলতে হবে। * ঠোঁটের দুই কোনা কালো হয়ে গেলে চালের গুঁড়া পানিতে একটু ভিজিয়ে সেই অংশে মাখুন। এটি স্ক্র্যাবের কাজ করবে। * ঠোঁট শুষ্ক হওয়ার আগে ইমোলিয়েন্ট, পেট্রোলিয়াম জেলি, কোল্ডক্রিম ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। * প্রতিদিন ১০ মিনিট মধু বা দুধের সর লাগিয়ে রাখলেও কালচে ভাব ও ঠোঁট ফাটা কমবে। * ভিটামিন ‘বি’-এর অভাবে ঠোঁট ফেটে যেতে পারে এবং ঠোঁটের কোণে ঘা হতে পারে। এর জন্যও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন।   করণীয় লিপবাম ও চ্যাপস্টিক : ফাটা ঠোঁটের জন্য লিপবাম ও চ্যাপস্টিক ব্যবহার করতে হবে। এটি ঠোঁট কোমল, মসৃণ ও আকর্ষণীয় করতে সাহায্য করে। তবে অতি সুগন্ধি ও রসযুক্ত চ্যাপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো। সাবান : ঠোঁটের ত্বক সংবেদনশীল বলেই মুখের ত্বকে সাবান ব্যবহারের সময় ঠোঁটে যাতে সাবান না লাগে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। ফেসওয়াশও ঠোঁটে লাগানো যাবে না। লিপস্টিক : যথাযথ লিপস্টিকও কিন্তু ঠোঁটের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে। এ ক্ষেত্রে লিপস্টিকের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। ভিটামিনসমৃদ্ধ ও অয়েল বেসড লিপস্টিক শীতে ঠোঁটের জন্য ভালো। টুথপেস্ট : দাঁত মাজার জন্য সাদা রঙের টুথপেস্ট ভালো। এতে ঠোঁটের ক্ষতি হয় না। সূর্যমুখী তেল : সূর্যমুখী তেল ঠোঁটের জন্য খুব ভালো। এটি দিনে কয়েক বার ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ভ্যাসলিন লাগাতে ভুলবেন না।  

  • ঋতু বদলের দিনকাল

    ঋতু বদলের দিনকাল হেমন্তের হিম বাতাস জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। এই সময়টায় বাতাসে জলীয়বাষ্প কমে যাওয়ায় ত্বকের রুক্ষতা, হাত-পা ফাটা, ঠাণ্ডাজ্বরসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। দিনে গরম ও রাতের ঠাণ্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে গিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে । তাই সবারই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এসময়ের কী করনীয় তার পরামর্শ দিয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যাপক আকিকা সুলতানা গোড়ালি ফাটার প্রবণতা থাকলে সপ্তাহে এক দিন পায়ের যত্ন নিন * তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় অনেকেই দিন-রাত ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখেন। বদ্ধ ঘরে জীবাণুর আক্রমণ বেড়ে যায়। দিনের বেলায় দরজা-জানালা খুলে ঘরে যতটা সম্ভব রোদ ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। সন্ধ্যাবেলা ঠাণ্ডা পড়ার আগেই জানালা বন্ধ করে দিন। তবে ঘরের ভেন্টিলেশন যেন ঠিক থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।   * শীতের পোশাক কিংবা লেপ, কাঁথা ব্যবহারের আগে অবশ্যই কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। কম্বল, লেপ বা মোটা কাঁথা যেগুলো সব সময় ধোয়া সম্ভব নয় সেগুলোতে সুতি কাপড়ের কভার ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে কভার ধুয়ে নিলেই হবে। * সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নজর দিন। পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার রাখুন মেন্যুতে। কম তেল ও মসলা দিয়ে সহজপাচ্য খাবার রান্না করুন। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি, ই, জিংক সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। তাই মৌসুমি ফল ও সবজি দৈনিক খাদ্যতালিকায় রাখুন। ভিটামিন ‘সি’যুক্ত টক ফল শরীরে ঠাণ্ডা সমস্যা দূরে করে। * তৃষ্ণা কম লাগে বলে এ সময়ে পানি কম খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। রোগব্যাধি বেড়ে যাওয়ার এটাও একটা কারণ। পিপাসা না পেলেও নিয়ম করে দৈনিক ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। সুস্থ শরীর ও ত্বকের রুক্ষতা দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় পানি পানের পাশাপাশি ঘরে তৈরি তাজা ফলের জুস, লাচ্ছি, ডাবের পানি কিংবা লেবুর শরবত খেতে পারেন। * ঋতু বদলের সময়ে অল্প সর্দি, গলা খুসখুস করে বা নাক বন্ধ হলে ঘরোয়া চিকিৎসা নিতে পারেন। সহনীয় গরম লবণ পানিতে গড়গড়া করুন। হালকা গরম পানি পান এবং বিশ্রাম নিন। নাক বন্ধ হলে একটা বড় পাত্রে ফুটন্ত পানিতে মেন্থল দিয়ে তার ওপর মুখ নিচু করে বড় একটি তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে ভাপ নিন কয়েক মিনিট। দিনে কয়েকবার এভাবে ভাপ নিলে আরাম হবে । অল্প কাশি হলে সকালে ১ চামচ আদার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খান দুই বেলা। * হেমন্তের শুরু থেকেই ত্বকের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। তাই পেট্রোলিয়াম জেলি, লোশন ও ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার শুরু করুন। গত বছরের ব্যবহার্যগুলোর মেয়াদ আছে কি না যাচাই করে নিন। ঠাণ্ডা পড়লেও গোসল বাদ দেবেন না। চাইলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। * শীতে ধুলাবালি বেশি থাকে। তাই প্রতিদিনের ত্বক চর্চায় ক্লিনজিং, টোনিং ও মায়েশ্চারাইজিং—এই তিনটি বেসিক ধাপ অনুসরণ করুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী পণ্য বাছাই করতে হবে। সপ্তাহে দুই দিন ফেসওয়াশ বা বডিওয়াশের সঙ্গে সামান্য মোটা দানার চিনি মিশিয়ে নিন। হালকা হাতে মুখ ও সারা শরীর স্ক্রাবিং করুন। ত্বকের মরা চামড়া দূর হবে। গোসলের পর শরীরে গ্লিসারিনের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করুন। শুষ্কতা নিয়ে আর ভাবতে হবে না। * হাত ও পায়ের যত্নে ব্যবহার করুন লেবু। লেবু অর্ধেক করে কেটে এক চামচ চিনি মিশিয়ে হাত ও পায়ের ত্বকে ঘষে নিন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান। রাতে ঘুমানোর আগে অলিভ অয়েল বা আমন্ড অয়েল ম্যাসাজ করে লাগান হাত-পায়ের ত্বকে। গোড়ালি ফাটার প্রবণতা থাকলে সপ্তাহে এক দিন গরম পানি ও শ্যাম্পুর মিশ্রণে পা ডুবিয়ে রেখে পিউমিস স্টোন ( ঝামা) দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। তারপর ভালো করে ধুয়ে-মুছে গ্লিসারিনের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে মাখুন। রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমালে পা ফাটার সমস্যা কমে যাবে। * রোদ থাকুক বা না থাকুক বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না। ময়েশ্চারাইজারের পর ত্বকে সানস্ক্রিন লাগান। সব শেষে কমপ্যাক্ট বা ফিনিশিং পাউডার দিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। এই সময়ের রোদের তাপ খুব বেশি থাকে। ছাতা ও এক বোতল পানি সঙ্গে রাখুন।

  • ব্যায়াম

    মেদ কমাতে আসন ব্যস্ততা, কাজের চাপ, স্ট্রেস—সব কিছু মিলিয়ে সঠিক জীবনযাপন করা কঠিনই। সেই সঙ্গে খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম। সব মিলিয়ে ফলাফল হলো ওজন বেড়ে যাওয়া। ওজন বেশি বেড়ে গেলে শুধু ডায়েট করে ওজন কমানো যায় না। আবার সময় বের করে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করাও হয়ে ওঠে না। সে ক্ষেত্রে ঘরে বসেই যোগ আসনের মাধ্যমে ওজন কমাতে পারবেন। বিস্তারিত জানালেন ইয়োগা অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নাজনীন সুলতানা সেতুবন্ধ প্রথমে শুয়ে পড়ুন। আস্তে আস্তে পা ভাঁজ করে নিন। খেয়াল রাখবেন, আপনার হাঁটু ও গোড়ালি যেন একই রেখা বরাবর থাকে। হাত দুটি দুই পাশে নিচের দিকে মুষ্ঠিবদ্ধ করে রাখুন। এবার আস্তে আস্তে শ্বাস নিতে নিতে আপনার পিঠ ওপরে তুলতে থাকুন। এ সময় পুরো শরীরের ওজন থাকবে কাঁধ, বাহু ও পায়ের ওপর। এভাবে ২০ সেকেন্ড থাকুন। তারপর হাত ছেড়ে দিয়ে পিঠ আস্তে আস্তে নামিয়ে আনুন। এভাবে তিন থেকে চারবার করুন। ভুজঙ্গাসন এমনভাবে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন, যাতে আপনার কপাল মাটি ছুঁয়ে থাকে। হাত ভাঁজ করে কাঁধ বরাবর আনুন। হাতের তালু নিচের দিকে রেখে হাত দুটি কাঁধের নিচে রাখুন। এবার শ্বাস নিতে নিতে আপনার হাত সোজা অবস্থায় নিয়ে আসুন, যাতে বুক ওপরের দিকে উঠে যায়। এভাবে ওপরের দিকে তুলতে থাকুন (নাভি পর্যন্ত) যতক্ষণ না শরীরের ওপরের অংশে একটা কার্ভ তৈরি হচ্ছে। এভাবে ২০ সেকেন্ড থাকুন। তারপর নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।  ধনুরাসন প্রথমে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দুটিকে ওপরমুখী করে শরীরের দুই পাশে রাখুন। নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আপনার হাঁটু বাঁকিয়ে নিতম্বের কাছে নিয়ে আসুন। হাত পেছনের দিকে নিয়ে এবার গোড়ালি শক্ত করে চেপে ধরুন। এ সময় দুই হাঁটুর মধ্যে অবশ্যই ফাঁক রাখবেন। এবার শ্বাস নিতে নিতে গোড়ালি দুটিকে নিতম্ব থেকে দূরে সরিয়ে নিন এবং একই সঙ্গে ঊরু ফ্লোর থেকে ওপরের দিকে উঠে যাবে। শোলডার ব্লেড পেছন দিকে চলে যাবে এবং বুক মাটি থেকে একটু ওপরে উঠবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। ২০ সেকেন্ড পর আস্তে আস্তে আসন ছেড়ে দিন। এভাবে তিনবার করুন। উস্ত্রাসন এই ব্যায়াম করার সময় নিচে নরম কাপড় দিয়ে নেবেন। প্রথমে হাঁটু ভাঁজ করে হাঁটুর ওপর দাঁড়ান। শরীরের দুই পাশে হাত রাখুন। এবার আস্তে আস্তে পেছনের দিকে বাঁকিয়ে দুই হাত দিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরতে হবে। এবার আস্তে আস্তে পেছনের দিকে বাঁকিয়ে বুক এবং পেট প্রসারিত করুন। এ সময় শরীরের ওজন হাত ও পায়ের ওপর থাকবে। এভাবে ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারেন। তারপর আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top