Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/dpcnews/public_html/dbconnection.php on line 9
অর্থনীতি
  • ২০১৭ - ২০১৮ অর্থ বছরে ৫ থেকে ৬ লাখ মে. টন ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা

    প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এবার নির্বিঘেœ ডিম ছাড়তে পেরেছে ইলিশ। বিশেষ করে বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র থেকে অধিক ইলিশ ডিম ছাড়তে নদীতে এসেছিলো। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদীকেন্দ্রের ১৪ সদস্য বিশিষ্ট গবেষণা দল দেশের ৯টি পয়েন্টে গবেষণামূলক জরিপ চালিয়ে জানিয়েছে, এবার ৪৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে এবার ইলিশের পোনা বা জাটকা উৎপন্ন হবে ৪০ হাজার কোটি বা তার কিছু বেশি। যা গতবারের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি। আগামী জাটকা মৌসুমে এসব পোনা সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে এ অর্থ বছরে ৫/৬ লাখ মে. টন ইলিশ উৎপাদন হতে পারে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাসুদ হোসেন খান জানান, চাঁদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৪টি প্রধান প্রজনন কেন্দ্রে ২২ দিন ইলিশসহ সব মাছ ধরা বন্ধ ছিল। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণার বিজ্ঞানী দল মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন অংশ থেকে নমুনা ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে চূড়ান্ত জরিপ করে ফলাফল দিয়েছে। তাতে দেখা যায় এ বছর ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ডিম ছাড়ার ইলিশের পরিমাণ ৪৬.৪৭ শতাংশ যা বিগত বছরের তুলনায় আড়াইগুণ বেশি। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে এ হার ছিলো ৪৩.৯৫ ভাগ এবং ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ডিম ছাড়ার হার ছিলো ৩৩.৪৬ ভাগ। বিশেষ করে এ বছর প্রাকৃতিক পরিবেশ অর্থাৎ অধিক বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া এবং পানির প্রবাহ সব মিলে পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক। যার কারণে অধিক পরিমাণ ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে উঠে আসতে পেরেছে এবং নিরাপদে ডিম ছেড়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের প্রধান মৎস্য গবেষক ডা. মাসুদ হোসেন খাঁন জানান, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে এ অভিজানের ফলে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৯১ কেজি ডিম উৎপাদন হয়। যার ফলে ৩৯ হাজার ২৬৮ কেজি জাটকা যুক্ত হয়, সর্বোপরি জেলেরা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৭ মে. টন ইলিশ আহরণ করে। এর পূর্বের বছর ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৩লাখ ৯৪ হাজার ৯৫১ মে. টন ইলিশ উৎপাদন হয়। ওয়ার্ল্ড ফিশের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশই উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ২৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যদিও এক যুগ ধরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছিল। মৎস্য অধিদফতরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক শেখ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদনের যে পরিসংখ্যান পেয়েছি সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে খসড়া হিসেব অনুযায়ী ইলিশের উৎপাদনটা মোটামুটি ঠিক আছে। গত অর্থবছরে ইলিশের মোট উৎপাদন ৪ লাখ ৯৬ হাজার টন। তিনি বলেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে ইলিশের উৎপাদন প্রতিবছর বেড়েই চলছে। আশা করছি চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হবে। চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও নদী কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিছুর রহমান জানান, ইলিশের ডিম ছাড়ার হার পর্যবেক্ষণসহ পানির গুণাগুণ ও দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট দল নিয়ে গবেষণা জাহাজসহ চাঁদপুর থেকে যাত্রা শুরু হয়। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের রামগতি, হাতিয়া, মনপুরা, ভোলা, দৌলতখান, ইলিশা, মেহেন্দিগঞ্জ ও শরীয়তপুর এ ৯টি পয়েন্টে গবেষণামূলক জরিপ করে সেখানে পানির গুণাগুণ স্বাভাবিক পাওয়া যায়। এছাড়া এ প্রজনন মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল। যার কারণে ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সফলভাবে ডিম ছাড়তে পেরেছে, এবার ডিম ছাড়ার এ হার ছিলো ৪৬.৪৭ শতাংশ । এসব ডিম থেকে জাটকা তৈরি হবে যা সংরক্ষণ করতে পারলে এ বছরে ৫ লাখ মে. টন এর বেশি ইলিশ উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। সরকার আগামী জাটকা মৌসুমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশে ইলিশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও ইলিশ রফতানি করা সম্ভব হবে বলে জানান এ ইলিশ গবেষক।

  • কর কার্যালয়ে মেলা শুরু : কর মেলার সব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে

    করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সুবিধার্থে দেশের সকল কর কার্যালয়ে রোববার থেকে শুরু হয়েছে আয়কর মেলা। চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। মেলার পরিবেশে এখানে সব ধরনের করসেবা পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম দিনেই ঢাকার কর কার্যালয়গুলোতে করদাতাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রিটার্ন জমা দিয়ে কর কার্ড পাওয়ার আশায় করদাতারা কর কার্যালয়ে ভিড় করছেন। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন বাসসকে বলেন, মেলার পরিবেশে কর কার্যালয়গুলোতে সব সুবিধা দেয়া হচ্ছে। যেসব করদাতা আয়কর মেলায় রিটার্ন জমা দিতে পারেননি,তারা এখানে এলে মেলার সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন,কর কার্যালয়ে ২০ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্নের প্রাপ্তি রসিদ দেখিয়ে ঢাকার করদাতারা কর কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে আগামী বছর দেশের অন্যান্য করাঞ্চলেও কর কার্ড পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য,এবারের কর মেলায় করদাতাদের ব্যাপক সমাগম হয়। এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা ও চট্টগ্রামের করদাতারা রিটার্ন দিলে কর কার্ড দেয়া হয়। এতে করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগ্রহের বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকার করদাতাদের জন্য কর কার্যালয়েও কর কার্ডের ব্যবস্থা করেছে এনবিআর। ৩০ নভেম্বর রিটার্ন জমার সময় শেষ হবে। এই সময়ে করদাতারা রিটার্ন দিতেই কর কার্যালয়ে ভিড় করে থাকেন।তাই প্রতিটি করাঞ্চলে করদাতাদের সহায়তার জন্য বুথ রাখা হয়েছে।এখানে ফরম পূরণে যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন), পুনর্নিবন্ধন, টিআইএনে ভুল-ত্রুটি সংশোধনসহ যেকোনো কর সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া নারী, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণ করদাতাদের বিশেষ যতেœ কর সেবা দেয়া হচ্ছে। অনলাইনে রিটার্ন জমা বা ই-ফাইলিং করার সুযোগ রয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো বেসরকারি চাকরিজীবীদের রিটার্ন দেয়া বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। তাই এবার তুলনামূলক বেশি রিটার্ন জমা পড়বে বলে আশা করছে এনবিআর। বর্তমানে ৩১ লাখ টিআইএনধারী আছেন। গতবছর সব মিলিয়ে ১৫ লাখের মতো টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেন।

  • আবাসন খাতে রাজস্ব জটিলতা থাকবে না : নজিবুর রহমান

    আবাসন শিল্প খাতে রাজস্ব সংক্রান্ত জটিলতা আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আবাসন খাতের সমস্যার সমাধানে এনবিআর রিহ্যাবে সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। ইতোমধ্যে এনবিআর এ খাতের ৮টি সমস্যা চিহ্নিত করেছে।এসব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে এই খাতে রাজস্ব সংক্রান্ত কোন জটিলতা আর থাকবে না।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে পূর্বানী হোটেলে ‘রিহ্যাব-এনবিআর’ যৌথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন, এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন ও পারভেজ ইকবাল, রিহ্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভুইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। নজিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা হলো দেশে যেসব সম্ভাবনাময় শিল্প রয়েছে সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া। সেই মোতাবেক এনবিআর আবাসন খাতের প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অগ্রাধিকারভিত্তিতে দেওয়া হবে; যাতে এ শিল্পের অমিত সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়। এনবিআর বৃত্তের বাইরে গিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা নিজেদেরকে বৃত্তের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। জনগণের কাছে আমাদের সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। এর অংশ হিসেবে গত পয়লা বৈশাখ রাজস্ব হালখাতা করা হয়েছে।আয়কর মেলায় নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মেলায় প্রথমবারের মত কর বাহাদুর পরিবার সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। রিহ্যাবের সহযোগিতা চেয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। এই আইন বাস্তবায়নে আগামী দুই বছর রিহ্যাব-এনবিআর যৌথভাবে কাজ করবে। যৌথভাবে প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা আয়োজন করা হবে।নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেন জটিলতা না থাকে এ জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। নজিবুর রহমান বলেন, কর ব্যবস্থাপনায় আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার করছি। সামরিক শাসন আমলে জারি করা বর্তমান কর আইন বা অধ্যাদেশ সংস্কার করে গণমূখী নতুন আয়কর আইন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতে এই আইন হচ্ছে। নতুন আয়কর আইনের ক্ষেত্রে রিহ্যাবের কোন পরামর্শ থাকলে, আপনারা লিখিতভাবে দিতে পারেন। এতে আবাসন খাতের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরে নজিবুর রহমান বলেন, পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।এর মধ্যে পল্লী আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন অন্যতম। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে রিহ্যাব কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল বলেন,আবাসন খাতের জন্য সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা চালু করার প্রয়োজন। এর জন্য রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমাতে হবে।সেকেন্ডারি বাজারে সর্বমোট রেজিস্ট্রেশন খরচ তিন শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি। তিনি জানান, প্রতিবছর ১৫ থেকে ১৭ হাজার ফ্ল্যাট হস্তান্তর হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। সেকেন্ডারি বাজার থাকলে রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে। রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, আবাসন খাতের উন্নয়নে করহার হ্রাস ও সরকারের নীতি সহায়তা বাড়াতে হবে। অর্থের অভাবে অনেক নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যথার্থ গৃহঋণ না থাকায় বিক্রিত ফ্ল্যাটের রিপ্লেসমেন্ট হচ্ছে না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, উচ্চ রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের ফলে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছে। এজন্য রাজস্ব আয়ও কম হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এ খাতকে এগিয়ে নিতে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় ও গেইন ট্যাক্স কমানো, সেকেন্ডারি বাজার তৈরি এবং স্বল্প সুদে বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানান তিনি। শাওন বলেন,রেজিস্ট্রেশন ব্যয় সাড়ে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ছয় শতাংশ করতে হবে।

  • প্রায় ৬০ লাখ মানুষ পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িত, বছরে বিনিয়োগ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা

    বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িত, যার প্রায় ৪০ শতাংশই নারী। অন্যদিকে, পোল্ট্রি শিল্পে বর্তমানে বিনিয়োগ ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। জিডিপি’তে এখাতের অবদান প্রায় ২ শতাংশ। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর সভাপতি মসিউর রহমান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘২০২১ সাল নাগাদ এখাতে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে’। সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬৫-৭০ হাজার ছোট-বড় খামার আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে দেশে বার্ষিক ডিম উৎপাদন ছিল ৬৩৯ কোটি, ২০১৫ সালে ৭১২ কোটি এবং ২০১৬ সালে ডিম উৎপাদন ছিল ৮২১ কোটি। ২০২১ সাল নাগাদ বার্ষিক ডিমের চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ৪৮০ কোটি। বিপিআইসিসি সভাপতি বলেন, ‘আমদানি নির্ভরত কাটিয়ে সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে দেশের পোল্ট্রি শিল্প। এই খাতে নিরব বিপ্লব হয়েছে। আশির দশকে এই খাতে বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১৫শ’ কোটি টাকা। বর্তমানে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে’। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে মুরগির মাংসের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৮৫১ মেট্রিক টন। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে মুরগির মাংসের উৎপাদন প্রতিবছর বাড়ছে উল্লেখ করে মসিউর রহমান জানান, মুরগীর মাংসের বার্ষিক উৎপাদন ২০১৪ সালে ছিল ৫ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০১৬ সালে ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। ২০২১ সালে দেশে মুরগির মাংসের চাহিদা হবে প্রায় ১২.৫ লাখ মেট্রিক টন। তিনি জানান, আগে ডিম এবং ব্রয়লার মুরগি আমদানি করতে হতো। এখন তা শূন্য। আগে হ্যাচিং ডিম আমদানি করতে হতো। আগে গ্রান্ড প্যারেন্টস্টক (জিপি) ফার্ম ছিল না পুরোটাই ছিল আমদানি নির্ভর। এখন বাংলাদেশে ৭টি ‘গ্রান্ড প্যারেন্টস্টক’ (জিপি) ফার্ম আছে। আর ‘প্যারেন্টস্টক’ বা পিএস ফার্মের সংখ্যা ছোট-বড় মিলে প্রায় ৮০টি। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়েই দেশের হ্যাচিং ডিমের শতভাগ চাহিদা পূরণ হচ্ছে। মসিউর রহমান আরও জানান, আগে আধুনিক ফিড ইন্ডাষ্ট্রি বলে কিছু ছিল না বিধায় শতভাগ প্যাকেটজাত ফিড আমদানি করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে প্যাকেটজাত ফিড আমদানি করতে হয় না। দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই শতভাগ চাহিদা পূরণ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১৮৬টি ফিডমিল গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে আধুনিক এবং নিবন্ধিত ফিড মিলের সংখ্যা প্রায় ৭০টি। বিপিআইসিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে (২০১৭) পোল্ট্রি ফিডের বাৎসরিক উৎপাদন প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ফিড মিলে উৎপাদিত হচ্ছে দেশের প্রায় ৯৫ ভাগ ফিড।আগে পোল্ট্রি শিল্পে প্রয়োজনীয় ভুট্টার প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হতো। এখন চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ ভুট্টা দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। চালের কুঁড়া বা রাইস পলিসও দেশীয়ভাবে পাওয়া যাচ্ছে। আগে দেশীয়ভাবে হাঁস-মুরগির তেমন কোন ঔষধ তৈরি হত না। পুরোটাই ছিল আমদানি নির্ভর। কিন্তু এখন প্রায় ৩০টি কোম্পানী দেশীয়ভাবে বিভিন্ন ঔষধ তৈরি করছে। ফলে আমদানি নির্ভরতা কমতে শুরু করেছে। বিপিআইসিসি সূত্রে আরো জানা যায়, বাংলাদেশে জনপ্রতি মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ বছরে মাত্র সাড়ে ৪ কেজি। অথচ উন্নত বিশ্বের মানুষ বছরে গড়ে প্রায় ৪৫-৫০ কেজি মুরগির মাংস খেয়ে থাকে। এফএও’র মতে জনপ্রতি নূন্যতম ডিম খাওয়া উচিত বছরে ১০৪ টি। উন্নত দেশগুলোতে জনপ্রতি গড়ে প্রায় ২২০ টির মত ডিম খাওয়া হয়। জাপানে জনপ্রতি ডিম খাওয়ার পরিমান বছরে প্রায় ৬০০টি। অথচ বাংলাদেশে বছরে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার হার বর্তমানে প্রায় ৭০টি। অনুরূপভাবে, মাছ ও মাংস মিলে বছরে প্রাণিজ আমিষ খাওয়া দরকার বছরে অন্ততঃ ২৫ থেকে ৩০ কেজি। কিন্তু বাংলাদেশে এর হার প্রায় ২৩ কেজি (মাংস ৮ কেজি, ১৫ মাছ)। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পোল্ট্রি শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে মুরগির ডিম ও মাংসই প্রাণিজ আমিষের সবচেয়ে বড় যোগানদাতা’। বিপিআইসিসি মুরগির ডিম ও মাংসকে অধিকতর নিরাপদ করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবশ্রেণীর মানুষের জন্য পোল্ট্রি সামগ্রীকে সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে গিয়ে আমাদের উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে বেড়ে গেছে’। পোল্ট্রি খাতের উপর থেকে কর ও শুল্ক হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু কনজুমার এবং কনজাম্পশন দু’টোই বাড়াতে চাই, তাই দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। এর মানে হচ্ছে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে’। তিনি এ শিল্পের ওপর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান। বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের সম্ভাবনা ও আগ্রগতি সম্পর্কে আশা প্রকাশ করে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আইনুল হক বাসস’কে বলেন, ‘সরকারের সহায়ক ভূমিকার কারণে গত একদশকে পোল্ট্রি খাত শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। এই শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ছে। বেকারত্ব দূরীকরণে এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে’। এ খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, পোল্ট্রি উদ্যোক্তাদের বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পোল্ট্রি উপকরণ আমদানিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। পোল্ট্রি ও প্রাণীসম্পদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘ডিআরএমডি’ প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top