• আইভীকে দেখতে হাসপাতালে ওবায়দুল কাদের

    রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দেখতে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ল্যাবএইড হাসপাতালে গিয়ে কাদের আইভীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন।বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মেয়র আইভী। তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ল্যাবএইডের সিসিইউ-১ এ চিকিৎসাধীন আছেন।আইভীকে দেখে এসে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আইভীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি তাঁর পায়ে ইটের আঘাত লাগার কথা বলেছেন। তাঁকে এখন অনেকটা ভালোই মনে হয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা হয়েছে।তিনি বলেন, আইভী পায়ে ইটের একটি আঘাত পেয়েছিলেন, সেটা আমাকে দেখিয়েছে। ডাক্তার বরেণ চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি জানিয়েছেন, আইভীকে কমপক্ষে চার/পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।স্টোকের কারণে ব্রেইনে সমস্যা হওয়ায় আইভীর চিকিৎসা চলছে জানিয়ে কাদের বলেন, স্বাভাবিকভাবে কোনো সমস্যা নেই।এদিকে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আইভীর চিকিৎসা চলছে।

  • সরকার অতীতের সফলতা-ব্যর্থতাকে মূল্যায়ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী

    রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ তাঁর সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছেন, বর্তমান সরকার অতীতের সফলতা এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।তিনি বলেন, আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই না, তবে এটা ভুলে গেলেও আমাদের চলবে না। আমাদের অতীতের সাফল্য এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন এবং ভূল-ক্রুটিগুলো সংশোধন করেই এগিয়ে যেতে হবে।তিনি আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছি, কাজেই পেছনে ফিরে তাকানোর আর সুযোগ নেই এবং আশা করছি বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে সকল বাধা অপসারণের দায়িত্ব নেবে।শেখ হাসিনা ১০ বছর আগে দেশটির অবস্থান কি ছিল তা স্মরণ করেই আগামীতে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহবান জানান।তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশটির গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে এবং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এখন মানুষের আস্থা অর্জন করছে।সরকার প্রধান বলেন, রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশনের অধীনে দু’টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠুও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।তিনি একইসঙ্গে আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরবর্তী নির্বাচন ২০১৮ সালের শেষে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের আগে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সকল প্রকার সহায়তা দেবে।তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ শান্তি চায়। তারা নির্বাচন বানচালের কোন পদক্ষেপ এবং আন্দোলনের নামে জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করা বরদাশত করবে না।’তাঁর পুরো বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের দাবি জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুষম, সুখী এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দল এবং সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে সন্মান দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর দৃঢ় সংকল্প পুণর্ব্যক্ত করেন।তিনি বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে শুধু বসে থাকতে চাই না। আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ৪৭ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং এখন আমরা বিশ্ব দরবারে মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলতে চাই।তিনি বলেন, যদি আপনাদের এটাই প্রত্যাশা হয় তাহলে সবসময়ই আমরা আপনাদের পাশে থাকবো।তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে গভীর চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হল না। এরপর দেশবাসী দেখেছেন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্য, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী ও দুই সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা, জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি, মানিলন্ডারিং, দুর্নীতি। ৬৩ জেলায় একসঙ্গে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়।শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধি সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে ২২ নেতাকর্মী হত্যা, সিলেটে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার- সমগ্র দেশ যেন জলন্ত অগ্নিকু-ে পরিণত হয়েছিল। দেশবাসী প্রতিনিয়ত সে যন্ত্রণায় দাহ হচ্ছিলেন।এমনি পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ বছর দুঃসহ যন্ত্রনা ভোগ করার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি ’ ।তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩শে জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বছর- এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে।তিনি বলেন, যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোন ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়।২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, গ্রহণ করেছি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা।আমরা দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ সেসব সেবা পাচ্ছেন। দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন।৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপি’র আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি’র আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।তিনি বলেন, বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি আমরা। ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করেছি।বছরের প্রথম দিনে সারাদেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছে।তাঁর সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর।জাতির পিতা হত্যাকারী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিডিআর হত্যার বিচার হয়েছে। আমরা সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।তিনি এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির বলিষ্ঠ ভূমিকার উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান।সরকার প্রধান বলেন, সরকারি কর্মচারিদের বেতনভাতা ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কেউ বেকার এবং দরিদ্র থাকবে না।তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আমরা বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে।চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।প্রধানমন্ত্রী দেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন,‘‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’’- জাতির পিতার এই আপ্তবাক্য আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূল প্রতিপাদ্য। এই নীতি অনুসরণ করে আজ প্রতিবেশি দেশগুলিসহ সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।মানবিক কারনে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংশিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যাচার এবং নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে রিলিফ বিতরণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।শেখ হাসিনা বলেন, আপনারাই সকল ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল?তিনি বলেন, আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দু’বেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক!প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় একযোগে কাজ করে যাবার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।

  • সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতেই সারাদেশে উন্নয়ন মেলার আয়োজন : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সারাদেশে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে বলেছেন, সরকার যে কাজগুলো করেছে এবং ভবিষ্যতে যে কাজগুলো করতে যাচ্ছে তা সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতেই এই মেলার আয়োজন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মেলায় আজকে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদেরকে বলবো যে কাজগুলো আমরা করতে পেরেছি এবং যে কাজগুলো ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে যেমন জনগণকে সচেতন করা দরকার তেমনি আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় তারজন্য সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে দরকার।’তিনি বলেন, ‘এই উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে সেই লক্ষ্য নিয়েই এই উন্নয়ন মেলার সূচনা।’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সকল জেলা-উপজেলায় অনুষ্ঠিত উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পীকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ সময় উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো.আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।অনুষ্ঠানের শুরুতেই উন্নয়ন মেলা নিয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র পরিবেশিত হয়।এসময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরগুনা, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা ও চাঁদপুর জেলার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।তাঁর সরকার প্রতিটি গ্রামকে দারিদ্র মুক্ত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, আজকের বাংলাদেশ তাঁর দেয়া ঘোষণা মোতাবেক ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপ পরিগ্রহ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ আজকে সবধরণের সেবা পাচ্ছে। মোবাইল ফোন প্রত্যেকটি মানুষের হাতে পৌঁছে গেছে। প্রায় ৮ কোটি জনগণ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনমানের এই উন্নয়নই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশবাসীকে এটুকু বলবো যে, উন্নয়ন মেলা যেটি তাঁর সরকার করে যাচ্ছে, এই উন্নয়ন হচ্ছে জনগণের উন্নয়ন। গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষের উন্নয়ন। এই উন্নয়ন হচ্ছে বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বের দরবারে একটি সন্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে।তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব। যে স্বপ্ন একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এই দেশকে গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন।এত স্বল্প সময়ে কোন যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল কি না তাঁর জানা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই অসাধ্য সাধন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর মত বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছিল।বাংলাদেশের মত একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো থেকে শুরু করে আইন তৈরি, নীতিমালা, বিধিমালা থেকে শুরু করে একটি রাষ্ট্রের যা যা প্রয়োজন তাঁর সবই সেই স্বল্প সময়ে জাতির পিতা করে দিয়ে যান বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতির পিতা যখন উন্নয়নের কাজ শুরু করেন যার সুফল দেশবাসী পেতে শুরু করে ঠিক সে সময়েই জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।জাতির পিতাকে হত্যার পরই এদেশে অবৈধভাবে সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি শুরু হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এই ক্ষমতা দখলকারী তারা ক্ষমতাকে নিষ্কন্টক করার জন্য একের পর এক ক্যু ঘটিয়ে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা-সামরিক অফিসার এবং সৈনিক হত্যা করেছে। কিন্তুু দেশের সাধারণ মানুষ বঞ্চিত এবং শোষিত থেমে গেছে। তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় নাই।সরকার প্রধান বলেন, নিজেদের ভাগ্য গড়ায় ’৭৫ পরবর্তী শাসকগোষ্ঠী যতটা ব্যস্ত ছিলেন দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তারা কিছুই করেননি। সেই সময়ে ১৯টি ক্যু হয় বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর সরকার গঠন করার পরই সরকার যে জনগণের সেবক সেটা জনগণ বুঝতে পারেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ থেকে ২০০১ বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বর্ণযুগ ছিল। কারণ, ২১ বছর পর জনগণ প্রথমবারের মত উপলব্ধি করেছিল সরকার সত্যিই জনগণের জন্য কাজ করে এবং সে সময়েই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ ভাগে উন্নীত করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬শ’ মেগাওয়াট থেকে ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াট, কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র করে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোড়গোঁড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।এসময়ে জাতির পিতার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আলোকে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের ঘর দেয়ার প্রকল্প শুরু হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে গৃহহীনদের ঘর ও একটি করে স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরীর ব্যবস্থা নেয়া হয়। একটি বাড়ি একটি খামার করে জনগণকে স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। যা পরে বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দেয়।শেখ হাসিনা বলেন, সাক্ষরতার হার ৪৫ ভাগ থেকে ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছিল। একের পর এক জেলা-উপজেলাকে নিরক্ষরতা মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছিল। ইউনেস্কো সে সময় সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশকে পুরস্কারও প্রদান করে এবং সারা বাংলাদেশে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়।জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট বেশি দিলেও আসন কম পাওয়ায় দুর্ভাগ্যবশত পরের ৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর ৭টি বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো আর অব্যাহত রাখেনি। কারণ, সেগুলো নিয়ে তাদের মাথাব্যথা ছিল না বরং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো, দুর্নীতি, লুটপাট, মানিলন্ডারিং করা ও হাওয়া ভবন খুলে দেশে বিদেশে ঘুষ দুর্নীতি করাই তাদের লক্ষ্য ছিল। এভাবেই তাঁর সরকারের উন্নয়ন অর্থনীতি পুরোপুরি বিধ্বস্থ করে দেয়া হয়, বলেন প্রধানমন্ত্রী।সরকার প্রধান বলেন, ২০০৮ সালে সরকার গঠনের পর তাঁরা দেখলেন তাঁর আগের সরকারের মেয়াদে করা সব গণমুখী কাজই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং ২০০৯ সালে আবার বিপর্যস্থ অর্থনীতি থেকে সেসব নতুন করে শুরু করা হয়।তাঁর সরকারের লক্ষ্যই তৃণমূল মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে যদি অর্থনৈতিকভাবে উন্নত করতে হয় তবে, শুধু ধনিক শ্রেণীকে আরো ধনী বানানোর প্রয়োজন নেই। বরং যারা একেবারে তৃণমূলে পড়ে আছে, অবহেলিত রয়েছে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে। গ্রামের জনগণের প্রাপ্য সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা দিতে হবে এবং গ্রামের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী ও মজবুত করতে হবে, অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে হবে।গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে তাঁর সরকার ৫ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইতিমধ্যে ৫ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে।এই দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে, প্রতিটি ছেলে-মেয়ে বিদ্যালয়ে যাবে, পড়াশোনা করবে, চিকিৎসা ব্যবস্থা মানুষের দোড়গোঁড়ায় পৌঁছে যাবে এবং মানুষ মানুষের মত বাঁচবে, সেই স্বপ্ন দেখতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।সে দিকে লক্ষ্য রেখেই সরকার তাঁর বাজেট ৫ গুণ বৃদ্ধি করেছে, বেতন-ভাতা ১২৩ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে,বলেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় গমন নিশ্চিত করতে সরকার প্রাথমিক থেকে পিএইচডি লেভেল পর্যন্ত বৃত্তি-উপবৃত্তি দিয়ে যাচ্ছে।তিনি বলেন, এই দেশকে উন্নত করতে হলে একটি শিক্ষিত জাতি আমাদের দরকার। সেজন্য যে সব গ্রামে স্কুুল নাই সেখানে স্কুল-কলেজ করে দিচ্ছে, স্কুল-কলেজ যেগুলো আছে তার উন্নয়ন ঘটাচ্ছে, প্রতিটি জেলাতেই সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করছে এবং বহুমুখী বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছে। ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার করছে। দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। সর্বিক একটা উন্নয়নের গতি নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে।দেশের প্রবৃদ্ধি এখন ৭ দশমিক ২৮ ভাগ এবং ডিসেম্বর মাসে ৫ দশমিক ৮৪ ভাগ মূল্যস্ফীতি ছিল উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, তাঁর সরকারের উন্নয়নটা সার্বিকভাবে সকল মানুষের জন্য। বিশেষ করে গ্রামের মানুষের জন্য।বিভিন্ন জেলার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চাঁদপুরের মৎসজীবী মানিক দেওয়ানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শুধু ব্যবহারকারীই নয়, কারেন্ট জাল প্রস্তুুতকারক এবং বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

  • আজ থেকে শুরু বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

    তাবলিগ জামাতের বৃহত্তম সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব টঙ্গীর তুৃরাগ নদ তীরে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে।৩ দিনব্যাপী এ ইজতেমার প্রথম পর্ব শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে।চারদিন পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয়পর্ব এবং শেষ হবে ২১ জানুয়ারি।ইজতেমায় মুসলিম জাতির সুখ, শান্তি, কল্যাণ, অগ্রগতি ও ঐক্য কামনা করে মোনাজাত করা হবে। এতে দেশ-বিদেশের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইজতেমা আয়োজক কমিটি।এদিকে ইজতেমা ময়দানে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা আসতে শুরু করেছেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এখন টঙ্গীমুখি। প্রয়োজনীয় মালপত্র সঙ্গে নিয়ে দলে দলে মুসল্লিরা ময়দানে এসে যার যার খিত্তা ও কামরায় অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।ইজতেমার মুরুব্বি মো: গিয়াস উদ্দিন আজ বাসসকে জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দুই ধাপে অংশ নেবেন দেশের ৩২ জেলার মুসল্লি। প্রথম ধাপে অংশ নিচ্ছেন বিদেশি মুসল্লিসহ দেশের ১৬ জেলার মুসলিরা।তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্যান্ডেল, মঞ্চ, মুসল্লিদের পারাপারে তুরাগ নদের উপর ভাসমান সেতু, টয়লেট, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব প্রস্তুতি সমন্ন হয়েছে।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান আজ বাসসকে বলেন, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি পৃথক ৫টি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে।তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের ওযু, পয়ঃনিষ্কাষণ ও সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্য ইজতেমা মাঠে স্থাপিত ১৩টি গভীর নলকূপ দিয়ে ১৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটিার পাইপ লাইনের মাধ্যেমে প্রতিদিন ৩ কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরববরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইজতেমা চলাকালীন ২১টি গার্বেজ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করবে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্স) মেজর এ.কে.এম শাকিল নেওয়াজ আজ বাসসকে বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, উদ্ধার, রোগী পরিবহন (এ্যাম্বুলেন্স), তুরাগ নদে দমকল বাহিনীর ডুবুরি টহলসহ বিভিন্ন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুলিশের ৭ হাজার সদস্য ও র‌্যাবের ২৫০ থেকে ৩০০জন সদস্য মাঠে মোতায়েন থাকবে। এ বছর গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্য ও ৫টি ওয়াচ টাওয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১টি সিসি ক্যামেরা ইজতেমা মাঠের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে।ময়দানের প্রতিটি খিত্তায় ৬ জন করে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ওয়ার্চ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা, চেকপোস্টে, মেটাল ডিটেক্টর, নৌ টহল ও ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হবে। ময়দানে পলিশের পক্ষে থেকে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠ জুড়ে থাকবে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের কড়া নজরদারি।প্রথম পর্বের ১৬ জেলা হচ্ছে : ঢাকার একাংশসহ নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, নরসিংদী ও বগুড়া। এ বছর ১৬০ একর এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে চটের প্যান্ডেল।বিদেশি মেহমানদের জন্য এবার তৈরি করা হয়েছে ৪ কামরা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক নিবাস।ইজতেমায় যাতায়াতের সুবির্ধার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭টি ভাসমান পল্টুন ব্রিজ তৈরি করেছে।ইজতেমায় মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ৫০টি মেডিকেল টিম ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। প্রস্তুত থাকবে ১৪টি অ্যাম্বুল্যান্স।

  • জনগণের সম্মান ও ভালোবাসা পাওয়া একজন রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় অর্জন : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন রাজনীতিকের জন্য তাঁর কাজের মাধ্যমে নিজের স্থান করে নেয়া এবং জনগণের সম্মান ও ভালোবাসা পাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।মানুষ মরণশীল এবং প্রত্যেককেই মরতে হবে। কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন। জনগণের ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়া একজন রাজনীতিকের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন।আজ জাতীয় সংসদে প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এবং সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফাসহ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এবং সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকসহ সকলের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে দেশ ও জাতি গঠনে তাদের অবদান স্মরণ করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসা কি করে অর্জন করতে হয়, তা প্রয়াত এ সকল নেতারা প্রমাণ করে গেছেন। তারা তৃণমুল পর্যায়ে কাজ করে মানুষের ভালোবাসা, সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করে বারবার জনগণের ভোটে জয়ী হয়েছেন।তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে। প্রাণি সম্পদে আমরা আজ সমৃদ্ধি অর্জন করেছি।মন্ত্রী ছায়েদুল হক আমাদের বিশাল সমুদ্র সম্পদ এলাকায় মৎস্য আহরণে অনেক পরিকল্পনা এবং কাজ করতে শুরু করেছিলেন। তিনি দেশের উন্নয়নে সততা ও একাগ্রতার সাথে যে অবদান রেখে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফার কর্ম ও জীবন সম্পর্কে বলেন, তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের বিভিন্ন অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

  • পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষ্যে এ্যাডভোকেসী সভা ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

    “পরিকল্পিত পরিবার গড়ি, মাতৃ মৃত্যু রোধ করি” এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ে সামনে রেখে ৩০ ডিসেম্বর-২০১৭ হতে ৪ জানুয়ারী ২০১৮ পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষ্যে এ্যাডভোকেসী সভা ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এফপিএবি মিলনায়তনে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ দিনাজপুর এর আয়োজনে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা দিনাজপুরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোঃ আবু নছর নুরুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদুল ইসলাম, এফপিএবি’র অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আব্দুল করিম। এমসিএইচ (এফপি) সদর ডাঃ গাপিনাথ বসাক, উপজেলা পঃপঃ কর্মকর্তা সদর ডাঃ ওবায়দুর রহমান, জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহাজান আলী সাগর, প্রাক্তন পঃ পঃ উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ সাহাব উদ্দিন, সহকারী শিক্ষা অফিসার সুবাস চন্দ্র অধিকারী ও দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রজেটশনিষ্ট পঃ পঃ বিভাগ অমল কুমার সরকার।  প্রেস ব্রিফিং এ বিভিন্ন প্রশ্ন করেন সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক, শামীম রেজা, মোঃ ইদ্রিস আলী, মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, কাশী কুমার দাস, রফিকুল ইসলাম ফুলাল, আজাহারুল আজাদ জুয়েল ও মোঃ সালাউদ্দিন আহাম্মেদ। সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ মোঃ আবু নছর নুরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিশু মৃত্যু ও মাতৃ মৃত্যু প্রতিরোদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী, স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও প্রাতিষ্ঠানেক ডেলিভারীর কোন বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে দিনাজপুর জেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দিনাজপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে সেবা প্রদানকারীর ৪০ ভাগ পদ শূন্য, তার সত্বেও উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় জনগণ ও বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহাণকারীর হার ৮১ ভাগের উপরে। তার মধ্যে স্থায়ী ও দীর্ঘ মেয়াদী পদ্ধতি গ্রহণকারীর হার ৩০ ভাগ এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসব সেবা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে দিনাজপুর জেলার অবস্থান ১ থেকে ১০ এর মধ্যে।

  • রাজবাড়ীতে প্রভাতী কীর্তন দলের মাসিক কীর্তন অনুষ্ঠান অনুুষ্ঠিত

    প্রতি মাসের মত এ মাসেও অনুষ্ঠিত হলো রাজবাড়ী কালিয়া কান্তজি মন্দির প্রাঙ্গণে প্রভাতী কীর্তন দলের কীর্তন। প্রতি বাংলা মাসের প্রথম শনিবার কীর্তন অনুষ্ঠান , গীতা পাঠ, ধর্মীয় আলোচনা ও ভক্তবৃন্দর মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ ও গীতার মহাত্মর তাৎপর্য তলে বক্তব্য রাখেন পবিত্র কুমার মজুমদার। এছাড়া ধর্মীয় আলোচনায় বক্তব্য রাখেন হাবিপ্রবির ছাত্র শ্রী জীবন রায়। কীর্তন অনুষ্ঠানে কীর্তন করেন  প্রভাতী কীর্তন দলের প্রতিষ্ঠাতা বিমল কুমার সরকার, শ্রী বিনদ কুমার সরকার, লক্ষন রায়সহ প্রায় ২ শতাধিক হিন্দু নর নারী ভক্তবৃন্দ। উল্লেখ্য ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী কালিয়া কান্তজির মন্দির প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা কীর্তন ও ভোগ আরতী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রভাতী কীির্তন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা বিমল কুমার সরকার বলেন, আমরা ভক্তবৃন্দের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছি। আমার বিশ্বাস এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটছে।  অনুষ্ঠানটি বিশাল রুপ দিতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের হিন্দু বৃত্তশালীদের এগিয়ে আসতে হবে।

  • দিনাজপুরে অনন্যা সংস্থার সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত

    দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অনন্যা সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০১৭ ও নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনন্যা সংস্থার সভাপতি জাহানারা বেগম এর সভাপতিত্বে বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী। আয় ব্যয়ের প্রতিবেদন পাঠ করেন কোষাধ্যক্ষ তাইয়েবা আফ্রিন। উপস্থিত সদস্যরা প্রতিবেদন দুটি কন্ঠ ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন প্রদান করেন। দ্বিতীয় পর্বে নির্বাচন পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হুমায়ুন কবীর, সদস্য মাহামুদুন্নবী ও সুবীর কুমার সেন। ব্যালট ভোটের মাধ্যম সভাপতি বিলকিস আরা বেগম, কোষাধ্যক্ষ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দিকায় নির্বাচিত হন তাজুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তাইয়েবা আফ্রিন, মোঃ নুর জামান, জিনাত আরা চৌধুরী মিলি, আসাদুজ্জামান, সাহানা আক্তার বানু। মোট ভোটারের মধ্যে ৭০ ভাগ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন রবিউল ইসলাম। এছাড়া কমিটিতে পদাধিকার বলে সংস্থার সদস্য সচিব ও নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ডাঃ চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী রয়েছেন। বার্ষিক প্রতিবেদনে নির্বাহী পরিচালক ডাঃ চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী বলেন, আর্ত-মানবতার কল্যাণে অনন্যা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষকরে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির উন্নয়নে এ অঞ্চলে বিশেষ অবদান রেখেছে। এছাড়া সংস্থা ঈদ উৎসবে দরিদ্র-হত দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, প্রবীন ব্যক্তিদের মাঝে সেমাই, দুধ, চিনি প্রদান করে আসছে এবং প্রতি বছর অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে আসছে। সভার শুরুতে অনন্যা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মরহুমা কানিজ ফাতেমা বেগমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

  • হলি ল্যান্ড কলেজের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান

    দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেছেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনের একটা লক্ষ্য থাকে। সবাই একটা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। লক্ষ্য ও স্বপ্নহীন জীবনে সাফল্য আসেনা। সুনির্দিষ্ট স্বপ্ন থাকলে নিজ লক্ষ্যে পৌঁছতে অনেক সহজ হয়। ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দিনাজপুর হলি ল্যান্ড কলেজ এর বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক এ্যাওয়ার্ড-২০১৭ প্রদান অনুষ্ঠানে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আবু বকর সিদ্দিক এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনে মনোযোগী করে তুলগে হবে। খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ায় উৎসাহ যোগায়। তাই লেখা-পড়ার পাশাপাশি চিত্ত বিনোদনে শিক্ষার্থীরা মনোযোগী হলে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে। দিনাজপুর হলি ল্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আব্দুর রউফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুরের কলেজ পরিদর্শক মোঃ ফারাজ উদ্দিন তালুকদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হলি ল্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রৌশন।  আলোচনা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

  • বড়পুকুরিয়া শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে শ্রম আদালতের রায়

    দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কোলমাইনিং কোম্পানী শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন শ্রম আপিল ট্রাইবুন্যাল থেকে তাদের পক্ষে নির্বাচন করা ও অফিস খুলে দেয়ার রায়ে আদেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে সুন্দর এবং গ্রহন যোগ্য নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। ২০১৫ সালের দাখিল করা সর্বশেষ রিটার্ন অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য সংখা ৭০ জন এবং এই শ্রম আদালত রাজশাহীতে শ্রম আপিল মামলা ১২৮/১৪ আনায়ন করে গঠন তন্ত্রে সংশোধনী আনায়ন এর অনুমোদন পায় কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়ন। আপিল মামলাটিতে বিবাদীপক্ষরা রায় পাওয়ার পর শ্রম দপ্তর কতৃক রাজশাহী রায়টি মেনে নিতে না পেরে শ্রম আপিল ট্রাইবুন্যাল ঢাকায় ঘোষিত রায়ের বিরুদ্ধে আবার আপিল মামলা করেন। গত ৫/০৩/২০১৭ইং তারিখে নির্বাচনটি করার জন্য বড়পুকুরিয়া কোলমাইনিং কোম্পানী লিমিটেড শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি মো. আবুল কাশেম শিকদার,সাধারন সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বিসি.এম.সি এল)দিনাজপুর ও রেজিষ্টার অব ট্রেড ইউনিয়ন,শ্রম অধিদপ্তর,রাজশাহী বিভাগকে সংশোধিত গঠন তন্ত্র ২০১৫সালের দাখিলি রিটার্ন,সদস্য তালিকা শ্রম আপিল মামলা ১২৮/১৪এর রায়,২০১৩ সালে নির্বাচনী ফাইল পত্র প্রদান করেন। ১৫/০২/২০১৭ইং তারিখে শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এর সাধারন সভায় সদস্য গনের আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত হয় ইউনিয়নের সাধারন নির্বাচন সুষ্ট ভাবে ৪৫ দিনের মধ্যে করার জন্য ৩ সদস্য আহবায়ক কমিটি করে দেন। ২৭/০২/২০১৭ইং তারিখে বড়পুকুরিয়া কোলমাইনিং কোম্পানী লিমিটেড শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবুল কাশেম শিকদার ও সাধারন সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদ সাক্ষরিত সদয় অবগতির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি প্রেরন করেন। কিন্তু রেজিঃ নং ১৯৫৬ সংগঠনে মো. দুলাল মিয়া,মেকানিক্যাল ফোরম্যান ও মো. জাহাঙ্গীর আলম, কারিগরি কাজের ফোরম্যান গংরা ভোট করতে না দিয়ে তারা ৯/০৪/২০১৭ইং তারিখে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করেন। বড়পুকুরিয়া কোলমাইনিং কোম্পানী লিমিটেড শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন এর মধ্যে নির্বাচন এবং সংগঠন নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি নিরোষনের কারনে গত ৯/৮/২০১৭ইং তারিখে খনিতে এক সমোঝতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে ৫ সদস্য কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে রাজনৈতিকদলের নেতৃবৃন্দ এবং খনির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। মামলাটি নিঃস্পত্তি হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আহবায়ক কমিটি সাধারন সভা ডেকে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন। আপিল বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০১৬ এর ২১৭ ধারা অনুসারে সম্পাদিত হয়েছে, সেই অনুসারে বিচার প্রকৃয়া অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩১/৫/২০১৪ইং তারিখে নির্দেশ প্রদান করা হয় যা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৮৮(২)১৮৮(৪)ও ২১৩ধারার অধিনে শ্রম আপিল নং ১২৮ এর শ্রম আদালত রাজশাহী এর বিজ্ঞ চেয়াম্যানের অনুমোদন শুনানী শুরু হয় ১০/১০/২০১৭ইং এবং বিচার কার্য শুরু হয় ৬/১২/২০১৭ইং তারিখে। শ্রম আপিল ট্রাইবুন্যাল এর চেয়ারম্যান ঢাকা আপিল নিঃস্পত্তি করে বিবাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন। এখানে শ্রম আপিল নং ২০১৪ এর ১২৮ এর শ্রম আদালত রাজশাহী চেয়ারম্যানের দেয়া রায়ও তাদের পক্ষে প্রদান করেন। রায়ের অনুলিপি খনি কতৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরন করেন। কিন্তু কয়লা খনি কতৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের অফিসটি খুলে দেয় নি। এমনকি এডহক কমিটি নির্বাচন করার কোন প্রস্তুতি গ্রহন করছেন না। যা শ্রম আইনের বিধি লংঘন করছেন।

  • মধুখালীতে এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

    ফরিদপুরের মধুখালীতে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় “পরিকল্পিত পরিবার গড়ি, মাতৃমৃত্যু রোধ করি” প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারী ২০১৮ পর্যন্ত সপ্তাহ ব্যাপী পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের হল রুমে এক এ্যাডভোকেসি সভা অনািষ্ঠত হয়েছে।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল হাসেম শেখ। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শোয়েব আলী মিঞার সভাপতিত্বে এ্যাডভোকেসি সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সদস্য মির্জা আহসানুজ্জামান আজাউল, মেডিকেল অফিসার ডা. সোহেল রানা, উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার ডা. সোয়েবুর রহমান, খুরশীদা খায়রুননেছা, সাংবাদিক শাহ্ মো. ফারুক হোসেন. শাহজাহান হেলাল, মতিয়ার রহমান, মেডিকেল পরিদর্শক বুলবুল আহম্মদ, এসএসইএফও ডা. অপর্ণ কর্মকার, মলিনা দে প্রমুখ।

  • গোপালগঞ্জে মাঁচা পদ্ধতিতে পুঁইশাক চাষে নির্মলা সুন্দরী এখন মডেল

    গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর দক্ষিন পাড়ায় ষাট বছরের মহিলা নির্মলা সুন্দরী মাঁচা পদ্ধতিতে পুঁইশাক চাষ করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছে। তিনি এখন অন্যান্য চাষীদের কাছে মডেল হয়েছেন। তার দেখা দেখি অন্যরাও এগিয়ে আসছেন মাঁচা পদ্ধতিতে পুঁইশাক চাষে।মঙ্গলবার দুপুরে নির্মলা সুন্দরীর সাথে কথা হয় সবজি ক্ষেতে বসে এ সময় তিনি জানান, তিন মাস আগে দশ কাঠা জমিতে মাঁচা পদ্ধতিতে পুঁইশাক চাষ করি। এক মাসের মাথায় সবজি তুলে বাজারে বিক্রি করতে থাকি। দুই তিন দিন পর পরই পুঁইশাক কাটা লাগে। এ বছর পুঁইশাকের দাম ছিলো অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি। পাইকাড়রাও সবজি ক্ষেতে এসে পুঁইশাক কিনে নিয়ে যায়। এ পর্যন্ত প্রায় দশকাঠা জমি থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা আয় করেছি। আমার দেখা দেখি এখন এলাকার অনেকেই মাঁচা পদ্ধতিতে পুঁইশাক চাষ করে লাভবান হচ্ছে। স¦ামী, পুত্র, কন্যাদের নিয়ে শাঁক কাঁটা, আঁটি বাঁধা ও বাজারে বিক্রি করা সব কাজই আমরা আনন্দের সাথে মিলে মিশে করি।সদর উপজেলার রঘুনাথপুর, সিলনা, টুিঙ্গপাড়া উপজেলার গুয়াধানা, রুপাহাটি, গোপালপুর, সত্তর কান্দা, জোয়ারিয়া, পাথরঘাটা, বন্যাবাড়ী, রাখিলা বাড়ি ও মৃত্তি ডাঙ্গা থেকে শত শত মন পুঁইশাক পাইকাররা নসিমন, ইজিবাইক, লেগুনা ও ভ্যান যোগে গোপালগঞ্জ শহরের বাজারে নিয়ে আসে। এছাড়াও এ পুঁইশাক গোপালগঞ্জ জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ দেশের আরো অনেক জেলায় মানুষের মাঝে চাহিদা মিটাচ্ছে।গোপালগঞ্জের রঘুনাথপুরের সবজি চাষী বিধান বিশ্বাস, রমানাথ গাঙ্গুলি, দিলীপ বিশ্বাস, তপন বালা ও দয়াল বালা জানান পুঁইশাক চাষ করে এবার অনেকেই লাখ লাখ টাকার মুখ দেখেছে। এবার থেকে পুঁইশাক চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে কৃষকরা। আগামী বছর থেকে এলাকায় এ সবজি চাষে প্রাধান্য পাবে বলে তারা জানান।ডাক্তার অমৃত লাল বিশ্বাস বলেন, পুঁইশাকে প্রচুর পরিমান পুষ্টিগুন রয়েছে। যা থেকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ জন্য প্রত্যেকেরই পুঁইশাক খাওয়া উচিত।

  • বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান

    রিমা নামের একটি সাত বছরের একটি শিশু। জন্মের পর থেকেই হার্টের মারাত্বক রোগে ভুগছে। দিনের পর দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। রিমার বাবা আ: সালাম সরদার (৩০) এক ধরনের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কাজ করেন গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের সামনে নিরিবিলি হোটেলে। রিমার ছোট একটি ভাই রয়েছে যার বয়স মাত্র চার বছর। মা এরিনা বেগম সংসারের কাজের পাশাপাশি অন্যের বাড়িতে টুকটাক কাজ করেন ও নিজের সংসার সামলান। রিমাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামে।রিমার হার্টের সমস্যা ধরা পড়ার পর রিমার বাবা তার চিকিৎসার জন্য কখনো গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে, কখনো ঢাকাস্থ শিশু হাসপাতালে তার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রিমার অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি বরং ধীরে ধীরে সে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা হার্ট ফাউন্ডশন থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা জরুরী ভিত্তিতে রিমার অপারেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন। রিমার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে দুই লাখ টাকা। এত টাকা যোগাড় করা রিমার বাবার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। সারা দিন মনমরা হয়ে থাকেন, শুধু কান্নাকাটি করেন। মেয়েকে কি ভাবে সুস্থ করা যায় সে কথাই ভাবেন। নিরিবিল হোটেলে গিয়ে জানা যায় মাত্র সাত বয়সী হার্টের রোগে ধীরে ধীরে শেষ হতে যাওয়া নিষ্পাপ শিশু রিমার বিষয়টি।রিমার বাবার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি গুছিয়ে কথা বলতে পারেন না তিনি। শুধু নির্বাক ভাবে তাকিয়ে থাকেন কলিজার টুকরা সন্তানের জন্য কিছু করতে না পারার অসহায়ত্ব নিয়ে।তার সহকর্মীর কাছ থেকে জানা যায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, অসহায় আ: সালাম তার মেয়ে রিমার জন্য সমাজের বিবেকবান, বিত্তবান, মানুষের জন্য যারা কাজ করেন, তাঁদের নিকট থেকে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। পাশাপাশি যারা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করেন তাদের প্রতি মানবিক দাবি জানিয়েছেন স্ব স্ব মিডিয়াতে রিমাকে নিয়ে সংবাাদ প্রকাশ করলে রিমার উপকার হতে পারে বলে মনে অনেক বিশ্বাস তার।সমাজের বিত্তবান ও বিবেকবানদের প্রতি মাত্র সাত বয়সী হার্টের রোগে ধীরে ধীরে শেষ হতে যাওয়া নিষ্পাপ শিশু রিমার সাহায্যের জন্য মানবিক আবেদন জানিয়েছেন রিমার বাবা আ: সালাম সরদার।রিমার বাবা আ: সালাম সরদারের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা: প্রযতেœ মো: জুয়েল, হোটেল নিরিবিলি, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সামনে, গোপালগঞ্জ।

  • গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠ

    গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি এস এম হুমায়ূন কবীরকে সভাপতি ও দৈনিক জনকণ্ঠের গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা নীতিশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটি গঠিত হয়েছে। এ মাসেই বুদ্ধিজীবী দিবসে বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে এ সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়।শনিবার রাতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ টুঙ্গিপাড়ায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ ড. শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সঙ্গে তার বাস ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। বর্ষীয়াণ এ নেতাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তার হাতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের নবগঠিত কার্যকরী পরিষদের তালিকা তুলে দেয়া হয়।এ সময় সংগঠনের সহ-সভাপতি গোপালগঞ্জ সংবাদের সম্পাদক ইলিয়াস হক ও এটিএন বাংলা  ও এনটিএন নিউজের প্রতিনিধি চৌধুরী হাসান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানিক (এশিয়ান এইজ), তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এম শিমুল খান (সিএনএন বাংলা টিভি), দপ্তর সম্পাদক নুতন শেখ (প্রথম আলো), সংস্কৃৃতি বিষয়ক সম্পাদক দুলাল বিশ্বাস সবুজ (প্রতিদিনের সংবাদ), সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল কাদির সবুজ (ভোরের পাতা), কোষ্যাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন (আরটিভি), সহ দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হুদা খান নিজাম (সাপ্তাহিক মুকসুদপুর সংবাদ), কার্যকরী সদস্য কবি রবীন্দ্রনাথ অধিকারী (সংবাদ), শেখ লিপন আহম্মেদ (আমাদের কথা), কাজি মাহমুদ (দৈনিক যুগের সাথী), হেমন্ত বিশ্বাস (যোগাযোগ প্রতিদিন), সজল সরকার (প্রতিদিনের সংবাদ) ও ফটো সাংবাদিক অনুজ ঘোষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের কনিষ্ঠ পুত্র কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নাঈম, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাকন ও জেলা যুবলীগের সভাপতি জি এম সাহাবুদ্দিন আজমসহ অনেকে।

  • রংপুর সিটিতে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ : জাতীয় পার্টির বিজয় ঘোষণা

    অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে রংপুর সিটি কর্পোরেশনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এই সিটির ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রে আজ সকাল ৮টা থেকে একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণ শেষে এখন কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনা চলছে।বাসসের রংপুর অফিস জানায়, শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। এ পর্যন্ত কোথাও থেকে কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।সকালে নগরীর নিউ সেনপাড়া কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, একই কেন্দ্রে ভোট দেন দলের কো-চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের। সালেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, দেওয়ানটুলিতে ভোট দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা, আলমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা।ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে এইচ এম এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। এটা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটা পরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের আগে রংপুর সিটির এই নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’এ নির্বাচনে ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র এবং ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। রোকেয়া কলেজ কেন্দ্র পরীক্ষামূলক ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।এই নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। এরা হলেন- আওয়ামী লীগের সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (লাঙ্গল), বিএনপির কাওসার জামান বাবলা (ধানের শীষ), বাসদের আবদুল কুদ্দুস (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এ টি এম গোলাম মোস্তফা বাবু (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সেলিম আখতার (আম) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (হাতি)। এখানে ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এই সিটিতে ভোটার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৫৬ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৯৩টি, ভোটকক্ষ ১১৭৮টি।

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top