• পোশাকশিল্পের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের অনুরোধ

    পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়ে এই আহ্বান জানায় জোটটি। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠনের পাশাপাশি যদি নিয়মিত পর্যালোচনার একটি ব্যবস্থা করা হয়, তবে সেটি পোশাক খাতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তা সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক খাতে যে অনভিপ্রেত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে, তা-ও এড়ানো যাবে। এ ধরনের পরিস্থিতি শিল্পের ভাবমূর্তি ও আস্থা ক্ষুণ্ন করে, যা সরকারসহ সবাই কঠোর পরিশ্রম করে অর্জন করেছে। ১২ জানুয়ারি অ্যাকর্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই চিঠি দিয়েছে। অ্যাকর্ডের পক্ষে চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ। বৃহস্পতিবার চিঠির অনুলিপি নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে অ্যাকর্ড। সেই চিঠির অনুলিপি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমানকে দিয়েছে সংস্থাটি। মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত মাসে আশুলিয়ায় পোশা৬কশ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার ৫৯ কারখানা চার দিন বন্ধ থাকে। এ সময় আন্দোলন করার অজুহাতে অনেক শ্রমিককে ছাঁটাই করে কয়েকটি কারখানার কর্তৃপক্ষ। কয়েক হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা হয়। পুলিশের হাতে বেশ কয়েকজন শ্রমিকনেতা গ্রেপ্তার হন। এই প্রেক্ষাপটেই অ্যাকর্ড প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের পর দেশের পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ইউরোপীয় ২২০ ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা এবং দেশি-বিদেশি শ্রমিক সংগঠনের চুক্তির মাধ্যমে অ্যাকর্ড গঠিত হয়। পরিদর্শনের মাধ্যমে পোশাক কারখানার অগ্নি, ভবন ও বৈদ্যুতিক ত্রুটি চিহ্নিত করে অ্যাকর্ড। তারপর সংস্থার তত্ত্বাবধানে ত্রুটি সংশোধন করে কারখানাগুলো। অ্যাকর্ডের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স একইভাবে কাজ করছে। চিঠিতে অ্যাকর্ড বলেছে, গত তিন বছরের বেশি সময়ে অ্যাকর্ডের অধীনে দেশের পোশাকশিল্প নিরাপত্তা ইস্যুতে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে গত মাসের আশুলিয়ার ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বেগ জানিয়ে অ্যাকর্ড বলেছে, সম্প্রতি যাঁদের আটক ও ছাঁটাই করা হয়েছে, তাঁরা শ্রমিক অধিকারে সোচ্চার। বিশ্বস্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে কমপক্ষে ১৪ জন আটক বা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন পুলিশি হেফাজতে আছেন। দু-তিনজনকে মারধর করা হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া আশুলিয়ার শ্রমিক-অসন্তোষে সাত শতাধিক শ্রমিকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আছে এবং তাঁরা সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের হুমকির মধ্যে আছেন। দেশের শ্রম ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী দেশের শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় শিগগিরই ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছে অ্যাকর্ড। একই সঙ্গে শ্রমিকদের যদি অন্যায়ভাবে আটক ও ছাঁটাই এবং মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি। অ্যাকর্ডের পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত এইচঅ্যান্ডএমসহ ২০টির বেশি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান পোশাকশিল্পের মজুরি পর্যালোচনার জন্য অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মিলিতভাবে একটি চিঠি দিয়েছে। এতে আশুলিয়ার সাম্প্রতিক শ্রমিক-অসন্তোষের বিষয়টি উল্লেখ করে শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণের অনুরোধ করা হয়। পোশাক খাতে সর্বশেষ ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মজুরি বাড়ে। সে সময় খাতটির ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী, মজুরি ঘোষণার এক বছর পর ও তিন বছরের মধ্যে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সুযোগ আছে। পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠিত হবে। অ্যাকর্ডের চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠন করার আহ্বান জানানোর কোনো এখতিয়ার অ্যাকর্ডের নাই। কারণ, তাদের কার্যক্রম কেবলমাত্র পোশাক কারখানা পরিদর্শন ও তত্ত্বাবধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ।’ এইচঅ্যান্ডএমসহ অন্য ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের চিঠির বিষয়ে মোহাম্মদ নাছির বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের পোশাকের দাম বাড়াতে অনুরোধ করছি। তারা পোশাকের দাম এক সেন্ট বাড়ায়নি, বরং কমিয়েছে। উল্টো গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কারখানার মান উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের চাপ আছে মালিকদের ওপর।

  • পোশাক রফতানি ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে: বিজিএমইএ সভাপতি

    অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ২০২১ সাল নাগাদ পোশাক রফতানি আয় ৬০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে মনে করেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ইউরোপ এবং আমেরিকার ক্রেতাদের তত্ত্বাবধানে পোশাক খাতের সংস্থার চলছে। ফলে চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তা এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ মুহূর্তে অবকাঠামো উন্নয়নে বিদ্যুত সরবরাহ লাইনের দুর্বলতা কাটানো এবং প্রস্তাবিত ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামে পোশাক খাতের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দ্রুততম সময়ে এ ব্যবস্থা করা না হলে সংকট তৈরি হবে। কারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে দশ বছর লেগে গেলে তখন আর বিনিয়োগকারী পাওয়া যাবেনা। ঢাকা অ্যাপারেল সামিট উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার এসব কথা বলেন তিনি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম সামিট চট্রগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সামিটের প্রতিপাদ্য ছিল দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে পোশাক খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি পথ নকশা করে বিজিএমইএ। গত দুই বছরে সেই নকশা অনুযায়ী, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের চার লেনে উন্নীত হওয়াসহ অনেক কাজ এগিয়েছে বলে দাবি করেন সিদ্দিকুর রহমান। সেই সুবাদেই ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বিজিএমইএ সভাপতি।

  • ফুলবাড়ী সেটেলমেন্ট অফিসে অনিয়ম দূর্নীতি

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সেটেলমেন্ট অফিসে দালাল ফড়–য়াদের তৎপরতা বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। অনিয়ম দূর্নীতি, দেখার কেউ নেই। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সেটেলমেন্ট অফিসে এক যুগ ধরে চলছে জমি জমার মাঠ পর্চার কাজ। ৩০ ধারা, শুনানিতে বাদি বিবাদির নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। কাগজ বৈধ থাকলেও তাদেরকে মাসের পর মাস হয়রাণি করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে না মাঠ পর্চা। আবার অনেকে অবৈধ জাল দলিলের কাগজপত্র জমা দিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছে উৎকোচের বিনিময়ে। দীর্ঘ ১ যুগ ধরে ফুলবাড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জরিপের কাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই চলছে অনিয়ম দূর্নীতি। বর্তমান বেশকিছু ইউনিয়নে মাঠ পর্চার কাজ চলছে। মাঠ পর্চার কাজে বাদী বিবাদীরা কেউ ৩০ ধারায় আবেদন করেছে। যার কাগজপত্র ঠিক আছে তাকেও হয়রাণি করছে। অপরদিকে সেটেলমেন্ট অফিসের কতিপয় দালাল, অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিবাদীকে মাঠ পর্চা দেওয়ায় দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। অযথা সাধারণ মানুষকে হয়রাণি করা হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভূগিরা। জানাযায়, ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউপির চককবির গ্রামের হরিপদ পালের স্ত্রী বুলবুলি রাণীর চককবির মৌজার ১৬৬ খতিয়ান ১.১৩ একর জমির ৩টি পর্চার আলাদা আলাদা খতিয়ান করে পর্চা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ২৩/০১/২০১৭ ইং তারিখে ফুলবাড়ী সেটেলমেন্ট অফিসের মোঃ মোশররফ হোসেন ৩ হাজার টাকা নিয়ে আলাদা খতিয়ান খুলে পর্চা না দিয়ে পুরাতুন খতিয়ানে অংশ বসিয়ে দেন। এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার বুলবুলি রাণি পালের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, উক্ত অফিসের মোঃ মোশাররফ হোসেন পৃথক পৃথক পর্চা দেওয়ার কথা বলে  ৩ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। কিন্তু একই পর্চায় সবার নাম দেন। উক্ত সেটেলমেন্ট অফিসে এলাকার শত শত মানুষ দালাল খপ্পরদের পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। বর্তমান উক্ত সেটেলমেন্ট অফিসে শিবনগর ইউপির সদস্য মজনু হক, মোঃ মোশাররফ হোসেন, বেতদিঘী ইউপির মোঃ আব্দুল আলিম, খয়েরবাড়ী ইউপির শ্রী লিটন কুমার সহ আরও বেশ কয়েকজন দালাল রিতিমত টাকার বিনিময়ে অবৈধকে বৈধ আর বৈধকে অবৈধ করে দিচ্ছেন। এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর রয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলার অনেকে কয়েক যুগ আগে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতে বা পাকিস্থানে চলে গেছেন এবং অনেকে মারা গেছেন তাদের নামের জমির জাল দলিল সৃষ্টি করে প্রভাবশালীরা মাঠ পর্চা নিয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে।     এছাড়া উক্ত অফিস থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন জমি জমার মালিক কে ৩০ ধারা শুনানিতে নোটিশ প্রদান করে। তারা নোটিশ পাওয়া মাত্র সেটেলমেন্ট অফিসে এলে তাদের কে হাজিরা দিতে হয়। এ সময় প্রতি নোটিশের হাজিরায় ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগ করেছেন সুলতানপুর গ্রামের প্রদীপ, সুনিল চন্দ্র, মধ্য সুলতান পুরের বুলবুল সহ অনেকে। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী সহ কারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ আফসার আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, উক্ত অফিসে কর্মরত তারা কেউ এই অফিসের নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মচারী নয়। তারা আমাদেরকে সহযোগীতা করেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে ফুলবাড়ী সেটেলমেন্ট অফিসে কর্মরত বেশ কয়েকজন দালাল অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। তাদের কারণে সাধারণ মানুষ উক্ত অফিসে সুষ্ঠু ভাবে কাজ করতে পারছে না। তাদের মাধ্যমে উৎ কোচের টাকা চলে যায় কর্মকর্তাদের পকেটে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা দালাল ও দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • ২০৪১ সাল নাগাদ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ ২০৪১ সাল নাগাদ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ২০৩০ ও পরবর্তী অর্থনীতি শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। যেখানে সেখানে শিল্প গড়ে উঠবে না। এতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এছাড়া বাংলাদেশকে উন্নত অর্থনীতির দেশ গড়ার জন্য সরকার সুদূরপ্রসারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এমডিজি অর্জনে যেমন সফলতা অর্জন করেছি তেমনি এসডিজি অর্জনেও সফলতা অর্জন করব। এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। আশা করি, এসডিজি অর্জনের আমরা রোল মডেলে পরিণত হবো। তিনি জানান, ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। কেউ অন্ধকারে থাকবে না। দারিদ্র্যের সীমা আমরা কমিয়ে এনেছি, আরও কমানো হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় ১২ হাজার ৬০০ ডলারে উন্নীত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়তে একসঙ্গে কাজ করি।

  • ফুলবাড়ীতে হিরোইনসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে থানা পুলিশের হাতে হিরোইন সহ ১ মাদক ব্যবসায়ী আটক। গত বুধবার দিবাগত রাতে, সোয়া এক গ্রাম হিরোইন সহ নির্মল চন্দ্র (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে । পুলিশের হাতে আটক, মাদক ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র, পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ড এলাকার কাটাবাড়ী গ্রামের মৃত নিতাই চন্দ্র রায় এর পুত্র। এই ঘটনায় ফুলবাড়ী থানার এসআই এসরাকুল বাদি হয়ে ১৯৯০ সালের বিশেষ ক্ষমতা বলে, ওই দিনে ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোকসেদ আলী বলেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১০ টায়, পৌর এলাকার কাটাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে, সোয়া এক গ্রাম হেরোয়িনসহ ধৃত নির্মল চন্দ্রকে আটক করা হয়।

  • আটোয়ারীতে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

    পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে উপজেলা কৃষি দপ্তরের আয়োজনে গতকাল সোমবার (১২ ডিসেম্বর) তোড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য দাড়খোর আইএফএমসি কৃষক মাঠ স্কুলে জাঁকজমকপুর্ণভাবে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার আদর্শ কৃষক মোঃ ইয়াকুব আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করে করে কৃষকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শামীম ইকবাল স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ২০ জুন ২০১৬ থেকে ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত ৬ মাসে ৪৭ টি সেশনে ৫০ জন কৃষক-কৃষাণীকে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষন দেয়া হয়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ধানচাষ, বসতবাড়ির বাগান, গরু পালন, মাছ চাষ, মুরগী পালন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বকব্য দেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মোছাঃ নুরজাহান খাতুন। আলোচনা শেষে প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র সহ পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কৃষক মাঠ স্কুলের ফ্যাসিলিটেটর মোঃ আব্দুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তা- কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, এলাকার কৃষক-কৃষাণী সহ গণমাধ্যম কর্মীগন উপস্থিত ছিলেন।

  • ৪৯ লাখ ৯ হাজার টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৪৯ লাখ ৯ হাজার ৯৭৬ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক করেন। গত পহেলা নভেম্বর থেকে ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত ২৯ বিজিবি তার আওতায় সকল এলাকায় অভিযান চালিয়ে উল্লেখ্য টাকার মালামাল আটক করেন। এর মধ্যে আন্তমুখী ৪৯ লাখ ৮১ হাজার ৪৯৬ টাকা বহিমুখী ১২ হাজার ৪৮০ টাকা। আসামি পলাতক ৩ জন, আসামী আটক ৬ জন। মোট মামলা ২০৪টি। মালিক বিহীন সহ ৫টি। মালিকবিহীন ১৯৯টি। আটককৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে শাড়িকাপড়, ফেন্সিডিল, প্যাথড্রিন, ইনঞ্জেকশন, গরু, স্টীলের থালাবাসন, কসমেটিক, বিভিন্ন মাদক ইত্যাদি। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ কোরবান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সীমান্তে চোরাচালান দমনে সীমান্তে বিজিবি দিনরাত কাজ করছে। সীমান্তে নারী, শিশু ও চোরাচালান বন্ধ কল্পে সকল বিওপির দায়িত্বরত সদস্যদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রায় শূন্যের কোটায় এসেছে।

  • এবি ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর হাতে কম্বল তুলে দিলেন

    দেশের শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে তাদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে এবি ব্যাংক লিমিটেড ২৫,০০০ কম্বল দিয়েছে। গত ৮ ডিসেম্বর রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে কম্বল তুলে দেন এবি ব্যাংকের পরিচালক এম. এ আওয়াল এবং সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন।

  • গুলশান-বনানী-বারিধারা: আবাসিক প্লটকে বাণিজ্যিক বৈধতা দিচ্ছে রাজউক!

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: হলি আর্টিজান হামলার পর নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজধানীর অভিজাত গুলশান, বনানী ও বারিধারার আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১৩ হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের নোটিসও দেয় সংস্থাটি। যদিও সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে রাজউক। আয় বাড়াতে নির্ধারিত ফির বিনিময়ে ভূমি ব্যবহারের শ্রেণী পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে তারা। রাজউকের সর্বশেষ বৈঠকে কাঠাপ্রতি ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব প্লট বাণিজ্যিক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও রাজউক চাইলেই ফির বিনিময়ে ইচ্ছামতো ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে পারে না বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা বলছেন, একটি শহর গড়ে ওঠার সময় তার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় বিন্যস্ত করা হয়। এ ধরনের শ্রেণী পরিবর্তনের আগে গণশুনানির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসরতদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাছাড়া এর সঙ্গে কূটনৈতিক পাড়ার নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। গত ১ জুলাই গুলশানে জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদেশী কূটনীতিকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তল্লাশি বাড়ানো হয় গুলশান, বনানী ও বারিধারার প্রবেশমুখগুলোয়। পুলিশের নিরাপত্তাচৌকির পাশাপাশি দেয়া হয় কাঁটাতারের ব্যারিকেড। যানবাহনও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ এলাকার জন্য নামানো হয়েছে আলাদা বাস ও রিকশা। অস্থায়ী দোকানপাট তুলে দেয়া হয়েছে, উচ্ছেদ করা হয়েছে হকার। গুরুত্বপূর্ণ ৩০০ পয়েন্টে বসানো হয়েছে ৬৫০টি সিসি ক্যামেরা। রাজউকও আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। যদিও গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে বলে এখন দাবি করছে রাজউক। যুক্তি হিসেবে তারা বলছে, কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই এত দিন এসব এলাকার আবাসিক প্লট বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হচ্ছিল। এগুলোর বৈধতা দিলে রাজউকের রাজস্ব বাড়বে। যোগাযোগ করা হলে রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) আবদুর রহমান বলেন, বেশকিছু সড়কে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা দিতে চাই আমরা। বোর্ডের সর্বশেষ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আমরা সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। মন্ত্রণালয়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ২০০৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গুলশান শুটিং ক্লাব থেকে গুলশান ২ নম্বর চত্বর পর্যন্ত; বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, গুলশান-বনানী সংযোগ ব্রিজ থেকে গুলশান-বারিধারা ব্রিজ পর্যন্ত এবং গুলশান-মহাখালী ব্রিজ থেকে বাড্ডা লিংক রোড (গুলশান দক্ষিণ এভিনিউ) পর্যন্ত উভয় পাশের প্লট বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহারে রাজউকের অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া বনানী ১১ নম্বর সড়কের উভয় পাশের প্লটগুলো বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে। তবে এগুলোর বাইরে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বিভিন্ন সড়কে বিপুল সংখ্যক আবাসিক প্লট রাজউকের অনুমোদন না নিয়েই বাণিজ্যিক ব্যবহার হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়াই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় কোনো ফি পাচ্ছে না রাজউক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজউকের অনুমোদন না নিয়েই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে গুলশান আবাসিক এলাকার ৪১ নম্বর সড়কের (৩৫ নম্বর সড়ক সংযোগস্থল থেকে পশ্চিম প্রান্তে গুলশান বনানী-লিংক রোড ব্রিজের উভয় পাশ পর্যন্ত) তিনটি প্লট। ৯৬, ১০৪ ও ১১৩ নম্বর সড়কের উভয় পাশে ৮৫টি প্লটের মধ্যে ১৮টি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে। বনানী আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কে (৪ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল থেকে ১২ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত দক্ষিণ পাশ) প্লট রয়েছে ৩৫টি। এর মধ্যে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে ২৯টি। ১০ নম্বর সড়কের (কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর সংযোগস্থল থেকে ১১ নম্বর সড়কের সংযোগ পর্যন্ত দুই পাশ) ২১টি প্লটের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে ১৮টি। ১২ নম্বর সড়কের (কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর সংযোগস্থল থেকে ১১ নম্বর সড়কের সংযোগ পর্যন্ত দুই পাশ) ২১টি প্লটের মধ্যে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে ১৭টি। বনানী ২৭ নম্বর সড়কে (কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর সংযোগস্থল থেকে বিমানবন্দর সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত দুই পাশ) প্লট রয়েছে মোট ৫১টি, যার মধ্যে ৩০টি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া বারিধারা আবাসিক এলাকায় ব্লক জেতে (প্রগতি সরণি-সংলগ্ন পূর্ব পাশের প্লট) প্লট রয়েছে ৫২টি। এর মধ্যে ৪৫টিই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। রাজউক বলছে, গুলশান, বনানী ও বারিধারা আবাসিক এলাকার এসব সড়কের অধিকাংশ প্লটই অনুমোদন না নিয়ে বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ এসব প্লট বাণিজ্যিক হিসেবে ঘোষণা করলে রাজউকের রাজস্ব বাড়বে। তবে কেবল রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পরিকল্পনার মূল বিষয় হতে পারে না বলে মনে করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের স্বার্থে ভূমির যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুলশান, বনানী ও বারিধারা আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। এ কারণে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ অভিযানও শুরু করে রাজউক। এখন অর্থের বিনিময়ে আবাসিক প্লট বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হলে তা হবে স্ববিরোধী। তাই রাজউককে অবশ্যই তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ সমীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভূমি ব্যবহারের শ্রেণী ইচ্ছামতো পরিবর্তনের সুযোগ নেই। গত ১ জুলাই গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিভিন্ন মহল থেকে মত আসে। ভূমি ব্যবহারের শ্রেণী পরিবর্তন করে গুলশান, বনানী ও বারিধারার আবাসিক প্লট বাণিজ্যিক ব্যবহারের বৈধতা দিলে নিরাপত্তার জন্য তা হুমকি হবে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিবাধারার আবাসিক এলাকায় আগে থেকে যেভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে, জমির শ্রেণী পরিবর্তনের পরও সেভাবেই তা ব্যবহার হবে। কাগজপত্রে পরিবর্তন হলেও বাস্তবে কার্যক্রম একই থাকছে। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য তা কোনো হুমকি হবে না। কারণ প্রত্যেকটি বাড়ি কিংবা মার্কেট বা শপিং মলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: বণিক বার্তা

  • ২ টাকার লবণ হাত ঘুরে প্রক্রিয়াজাত শেষে ৪০ টাকা

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: অপরিশোধিত লবণ বা লবণের কাঁচামালের প্রায় শতভাগ আমদানি হয় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে। আমদানিকৃত এসব লবণ বাংলাদেশের বন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসার পর টনপ্রতি দাম পড়ে সর্বনিম্ন ২০ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২৫ ডলার। সে হিসাবে বন্দরে পৌঁছানো পর্যন্ত কেজি প্রতি লবণের দাম পড়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৯৫ পয়সা। কিন্তু হাত বদল হয়ে এ লবণ পরিশোধন মিল পর্যন্ত আসতে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ২২ পয়সা। এর পর প্রক্রিয়াজাত শেষে ভোক্তাদের কাছে প্রতি কেজি লবণ বিক্রি করা হয় ৪০-৪২ টাকায়। নারায়ণগঞ্জের লবণ আমদানিকারকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি অপরিশোধিত লবণে ভ্যাট দিতে হয় ১১৬ শতাংশ। এ লবণ চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ পৌঁছাতে ৭৪ কেজির বস্তায় পরিবহন ভাড়া দিতে হচ্ছে ৭০ টাকা, নদীর ঘাটে দেয়া হচ্ছে বস্তাপ্রতি ৫ টাকা, ঘাট থেকে গুদামে পৌঁছাতে শ্রমিককে দেয়া হচ্ছে বস্তাপ্রতি ১০ টাকা এবং বস্তা কিনতে ব্যয় হচ্ছে ১০ টাকা। সব মিলে ৭৪ কেজির এক বস্তা লবণ নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছাতে মোট ব্যয় হচ্ছে ৪৬০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজি লবণের কাঁচামালের দাম পড়ে ৬ টাকা ২২ পয়সা। লবণের কাঁচামাল অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হওয়ার কথা স্বীকার করেন নারায়ণগঞ্জ লবণ আড়তদার মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মামুন-উর-রশিদ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে লবণের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি থাকায় সরকার তিন দফায় আড়াই লাখ টন লবণ আমদানির সুযোগ দেয়। এ লবণের কাঁচামাল ১৬ টাকায় বিক্রি হওয়াটা অস্বাভাবিক। কাঁচামাল বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা অস্বাভাবিক মুনাফা করছেন বলে মনে করেন তিনি। এদিকে কক্সবাজারের লবণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কৃষক পর্যায়ে বর্তমানে প্রতি কেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ১১ টাকা ২৫ পয়সা। আর মধ্যস্বত্বভোগী পর্যায়ে ১১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সায়। আর ম্যানুয়াল মিলাররা প্রতি কেজি লবণ বিক্রি করছেন ১২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১৪ টাকায়। অথচ অটোমিলাররা প্রতি কেজি লবণ বিক্রি করছেন ৩৫-৪০ টাকায়, যা রাজধানীর বাজারে খুচরা পর্যায়ে ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্যাকেটজাত লবণ উত্পাদন করছে এমন উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে— এসিআই সল্ট লিমিটেড, ইউনাইটেড সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, পূবালী ভ্যাকুয়াম ইভ্যাপোরেটেড সল্ট প্লান্ট, ডায়না ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড, মোল্লা সল্ট (ট্রিপল রিফাইন্ড) ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ক্রিস্টাল, মধুমতিসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। দেশে লবণ বাজারজাত হচ্ছে ভ্যাকিউম, মেকানিক্যাল ও সনাতন এ তিন পন্থায় পরিশোধন হয়ে। ভ্যাকিউম, মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে পরিশোধিত হয় ৬০ শতাংশ লবণ। এ দুই পন্থায় বাজারজাত হওয়া লবণের বাজারে ৮০ শতাংশ দখল করে আছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩০। এদিকে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন বলছে, ভারত থেকে প্রতি কেজি লবণ ৮০ পয়সায় কেনা হয়। ট্রেড ভ্যালু কেজিপ্রতি আরো ৮০ পয়সা, ৯২ শতাংশ শুল্ক এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সব খরচ মিলে কেজিপ্রতি লবণের কাঁচামাল সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ টাকার উপরে হবে না। লবণ মিল মালিক সমিতি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে কেনা লবণের সঙ্গে যৌক্তিক কিছু খরচ যোগ হয়। এর মধ্যে আছে জাহাজ ভাড়া, পরিবহন খরচ, সরকারি কর। এসব খরচ যোগ করে কেজিপ্রতি অপরিশোধিত লবণের দাম সর্বোচ্চ ৫ টাকা হতে পারে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫ টাকায়। মূলত এর পেছনে আছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজি। লবণ আমদানিতে সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে এ অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের প্রকাশ ঘটছে। আমদানির অনুমোদন পাওয়া নামসর্বস্বরাই অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। আর এ প্রবণতার দরুন অস্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে বাজারজাতকৃত লবণের দাম। জানা গেছে, সরকার চলতি মৌসুমে মোট ২৪১টি প্রতিষ্ঠানকে ভোজ্য ও শিল্প লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ৭০-৮০টি প্রতিষ্ঠানের লবণ পরিশোধনের মিল রয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো নামসর্বস্ব। সরকার প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৬১৯ টনের বেশি লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। অর্থাত্ যাদের মিল আছে এবং যারা নামসর্বস্ব উভয় ধরনের ব্যবসায়ী— একই পরিমাণ লবণ আমদানির অনুমোদন পেয়েছে। যদিও যাদের মিল আছে, তারা ৬১৯ টনের দ্বিগুণ লবণ পরিশোধনের সক্ষমতা রাখে। মিল সচল রাখতে বাধ্য হয়ে তারা অন্য আমদানিকারকের থেকে বেশি দামে কাঁচামাল বা অপরিশোধিত লবণ কিনছেন। অতিরিক্ত দাম দিয়ে কেনা অপরিশোধিত লবণ পরিশোধনের পর তা বিক্রিও হচ্ছে অস্বাভাবিক দামে। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন, লবণ আমদানির পর কিছু যৌক্তিক খরচ যোগ হয়। এটি তেমন কোনো সমস্যা তৈরি করে না। কিন্তু লবণ আমদানির অনুমোদন যারা পেয়েছেন, তাদের মধ্যে ৭০-৮০টি ছাড়া বাকিরা সবাই নামসর্বস্ব। যদিও সমপরিমাণ লবণ আমদানির অনুমোদন পেয়েছে সবাই। অনুমোদন পাওয়া আমদানিকারকদের মধ্যে যাদের বিপুল পরিমাণ পরিশোধন ক্ষমতা আছে, তারা পড়ছেন বিপাকে। মিল চালু রাখতে বাধ্য হয়েই নামসর্বস্বদের কাছ থেকে ক্রুড লবণ কিনছেন। আর সুযোগ বুঝে নামসর্বস্বরা ৫ টাকার পণ্য ১৫ টাকায় বিক্রি করছেন। এভাবেই আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে লবণের কাঁচামালের মূল্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সহসভাপতি সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যে দামে কিনে লবণ আমদানি করা হয়, তার সঙ্গে অনেক খরচ যোগ হয়। এর মধ্যে আছে জাহাজীকরণ ব্যয়, কর, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি। তবে দামের অস্বাভাবিক পর্যায় সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতায়। এ প্রবণতার কারণেই লবণের মূল্য বর্তমানে অস্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, প্রতি কেজি লবণ উত্পাদন থেকে আয়োডিন মেশানো, প্যাকেজিং ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসাব করলে সর্বোচ্চ ৮ টাকার বেশি হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অথচ বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ বিক্রি হচ্ছে ২৮-৪২ টাকায়। এতে একদিকে কৃষক উত্পাদন করে ঠকছেন, অন্যদিকে ভোক্তাকেও অতিরিক্ত দামে তা কিনতে হচ্ছে। বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, বছরে লবণের চাহিদা রয়েছে ১৬ লাখ টন। এর মধ্যে খাবার লবণ আট লাখ টন এবং শিল্পে ব্যবহূত বাকি আট লাখ টন। ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত দেশে লবণ উত্পাদন হয়েছে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার টন। এর মধ্যে খাবার লবণ উত্পাদন হয়েছে ৮ লাখ ৩৫ হাজার টন। নতুন লবণ নীতিতে ২০১৬-২০ সাল পর্যন্ত ভোজ্য লবণের চাহিদা নির্ণয় করা হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক জনপ্রতি ভোজ্য লবণের চাহিদা ১৪ দশমিক ৫ গ্রাম। এ হিসাবে বার্ষিক চাহিদা নির্ণয় করা হয়েছে। তবে ভোজ্য লবণের পরই শিল্প লবণ বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে বার্ষিক ভোজ্য লবণের চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৪৮ হাজার টন, শিল্প লবণের চাহিদা ৩ লাখ ৪৮ হাজার টন, মত্স্য প্রক্রিয়াজাত লবণের চাহিদা ৬৯ টন এবং প্রাণী খাতে ব্যবহূত লবণের চাহিদা ২ লাখ ২ টন। সূত্র: বণিক বার্তা

  • পুঁজিবাজারের ভালো দিন সামনে: অর্থমন্ত্রী

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রয়েছে দাবি করে সামনে ‘ভালো দিনের’ আশা দেখিয়েছেন। বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্য অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। মুহিত বলেন, গত কয়েকবছরে পুঁজিবাজারে অনেক সংস্কার হয়েছে। পুঁজিবাজার এখন স্থিতিশীল ও মজবুত ভিত্তি পেয়েছে। এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। “এ সরকারের আমলেই পুঁজিবাজার ভালো অবস্থানে যাবে। আমার ধারণা ২০১৮ সালে পুঁজিবাজার ভালো করবে।” পুঁজিবাজার নিয়ে নিজের বিরূপ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মুহিত বলেন, “পুঁজিবাজার নিয়ে অনেক দিন কোনো মন্তব্য করিনি, পুঁজিবাজার আমাকে বড় কষ্ট দিয়েছে। “আমার খারাপ লাগে পুঁজিবাজারের বড় দুটি ধস হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, অথচ আওয়ামী লীগ সরকারই পুঁজিবাজারের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে।” তবে দেরিতে হলেও এখন পুঁজিবাজারে নিয়ম-কানুন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা নিয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনও ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিএলসি ইনভেস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।

  • ফার্নেস অয়েল কালোবাজারে বিক্রির শংকা

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: শুল্কমুক্ত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি পাচ্ছে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকরা। একই সঙ্গে তারা হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ৯ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জের অর্থ ফেরত পাবেন। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগ প্রয়োজনীয় অনুমতি দেবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তেল আমদানির জন্য বর্তমান আইন সংশোধনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া সরকারি কেন্দ্রের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডও (পিডিবি) জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে (বিপিসি) বাদ দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি আমদানি করা যাবে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত জ্বালানি অন্য কোথাও ব্যবহার, বিক্রি বা পাচার হচ্ছে কিনা তা মনিটরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফলে এ খাতে ব্যাপক লুটপাটের আশংকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে সরকারের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে তেল এনে তা কালোবাজারে বিক্রি করতে পারে। গভীর সমুদ্র বন্দর থেকেও লাইটার জাহাজের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতে পারে কোটি কোটি টাকার তেল। দেশে তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা মোট ৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ১৮ ও বেসরকারি ২৭টি। এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য দৈনিক ৯১৮৩ মেট্রিক টন জ্বালানির প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে সরকারি ২৫৫৮ মেট্রিক টন এবং বেসরকারি কেন্দ্রের জন্য ৬৬২৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে অধিকাংশই ফার্নেস অয়েল। আগামীতে নতুন কেন্দ্র অনুমোদন দেয়া হলে চাহিদা আরও বাড়বে। চাহিদার সিংহভাগ তরল জ্বালানি বেসরকারি পর্যায়ে শুল্কমুক্ত আমদানি হবে। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪টি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ফার্নেস অয়েল আমদানি করে সাড়ে ৯ লাখ টন। আর বিপিসি আমদানি করে ৫ লাখ টন। চলতি ২০১৬ সালের ৪ মাসে বিপিসি আমদানি করেছে ৬০ হাজার টন। অন্যদিকে আইপিপিগুলো আমদানি করে ৪ লাখ টন। বিপিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তার প্রশ্ন- তাহলে এই তেল গেল কোথায়? চার মাসে সব বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল প্রয়োজন। সেখানে এরই মধ্যে আমদানি করা হয়েছে ৪ লাখ টন। এতে স্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অসৎ কর্তৃপক্ষ মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে ফার্নেস অয়েল আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করছে। এ অবস্থায় তারা ডিজেল আমদানির সুযোগ পেলে তা বাইরে বিক্রি করবে। বিপিসির ওই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এতে সরকার নিয়মিতভাবে বড় ধরনের রাজ্য হারাবে। বিদ্যুৎ নিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। সূত্র জানায়, ২৯ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহারের জন্য তরল জ্বালানি আমদানির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মালিকদের হাতে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পরিচালনার জন্য স্পন্সর কর্তৃক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল (ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল) আমদানির ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইপূর্বক প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রদানের জন্য ১৬ অক্টোবর নির্দেশ দেয়া হয় বিদ্যুৎ বিভাগকে। একই সঙ্গে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য তেল আমদানির অনুমতি দেয়া হয় পিডিবিকে। ওই সভাতেই সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তেল আমদানির জন্য বর্তমান আইন সংশোধনের কথা বলা হয়। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়। সভায় বলা হয়, বর্তমানে দেশে ১০৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে তরল জ্বালানিভিত্তিক (হাই স্পিড ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল) বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৫টি। এর মধ্যে সরকারি ১৮টি আর বেসরকারি ২৭টি। শিগগিরই তেলভিত্তিক আরও ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আসছে। এজন্য ৩১টি কোম্পানিকে যোগ্য বিবেচিত করা হয়েছে। সরকারি খাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৩৪৪ মেগাওয়াট আর বেসরকারি খাতে ২ হাজার ৩১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রয়েছে। সভায় বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি এক পত্রে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানায় নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রাথমিকভাবে বিপিসি তেল সরবরাহ করলেও ভবিষ্যতে এসব প্ল্যান্ট নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তেল আমদানি করতে পারবে। ওই সময় বিদ্যুৎ বিভাগকে এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ এতদিন এই নির্দেশনা কার্যকর করেনি। এ কারণে ২৯ সেপ্টেম্বরের সভায় পিডিবির আওতাধীন তরল জ্বালানিভিত্তিক সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেল আমদানির জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সরবরাহকারী নির্বাচন করে তাদের কাছ থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু জ্বালানি বিভাগ তা বাস্তবায়ন করেনি। এই অবস্থায় ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় চিঠি দিয়ে আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ ওই চিঠিও আমলে না নিয়ে ১৭ এপ্রিল বিপিসিকে জানিয়ে দেয় তাদের সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি বিপিসি থেকে কিনতে হবে। একইভাবে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকেও আগের মতো তাদের প্রয়োজনীয় ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল বিপিসির কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে বলে জানিয়ে দেয়। এই অবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকরা আবারও সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে তাদের আগের আবেদন বিবেচনার অনুরোধ জানায়। বৈঠকে বিদ্যুৎ সচিব জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য তেল আমদানির অনুমতির ক্ষমতা বিদ্যুৎ বিভাগকে দেয়া হলেও পেট্রোলিয়াম আইন-২০১৬ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন আইন-২০১৬ অনুযায়ী জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষমতা বিপিসির ওপর ন্যস্ত। তাই এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও নিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনেও সংশোধনী আনতে হবে। সচিব আরও বলেন, ২০১১ সালের পত্রে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হলেও বর্তমানে বিপিসি তাদের স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি অনেক বৃদ্ধি করেছে বিধায় আমদানির ক্ষেত্রে অনাপত্তি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। তবে বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ায় নতুন আইন প্রণয়ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ জ্বালানি তেল আমদানি করলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না বলেও জানায়। এরপর সভায় সিদ্ধান্ত হয় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পরিচালনার জন্য স্পন্সর কর্তৃক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেবে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মূলত সরকারকে চাপে ফেলে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকরা তেল আমদানির অনুমতি বাগিয়ে নিয়েছে। এপ্রিল মাসেও নৌ-ধর্মঘটের কারণে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ডিজেল আমদানির অনুমতি দিতে সরকারকে চাপ দিয়েছিল। তাদের অভিযোগ এতদিন কিছু কিছু বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক ফার্নেস অয়েল আমদানি করত। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে আমদানি করা এই তেল তাদের অনেকেই বাইরে বিক্রি করেছে। এরপরও তাদের ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমতি দেয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পেছনে সরকার বছরে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকার একদিকে কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করছে, অপরদিকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছে। সেই বিদ্যুৎ জনগণের কাছে সরকার বিক্রি করছে অর্ধেকেরও কম মূল্যে। এভাবে কেনাবেচার নামে বছরে মোটা অংকের অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। জনগণের পকেট কেটে এ লোকসানের ভার লাঘবের জন্যই সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দশ জেলায় ৩১ কোম্পানি যোগ্য : দেশের ১০ জেলায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে দেশী-বিদেশী ৩১টি কোম্পানি প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। চাঁদপুর, নোয়াখালী, বাগেরহাট, বগুড়া, জামালপুর, ফেনী, মেঘনাঘাট, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, শান্তাহারে ১০০ মেগাওয়াটের একটি করে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ৯ আগস্ট এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। মোট ৩৬টি কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে ৫টি কোম্পানির আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এর মধ্যে সামিট পাওয়ারের ১টি, রহিম আফরোজ পাওয়ারের ২টি ও এন্ট্রাকো পাওয়ারের ২টি আবেদন বাতিল করে দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বাকি ৩১টি কোম্পানি টেকনিক্যালি যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই যোগ্য কোম্পানিগুলোর দেয়া ফিন্যান্সিয়াল অফার যাচাই-বাছাই করা হবে। এদের মধ্যে যারা সরকারের কাছে সবচেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে তারা চূড়ান্তভাবে যোগ্য বিবেচিত হবে। সোমবার পিডিবি বাছাইকৃত কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট রয়েছে। এ কারণে দ্রুত যোগ্য কোম্পানীগুলোর সঙ্গে উৎপাদন চুক্তি করা হবে। প্রাথমিক বাছাইপর্বে চাঁদপুর জেলার জন্য ৩টি কোম্পানি যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। এগুলো হল রিজেন্ট স্পিনিং পাওয়ার, এক্সেল পাওয়ার ও ডরিন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। নোয়াখালী জেলার জন্য দুটি কোম্পানি যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। এ দুটি হল এনার্জি প্রিমা ও ম্যাক্স পাওয়ার লিমিটেড। বাগেরহাট জেলার জন্য যোগ্য হয়েছে ৮টি কোম্পানি। এগুলো হল ইউনাইটেড পাওয়ার লিমিটেড, এক্সেল পাওয়ার, ডরিন পাওয়ার, এক্সসিইএল, সামিট কর্পোরেশন, কমোডটি পাওয়ার, বারাকা পাওয়ার লিমিটেড ও পাওয়ার প্যাক্ট লিমিটেড। বগুড়া জেলার জন্য ২টি কোম্পানি যোগ্য হয়েছে। এই দুটি হল মিডল্যান্ড পাওয়ার ও কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড। জামালপুর ও ফেনী জেলার জন্য ১টি করে কোম্পানি যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুরে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ আর ফেনীর জন্য শ্রীলংকান কোম্পানি লাকথানবি পাওয়ার। মেঘনাঘাটের ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যোগ্য ৪টি কোম্পানি হল রিজেন্ট স্পিনিং, পাওয়ার সোর্স, পাওয়ার প্যাক্ট ও প্রিসিসান পাওয়ার লিমিটেড। ঠাকুরগাঁও জেলার দুটি যোগ্য কোম্পানি হল ম্যাক্স পাওয়ার ও এনার্জি প্যাক লিমিটেড। রংপুরের জন্য ৪টি কোম্পানি যোগ্য হয়েছে। এগুলো হল এনার্জি প্যাক, মোশারফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস, লাকথানবি ও কনফিডেন্স সিমেন্ট। শান্তাহারে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৪টি কোম্পানি যোগ্য হয়েছে। এগুলো হল বারাকা পাওয়ার, এক্সসিইএল, জেন্ট পাওয়ার ও মিডল্যান্ড পাওয়ার। রহিম আফরোজ পাওয়ার ২টি জেলায়, এন্ট্রাকো সিএনজি ফেনীসহ ২ জেলায় ও সামিট পাওয়ার চাঁদপুরের জন্য আবেদন করলেও তারা নন রেসপনসিভ হয়।

  • আজ ঢাকায় দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: আজ ২রা নভেম্বর ঢাকায় সকল দোকানপাট বন্ধ রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ী ঐক্যফোরাম। সংগঠনটি রোববার মতিঝিলে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির নেতারা ব্যানার নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু মোতালেব জানান, আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে সরকার দাবি পূরণ না করলে লাগাতার ধর্মঘট পালন করা হবে। মূল্য সংযোজন কর (মূসক) কমানোর দাবিতে ওইদিন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। সমাবেশে ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সভাপতি আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হেলালউদ্দিনসহ কয়েকজন পরিচালক বক্তব্য দেন।

  • আজ থেকে আয়কর মেলা শুরু

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: ‘সমৃদ্ধির সোনালী দিন, আনতে হলে আয়কর দিন’ এইশ্লোগানকে সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ মেলা চলবে। ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের কর প্রদানে উৎসাহ দিতে সপ্তমবারের মতো এ মেলার আয়োজন করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন রাজস্ব ভবনে মেলার উদ্বোধন করবেন। গতকাল আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান মেলার বিস্তারিত তথ্যাদি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথমবারের মত এবার ঢাকায়এনবিআরের নিজস্বভবনের সুবিশাল চত্বরে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।আর করদাতারা মেলায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, আয়কর মেলা ইতোমধ্যে করদাতাদের মধ্যে সাড়া ফেলাতে সক্ষম হয়েছে। এর সুখ্যাতি বেড়েছে। তাই এবার করতথ্য ও করসেবা আরো সহজ করতে মেলার ব্যাপ্তি বাড়ানো হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সর্বোচ্চ করদাতাদের প্রতিবছর ২০টি ট্যাক্স কার্ড প্রদান করা হলেও এবার ১২৫ জনকে ট্যাক্স কার্ড দেওয়া হবে।রাজস্ব প্রদানে করদাতাদের উৎসাহ বাড়াতে ট্যাক্স কার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান। এ বছর ৮ বিভাগীয় শহরে ৭দিন, জেলা শহরগুলোতে ৪দিন এবং দ্বিতীয় বারের মত ২৯টি উপজেলায় ২ দিনব্যাপী স্থায়ী আয়কর মেলা এবং ৫৭টি উপজেলায় ১দিন ভ্রাম্যমান আয়কর মেলা হবে।রুঙিণ ব্যানার ফেস্টুন, বেলুন ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়েও মেলা আকর্যণীয় ও ফলপ্রসু করার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে করদাতাদের মেলায় যাতায়াতের সুবিধার্তে এবার ৮টি শাটল বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। করদাতাদের কর তথ্য ও সেবা সহজে পেতে আয়কর মেলায় ঢাকার প্রতিটি কর অঞ্চলের জন্য পৃথক বুথ থাকবে। এনবিআরের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনলাইনেও কর পরিশোধ করতে পারবেন করদাতারা।যাঁরা ফরম পূরণ করতে পারবেন না,তাঁদের জন্য চালু থাকবে হেল্প ডেস্ক। এ ছাড়া নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীন করদাতাদের জন্য আলাদা বুথ থাকবে।কর পরিশোধে মেলায় থাকবে সোনালী ও জনতা ব্যাংকের বুথ। মেলায় ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন করার ব্যবস্থা রয়েছে। কীভাবে দাখিল ও ফরম পূরণ করতে হবে-এ বিষয়ে সহযোগীতা দেবেন এনবিআরের রাজস্ব কর্মকর্তারা। এ ছাড়া পৃথক বুথ স্থাপনসহ কর সহায়ক পরিবেশের প্রতি বিশেষ নজর থাকবে মেলা জুড়ে। পুরো মেলা স্পট শক্তিশালী ইন্টারনেট সার্ভিস দ্বারা পরিচালিত হবে।কর-সংক্রান্ত হিসাবের সুবিধায় থাকবে ইলেকট্রিক ক্যালকুলেটর ও ফটোকপিয়ার মেশিনও। উল্লেখ্য, গত বছরের মেলায় মোট রিটার্ন জমা পড়েছিল প্রায় দেড় লাখ। কর আদায় হয়েছিল ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।সেবা গ্রহণকারী করদাতার মোট সংখ্যা ছিল সাড়ে ছয় লাখ করদাতা।

  • শীতের সবজি বাজারে, তবুও দাম চড়া

    ডিপিসি নিউজ ডেস্ক: শীত শুরু না হলেও বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন শাক-সবজি। তবে এখনও কমেনি সবজির দাম। এই সময়ে সবজির যে দাম থাকার কথা এর চেয়ে তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। তবে বিক্রেতারা জানান, শীতের সবজি এখনও বাজারে পুরোপুরি আসেনি। এলে সবজির দাম কমে আসবে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে শীতকালীন সবজিতে বাজার সয়লাব। প্রতিটি দোকানেই আছে এসব রঙিন সবজি। প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকায়। তবে পুরান আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি দরে। প্রতি পিছ ফুলকপি ও বাধা কপি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। শিম প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, লাউ প্রতিটি আকার ভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। কলা প্রতি হালি ২০ টাকায়। করলা প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায়, পটল ও বেগুন বিক্রি হচ্ছে এই দামে। ধুন্দল, চিচিংগা এবং ঝিংগা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। গাজর ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। শষা, ঢেঁড়শ ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, মূলা ৪০ টাকা, লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, ডাটা শাক ১০ টাকা, পুঁইশাক ১৫ টাকা, ধনে পাতা (১০০ গ্রাম ) ৩০ টাকা, পুদিনা পাতা আটি ১০ থেকে ২০ টাকা, লেটুস পাতা প্রতি পিস পাঁচ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেশ কিছু দিন ধরে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। তবে মরিচের সেই ঝাঁজ একটু কমেছে। প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ টাকা, চায়না রসুন ৮০ টাকা, দেশি রসুন ১৫০ টাকায়। বাজারে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির লাল ও সাদা ডিম ৩০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগির ডিম ৩৫ টাকা ও হাঁসের ডিম ৩২ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪২০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকায়, খাসির মাংস ৫৫০ টাকা থেকে ৫৮০ টাকায়, ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকায়, লেয়ার মুরগি ১৫০ টাকায়, পাকিস্তানি মুরগি ২৮০ টাকায়, হাঁস ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা ও কবুতরের বাচ্চা প্রতি জোড়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা জোড়া দরে। কারওয়ান বাজারের দোকানদার খলিলুর রহমান জানান, কিছু দিন আগে থেকেই শীতের সবজি আসতে শুরু করেছে। কৃষকরা বাড়তি লাভের আশায় এসব সবজি চাষ করেছে। তবে নতুন সবজি হওয়ায় দাম একটু বেশি। আর কিছু দিন গেলে সহনীয় পর্যায় আসবে। রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় থাকেন জাহাঙ্গীর হোসেন। সবসময় তিনি কারওয়ান বাজার থেকেই বাজার করেন। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, শীতকালীন সবজির দাম বেশি হলেও নতুন এসব সবজি স্বাদও বেশি। বাজারে এলেই এখন শীতকালীন সবজি কিনে থাকি।

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top