• শ্রীলংকায় ইস্টারে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৯০

    শ্রীলংকায় চার্চ ও বিলাসবহুল হোটেলে ধারাবাহিক বোমা হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জন প্রাণ হারিয়েছে। এক দশক আগে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা। খ্রিষ্টানদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ইস্টার পালনের দিনে প্রার্থনাকারী ও বিদেশী অতিথিদের কাছে জনপ্রিয় বিলাসবহুল হোটেলগুলো লক্ষ্য করে আটটি সমন্বিত বোমা হামলা চালানো হয়।সোমবার সকালে পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, এই হামলার ঘটনায় আরো ৫শ’ লোক আহত হয়েছে।এদিকে কলম্বোর প্রধান বিমানবন্দরে একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।বিস্ফোরণের পরপরই দেশব্যাপী কারফিউ জারি করা হয়েছিল। সোমবার ভোরে কারফিউ তুলে নেয়া হয়।নগরীর সেন্ট সেবাস্টিয়েন’স চার্চে এখনো নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এখানে একটি ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়।শ্রীলংকায় ২ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার মাত্র ছয় শতাংশ খ্রিষ্টান। অতীতেও দেশটির এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর সহিংস হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই প্রথম এ ধরনের ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল।তাৎক্ষণিকভাবে কোন গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।তবে পুলিশ সোমবার জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।সরকার এর আগে জানিয়েছিল যে, এই হামলার সঙ্গে ‘বিদেশী সংশ্লিষ্টতা’ রয়েছে কিনা তদন্ত কর্মকর্তারা তা খতিয়ে দেখবেন।পরপর ছয়টি শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং এর কয়েকঘন্টা পর আরো দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় ৪৫০ জন আহত হয়।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে তিন ভারতীয়, তিন ব্রিটিশ, দুই তুর্কি ও একজন পর্তুগালের নাগরিক রয়েছে।নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ ও মার্কিন উভয় পাসপোর্টধারী দুইজন রয়েছে।শ্রীলংকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এছাড়াও নয় বিদেশী নাগরিক নিখোঁজ রয়েছে। ২৫টি লাশ সনাক্ত করা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে এরা বিদেশী নাগরিক।’জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তাদের একজন নাগরিক রয়েছে।যেসব চার্চকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় তাদের মধ্যে কলম্বোর ঐতিহাসিক সেন্ট এন্থনী’স চার্চ রয়েছে। বিস্ফোরণে চার্চের ছাদের অধিকাংশ স্থান উড়ে গেছে।বিস্ফেরণের পর প্রার্থণাকারীদের ছিন্নভিন্ন দেহ চার্চের মেঝেতে পড়ে থাকে। হতাহতদের রক্তে গির্জার সাদা জমিন রঞ্জিত হয়ে যায়।শ্রীলংকার পুলিশ প্রধান পুজুত জয়াসুন্দারা ১০ দিন আগেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির ‘বিখ্যাত চার্চগুলোতে’ আত্মঘাতী বোমা হামলার ব্যাপারে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন।সতর্কতাবার্তায় বলা হয়েছিল, ‘একটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে যে এনটিজে (ন্যাশনাল তৌহিদ জামা’আত) নামের একটি উগ্রপন্থী সংগঠন বিখ্যাত চার্চ ও কলম্বোয় ভারতীয় হাই কমিশনে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করছে।’গত বছর বৌদ্ধ মুর্তি ধ্বংসের সঙ্গে শ্রীলংকা ভিত্তিক উগ্রপন্থী মুসলিম সংগঠন এনটিজে জড়িত ছিল।শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে স্বীকার করেন যে সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে ‘তথ্য ছিল’ এবং ‘কেন আগে থেকেই যথাযথ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি তা খতিয়ে দেখা হবে।’

  • বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার বিষয়টি তুলে ধরবে জাতিসংঘ

    বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানের চালানো গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরবে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রিভেনশন অব জেনোসাইড বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা ডিয়েঙ্গ আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘যদিও কিছু কিছু দেশ এর বিরোধিতা করবে, তবু আমরা মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে চালানো পাকিস্তানের গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করবো।’ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এদেশে যে গণহত্যা শুরু করে তা স্মরণ করে বলেন, ‘পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা এবং দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করে।’ এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রমহারা এসব মা-বোনকে পুনর্বাসিত করেন। প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও আলাপ করেন। অ্যাডামা ডিয়েঙ্গ এ সময় রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মিয়ানমারের বর্বরতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের দৃঢ় সহযোহিতার কথা পুনরুল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘গণহত্যা চালানো সেইসব নৃশংতাকারীকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে’। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এসময় বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিতে দেশটির ওপর চাপ জোরদারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান একা করতে পারবে না। তাই এই সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ আরো বাড়াতে হবে।’ অ্যাডামা ডিয়েঙ্গ বলেন, জাতিসংঘ চায় রোহিঙ্গারা তাদের নিজ রাজ্য রাখাইনে পুনর্বাসিত হোক এবং সেখানে শান্তিপূর্ণ ও বৃহত্তর সমাজ গড়ে উঠুক। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল প্রায় ১০ লাখেরও অধিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়শী প্রসংসা করে বলেন, ‘আপনি রোহিঙ্গাদের জন্য আপনার দ্বার অবারিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গারা সংখ্যায় কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকেও ছাড়িয়ে গেছে। যে কারণে স্থানীয় জনগণকে খুবই ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে।’ রোহিঙ্গাদের কল্যাণে তাঁর সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার তাদের অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য ভাষানচর নামে একটি দ্বীপের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানান। সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ ইস্যুতে তিনি বলেন, দেশে দু’একটি এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও সরকার শক্ত হাতে এসব মোকাবেলা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর সরকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি,ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনগণের সাথে মত বিনিময় করছেন যাতে করে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের মত এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে ওঠে। প্রেস সচিব জানান, অ্যাডামা ডিয়েঙ্গ এ সময় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিনজন নারী নেতৃত্বের নাম উল্লেখ করেন। এরা হচ্ছেন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জার্মানীর চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্ন। প্রেস সচিব বলেন, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল নারীর ক্ষমতায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভূয়শী প্রশংসা করেন এবং বলেন, ‘আপনি নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক।’ জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সহ¯্রব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) এর মতই সফলভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সক্ষম হবে। অ্যাডামা ডিয়েঙ্গ এ সময় জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁকে ‘শান্তির মানব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘আর আপনি তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’ নারীর ক্ষমতায়ন প্রশ্নে এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম ধর্মই নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে।’ তিনি বলেন, তিনি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য সমগ্র দেশ ঘুরে বেড়িয়ে নানাক্ষেত্রে নারীর অগ্রসরতার চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। এর কারণ হিসেবে নারী শিক্ষার প্রতি তাঁর সরকারের গুরুত্ব প্রদানও একটি বড় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হত্যাকান্ডের ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল উভয়েই ঘটনার পর পরই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। ওই ঘটনায় প্রায় ৫০ জন নিহত এবং বহু লোক আহত হয়। সেইভ এন্ড সার্ভ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • সুদানে বিস্ফোরণে ৮ শিশু নিহত

    সুদানের ওমদুরমান নগরীর উত্তরাঞ্চলে রোববার বিস্ফোরণে আট শিশু নিহত হয়েছে। পুলিশের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপি’কে একথা জানান।জেনারেল হাশিম আব্দেল রহিম বলেন, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই সাত শিশু নিহত ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সময় এক শিশু মারা যায়।তিনি বলেন, ছেঁড়া কাগজ ও কাপড় কুড়ানোর সময়ে শিশুরা একটি ‘অদ্ভূত জিনিস’ খুঁজে পেয়ে তা নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল। তখন এটি বিস্ফোরিত হয়।উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে এলাকাটিতে জঙ্গিদের আস্তানা ছিল।সুদানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই বিস্ফোরণে আট শিশুর নিহতের কথা নিশ্চিত করেছে।

  • ইয়েমেনে হাজার হাজার লোকের মৃত্যু : মানবিক সংকট চরমে

    ইয়েমেনে চলমান গৃহযুদ্ধে কয়েক হাজার লোক মারা গেছে। দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে। জাতিসংঘ একথা জানিয়েছে।হুতি বিদ্রোহী ও সরকার সমর্থক সৈন্যদের মধ্যে এই গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করলে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যায়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, এই যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর যোগদানের পর থেকে ইয়েমেনে প্রায় ১০ হাজার লোক নিহত ও ৬০ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। হতাহতদের অধিকাংশই বেসামরিক লোক।তবে নিহতের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তাকারী সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশন এগনেইস্ট হাঙ্গার জানিয়েছে, এই যুদ্ধে ৫৭ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।ফরাসী ত্রাণ সহায়তাকারী সংস্থা অ্যাকশন কন্ট্রা লা ফেইম জানিয়েছে, ইয়েমেনে এই গৃহযুদ্ধের কারণে ৩৩ লাখ লোক বাস্তুচ্যূত হয়েছে।ডব্লিউএইচও জানায়, দেশটিতে কলেরার প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। এখানে ২০১৭ এপ্রিল মাস থেকে প্রাণঘাতী এই মহামারীতে ২ হাজার ৫শ’র বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছে। প্রায় ১২ লাখ লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বরাবরই শিশুদের ওপর যুদ্ধের বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরছে।২০১৮ সালে এক প্রতিবেদনে ইউনিসেফ জানায়, ‘ইয়েমেন শিশুদের জন্য জাহান্নাম হয়ে গেছে।’এতে আরো বলা হয়, দেশটিতে ৫ বছরের কম বয়সী ১৮ লাখ শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে।আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিল্ড্রেন জানায়, ইয়েমেনে ২০১৫ সালের এপ্রিল ও ২০১৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে চরম অপুষ্টিতে ভুগে অথবা অপুষ্টিজনিত রোগে প্রায় ৮৫ হাজার শিশু সম্ভবত মারা গেছে। অন্যরা যুদ্ধে মারা গেছে।জাতিসংঘের মতে, ইয়েমেনে স্কুলে যাওয়ার উপযুক্ত ৭০ লাখ শিশুর মধ্যে ২০ লাখ শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।দেশটিতে ২ হাজার ৫শ’র বেশি স্কুল পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এগুলোর দুই তৃতীয়াংশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৭ শতাংশ স্কুল বন্ধ। সাত শতাংশ স্কুল সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করে অথবা সেগুলোতে বাস্তুচ্যূত মানুষের আশ্রকেন্দ্র বানানো হয়েছে।ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের অভাবের কারণে প্রতি পাঁচজন মেয়ের মধ্যে দুজনের বাল্য বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ১৫ বছরের আগেই তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়।হাজার হাজার ছেলে শিশুকে যোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

  • মালিতে অস্ত্রধারীদের হামলায় শতাধিক গ্রামবাসী নিহত

    মালির মধ্যাঞ্চলে ফুলানি সম্পদায়ের একটি গ্রামে অস্ত্রধারীদের হামলায় ১শ জনেরও বেশি গ্রামবাসী নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা একথা জানান।দেশটিতে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের সফরের এ সময়েই হামলার ঘটনাটি ঘটল।পার্শ্ববর্তী ওউয়েঙ্কোরোর মেয়র চেইক হারুনা সাঙ্কারে বলেন, ওগোসাগোউ গ্রামে এই হামলায় ১শ ১৫ জন নিহত হয়েছে। দোগান শিকারীর পোশাক পরা এসব লোক ফুলানিদের গ্রামে বেসামরিক মানুষের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে।এর আগে তিনি বলেছিলেন, এই হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হয়েছে। তবে বহু লোক নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।ওই লাশগুলো এখন পাওয়া গেছে।নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হামলাকারীরা গুলি করে ও কুপিয়ে গ্রামবাসীদের হত্যা করে।খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মালির সেনাবাহিনী বিকেলে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।তারা জানায়, এই ঘটনায় অন্তত ১শ ১৫ জন নিহত হয়েছে।জীবিতরা এই ঘটনার জন্য দোগান শিকারীদের দায়ী করেছে।শনিবার ভোরে বারকিনা ফাসোর সীমান্তবর্তী গ্রামটিতে এ হামলা চালানো হয় বলে একধিক সূত্র জানিয়েছে।অঞ্চলটিতে প্রায়ই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-সহিসংতা দেখা দেয়।দুই প্রত্যক্ষদর্শী পৃথকভাবে জানায়, গ্রামের প্রায় সব বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।সাহেল অঞ্চলে জিহাদিদের ঝুঁকির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল যখন দেশটিতে, ঠিক সেই সময়ে এ ঘটনা ঘটল।মালিতে জাতিসংঘের মিশন এমআইএনইউএসএমএ টুইট বার্তায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই হামলার নিন্দা জানিয়ে মালি সরকারের প্রতি ঘটনাটি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

  • নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি

    নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এ হত্যার হুমকি দেয়া হয়। পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি টুইটার একাউন্ট থেকে ‘একটি বন্দুকের’ ছবি পোস্ট করে সেটির নিচে ‘এরপর আপনি’ ক্যাপশন লিখে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো হয়। অনেক টুইটার ব্যবহারকারী ওই পোস্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করলে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর টুইটার কৃর্তপক্ষ একাউন্টটি বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, “পুলিশ টুইটারে ওই পোস্ট সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং সেটির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।” ওই একাউন্ট থেকে অন্য একটি পোস্টে অ’ডুর্ন ও নিউ জিল্যান্ড পুলিশকে উদ্দেশ করে একই ধরনের ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, “পরবর্তীতে আপনি।” একাউন্টটিতে  ইসলাম বিরোধী এবং ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ’ নিয়ে অনেক পোস্ট ছিল বলেও জানায় নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।

  • চীনে রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ৪৪

    চীনে একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া অন্তত ৬৪৪ জনেরও অধিক অাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। এ ঘটনাকে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহতম দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে দেশটি। সিংহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৫০ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৩২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৫০ মিনিটে ইয়ানচেং শহরে তিয়ানজিয়াই ক্যামিক্যাল নামে একটি কারখানায় ওই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের আকার এতোই ভয়াবহ ছিল যে, এ সময় সে এলাকায় ২ দশমিক ২ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। কারখানাটিতে সার তৈরি করা হতো। দুর্ঘটনার বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এতে দেখা গেছে আগুন ও ধোঁয়ায় চারপাশ ভরে গেছে। এর ফলে আশেপাশের বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার ৩ টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। দেশটিতে রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গত বছরের নভেম্বরে এক বিস্ফোরণে মারা যায় ২২ জন। এছাড়া সুসান প্রদেশে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে একটি ক্যামিক্যাল প্ল্যান্টে নিহত হয় ১৬ জন।

  • আফগানিস্তানে বিমান হামলায় আইএস মুখপাত্র নিহত

    আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানগড়হর প্রদেশে বিমান হামলায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মুখপাত্র সুলতান আজিজ আজম নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়। খবর সিনহুয়ার।

  • রাশিয়ায় অ্যাভানগার্ড হাইপারসনিক পদ্ধতির সফল পরীক্ষা

    রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হাইপারসনিক পদ্ধতি অ্যাভানগার্ডের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বুধবার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা বলেন। তাদের প্রযুক্তিগত সকল দিক যাচাই করতেই এটির পরীক্ষা চালানো হয়। খবর তাসের।পুতিন বলেন, ‘আমার নির্দেশ অনুযায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিস্টেমের প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং তারা এটির চূড়ান্ত পরীক্ষা চালায়।’তিনি বলেন, ‘এ পরীক্ষা সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। আর এ পরীক্ষার মধ্যদিয়ে এটির প্রযুক্তিগত সকল দিক যাচাই করা হয়।’ভøাদিমির পুতিন বুধবার সরকারকে বলেন, রাশিয়ার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম আগামী বছর সশস্ত্র বাহিনীর সার্ভিসে যুক্ত হবে। তিনি জোরদিয়ে বলেন, এটি হচ্ছে কৌশলগত অস্ত্রের একটি নতুন ধরন।পুতিন বলেন, ‘আগামী বছর ২০১৯ সালের শুরুতে আন্ত:মহাদেশীয় কৌশলগত নতুন সিস্টেম অ্যাভানগার্ড রাশিয়ার সেনা সার্ভিসে যুক্ত করে স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ট্রুপস’র প্রথম দল মোতায়েন করা হবে।’

  • নিউ ক্যালিডোনিয়ায় ভোট গ্রহণ শুরু

    ফ্রান্সের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপপুঞ্জ নিউ ক্যালিডোনিয়ায় রোববার ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ফ্রান্সের শাসন থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বাধীন দেশ হওয়া প্রশ্নে সেখানে এ ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর এএফপি’র।বিশ্বব্যাপী বিচ্ছিন্ন থাকা ফ্রান্সের অনেক ভূখন্ডের মধ্যে এটি তাদের অন্যতম একটি ভূখন্ড। এই ভোটের মধ্যদিয়ে নিউ ক্যালিডোনিয়ার ফ্রান্সের সাথে থাকা না থাকার বিষয়টি পরিস্কার হতে যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।ফ্রান্সের মূল ভূখন্ড থেকে প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নিউ ক্যালিডোনিয়া নিকেল ধাতুর জন্য খুবই পরিচিত। বিশ্বের মোট নিকেল সরবরাহের এক চতুর্থাংশ এখান থেকে সরবরাহ করা হয়। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইলেক্ট্রনিক উপাদান। এছাড়া কৌশলগত দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ফ্রান্সের অবস্থানের ক্ষেত্রে ভূখন্ডটি তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৮টায় নিউ ক্যালিডোনিয়ার ২৮৪টি ভোট কেন্দ্র সেখানের জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য খুলে দেয়া হয়। এসব কেন্দ্রে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।হাইকমিশন জানায়, রোববার দুপুর নাগাদ ৪১.৮ ভোট পড়েছে। ২০১৪ সালে স্থানীয় নির্বাচন চলাকালে একই সময়ে ২৭.৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল।এ নির্বাচনে ১ লাখ ৭৫ হাজার লোক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে।

  • ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারলাইনের বিধ্বস্ত বিমানের একটি ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার

    ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারলাইনের বিধ্বস্ত বিমানের একটি ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির প্রধান বৃহস্পতিবার একথা জানান। খবর এএফপি’র। সোয়েরজান্ত তিজাজোনো এএফপি’কে বলেন, ‘আমরা ওই বিমানের একটি ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছি।’ ‘তবে এটি এফডিআর (ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার) না সিভিআর (ককপিট ভয়েস রেকর্ডার) কোনটি তা এখন পর্যন্ত জানতে পারিনি।’ বিমানটির এ ডিভাইসে ফ্লাইটের গতি, উচ্চতা ও দিক নির্দেশনার পাশাপাশি ফ্লাইট ক্রূদের কথাবার্তার তথ্য থাকে। উল্লেখ্য সোমবার লায়ন এয়ারের বিমান জাকার্তা থেকে পাংকাল যাওয়ার পথে ১৮৯ আরোহী নিয়ে জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়। এতে সকল আরোহী প্রাণ হারায়।

  • যুক্তরাষ্ট্রে সিরিয়া যুদ্ধ ফেরত এক যুবক তার অপরাধ স্বীকার করেছেন

    যুক্তরাষ্ট্রে সিরিয়া যুদ্ধ ফেরত এক যুবক বুধবার তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। লোকটি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। পরে তিনি সিরিয়ায় গিয়ে সেখানকার একটি চরমপন্থী দলের পক্ষে যুদ্ধ করেন। ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ ইউনিস আল-জায়াব (২৫)। খবর এএফপি’র। বিচার বিভাগ জানায়, তিনি স্বীকার করেন যে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি চরমপন্থী সংগঠন আনসার-আল-ইসলাম এ যোগ দেন এবং সংগঠনটির পক্ষে যুদ্ধ করেন। দলটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। ইউনিস তার অপরাধ স্বীকার করার পর বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে। আল-কায়েদা সমর্থিত আনসার আল-ইসলাম এক সময় ইরাক ও সিরিয়া উভয় দেশেই তাদের তৎপরতা চালাতো। সংগঠনটির ইরাকি অংশ পরবর্তীতে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। যদিও সংগঠনটির কয়েকজন যোদ্ধা আইএস এ যোগ দেয়নি। বিদেশী একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন দেয়ায় সর্বোচ্চ ১৫ বছরের জেল হতে পারে। ফেডারেল এজেন্টদের কাছে মিথ্যা বলার অপরাধে তার আট বছরের জেল হতে পারে। বিচার বিভাগ জানায়, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি তুরস্ক ও সিরিয়ায় সফরের কথা গোপন রেখেছিলেন। পরে ফেডারেল এজেন্টেদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ইরাকে জন্মগ্রহণকারী ফিলিস্তিনী বংশদ্ভুত ইউনিস সিরিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। আগামী বছরের ২৬ এপ্রিল তার মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে সিনাগগে বন্দুক হামলায় নিহত ১১, আহত ৬

    পিটসবার্গ যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ নগরীর একটি সিনাগগে শনিবার শিশুদের নামকরণ অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলায় ১১ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিদের ওপর সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা। এই ঘটনায় হামলাকারীর বিরুদ্ধে ২৯টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খবর এএফপি’র। ৪৬ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা রবার্ট বোয়ার্স ‘সব ইহুদিকে মরতে হবে’ এই ঘোষণা দিয়ে ট্রি অব লাইফ সিনাগগে এ হামলা চালায়। হামলার সময় সিনাগগে সকালের সাবাথ অনুষ্ঠান চলছিল।এ সময় সেখানে বেশ অনেক ইহুদি ধর্মাবলম্বী উপস্থিত ছিলেন। হামলার পর পুলিশের সঙ্গে রবার্টের বন্দুকযুদ্ধ হয়।পুলিশ তাকে আটক করে। বন্দুকযুদ্ধে হামলাকারী আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাতে মার্কিন প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সহিংসতা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত ২৯টি অভিযোগ দায়ের করেছে। এর মধ্যে ধর্ম পালনে বিঘœ সৃষ্টিকরা ও এর ফলে হত্যাকা-ের ১১টি অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটররা এক বিবৃতিতে জানান, ‘কেন্দ্রীয় নাগরিক অধিকার আইনের ভিত্তিতে এ ধরণের সহিংসতামূলক ঘৃণাজনিত অপরাধ নিষিদ্ধ।’ এর আগে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবার্টের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে তাতে তার মৃত্যুদ- হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘জঘন্য ও নির্বিচারে হত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা বলেন, ‘আমেরিকা ইহুদি বিরোধী ঘটনার ঘোর বিরোধী।’ ট্রাম্প ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী জনসভায় তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ইহুদিদের বিরুদ্ধে অপশক্তির এই হামলাটি আমাদের সকলের ওপর আঘাত।’ তিনি বলেন, ‘ইহুদি বিরোধী ও ঘৃণার শক্তিকে পরাজিত করতে আমাদের অবশ্যই ইহুদি ভাই বোনদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি শিগগিরই পেনসিলভানিয়া নগরীতে যাবেন। সিনাগগটি এই শহরে অবস্থিত। শনিবার রাতে কয়েকশ বাসিন্দা মোমবাতি জ্বালিয়ে রাত্রি জাগরণ করেছে। এই ঘটনায় নিহতদের প্রতি সম্মান জানাতে ট্রাম্প ৩১ অক্টোবর হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সরকারি অফিস এবং সেনা ও নৌঘাটিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, রবার্ট একটি রাইফেল নিয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০টার কিছু আগে ওই সিনাগগে হামলা চালায়। পিটার্সবার্গের জননিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

  • সিঙ্গাপুরে হতে পারে ট্রাম্প-কিমের যুগান্তকারী বৈঠক

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আগামী মাসে সিঙ্গাপুরে বৈঠকে বসতে পারেন। এ দুই নেতার মধ্যে নজিরবিহীন আলোচনার প্রত্যাশা তৈরী হওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন ধারণা করা হচ্ছে। খবর এএফপি’র। বিস্তারিত উল্লেখ না করে সপ্তাহান্তে ট্রাম্প বলেন, উভয় পক্ষ যুগান্তকারী এ বৈঠকের তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করেছে। আর এটি হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার নেতার মধ্যে প্রথম বৈঠক। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শিগগিরই এ বৈঠকের তারিখ ও স্থানের নাম ঘোষণা করবো।’ কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার চোসান ইলবো দৈনিকের খবরে বলা হয়, এ যুগান্তকারী বৈঠক ‘মধ্য-জুনে’ অনুষ্ঠিত হবে। ওই সংবাদপত্রের খবরে আরো বলা হয়, বৈঠকটি সিঙ্গাপুরে হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। এ মাসের শেষের দিকে হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাতের সময়ে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ সপ্তাহান্তে একই ধরনের এটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনেও এ সম্মেলনের সম্ভাব্য স্থানের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের নাম উল্লেখ করা হয়।

  • পরমাণু কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র কোন পরীক্ষাই না চালানোর অঙ্গীকার উ.কোরীয় নেতার

    উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন শনিবার এক ঘোষণায় বলেছেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা এবং আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বন্ধ রাখবেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উনের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত সম্মেলনের প্রাক্কালে পিয়ংইয়ংয়ের এ ঘোষণাকে ওয়াশিংটন স্বাগত জানিয়েছে। খবর এএফপি’র। কোরীয় উপদ্বীপের দ্রুত কূটনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের দীর্ঘ প্রত্যাশিত পিয়ংইয়ংয়ের এ ঘোষণাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোরীয় উপদ্বীপকে বিভক্ত করা ডিমিলিটারাইজড জোনে শীর্ষ সম্মেলনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতার সাক্ষাতের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে এমন ঘোষণা দেয়া হলো। কিম বলেন, উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু অস্ত্রের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে তা তাদের জন্যে ‘বড় বিজয়’। তিনি আরো বলেন, ‘এখন উত্তর কোরিয়ার জন্য আর কোন পারমাণবিক পরীক্ষা এবং মাঝারি পাল্লার ও আন্ত:মহাদেশীয় ব্যালাস্টিক রকেট উৎক্ষেপণের প্রয়োজন নেই।’ উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, দেশটির নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিকে বলেছেন যে উত্তর কোরিয়ার এ ধরণের পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রের আর প্রয়োজন নেই। এখন থেকে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো থেকে বিরত থাকবে দলটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তারা পরীক্ষা বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে পুংগি-রিতে থাকা পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র ধ্বংস করবে। উল্লেখ্য, গত নভেম্বর থেকে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের আর কোন পরীক্ষা চালায়নি। এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা এমন ঘোষণা দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ও সারাবিশ্বের জন্য এটি অনেক ভাল খবর। এটি একটি বড় অগ্রগতি। আমি আমাদের বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছি। এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা না চালানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শনিবার সিউলে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণের জন্য উত্তর কোরিয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। সারাবিশ্ব এমনটাই দেখতে চায়।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আসন্ন আন্তঃকোরীয় ও উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্মেলনের সফলতার জন্য এ সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।’

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top