• বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে সফলভাবে উৎক্ষেপণ হওয়ায় দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ আমাদের সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে সফল ভাবে উৎক্ষেপণ হওয়া উপলক্ষে আজ শনিবার দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর কার্যক্রমের সার্বিক সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ এবং দেশের জনগণের জন্য সীমাহীন সুযোগ সৃষ্টি করবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় আজকে যোগ হল আরও একটি মাইলফলক। আজ আমরা মহাকাশে উৎক্ষেপণ করলাম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমরা মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করলাম। জাতির এই গৌরবময় দিনে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়েও ইন্টারনেট সেবা বিস্তৃত করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বিশ লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রযুক্তি পেশায় সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্স পেশার প্রসার ঘটিয়ে বিশ্বে আমাদের অবস্থান এখন তৃতীয় স্থানে। দেশী-বিদেশি সংস্থাসমূহের ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সহজ ও সুলভ ইন্টারনেটের জন্য সাবমেরিন ক্যাবলকে সিমিউই ফাইভের সঙ্গে সংযুক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমানের ডাটা সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে স্যাটেলাইট। এখন থেকে আমরা স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত অংশীদার। শেখ হাসিনা শ্রদ্ধার সঙ্গে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহিদ, দু’লাখ সম্ভ্রম হারানো মা-বোনকে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুধাবন করেছিলেন বহির্বিশ্বের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারলে অগ্রগতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। স¦াধীনতার মাত্র তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে তিনি রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় প্রথম উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। আজ আমরা জাতির পিতার সেই স¦প্ন বাস্তবায়নে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলাম নিজস¦ কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে। তিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি, প্রকল্প এবং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের সকল কর্মীকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের ‘থেলাস এলিনিয়া’ এবং উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্পেস-এক্স’-কে এবং রাশিয়াকে তাদের অরবিটাল সøট ব্যবহারের সুযোগ প্রদানের জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

  • সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কমনওয়েলথের দৃঢ় অবস্থান

    কমনওয়েলথ রাষ্ট্রসমূহ ঐতিহাসিক ঘোষণায় বর্তমান ও ২০২০ সালের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লন্ডনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের (সিএইচওজিএম) বৈঠকে ঐতিহাসিক ঘোষণায় কমনওয়েলথের ৫৩ জন নেতা সাইবার অপরাধ বন্ধে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ঘোষণা সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং ভৌগলিক দিক থেকে আন্ত:সরকারের একটি বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। সিএইচওজিএম’র এই ঘোষণার পর অপরাধী গ্রুপকে সামলাতে ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টিকারি রাষ্ট্রকে মোকাবেলায় সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে কমনওয়েলথ রাষ্ট্রসমূহকে সহায়তা করতে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড ঘোষণার পর বলেন, সাইবার স্পেস আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, অভিন্ন পণ্যের জন্য কমনওয়েলথ কানেকশনের বহুমুখি স্তরের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এতে অনেক ইতিবাচক সুফল বয়ে আনবে। কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্রসমূহ তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে একসঙ্গে কাজ করবে। তারা জাতীয়, আঞ্চলিক ও আর্ন্তজাতিক নিরাপত্তায় যে কোন সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত এবং সম্মিলিত ভাবে পদক্ষেপ নিতে পারবে। কমনওয়েলথ সাইবার ঘোষণা অর্থনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অনলাইন অধিকারের মতো বিষয়ে সাইবার স্পেসের লক্ষ্য নির্ধারন করেছে। কমনওয়েলথ সদস্য দেশসমূহের মধ্যে ছোট দেশগুলোর জন্য এই ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কমনওয়েলথ সদস্যভূক্ত ৫৩ টি রাষ্ট্রের মধ্যে ৩১ টি রাষ্ট্রের জন্য এই ঘোষণা সাইবার অপরাধ বন্ধে সহায়ক হবে। তারা নিজেদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রগতি এগিয়ে নিয়ে যেতে বাস্তব মুখি পদক্ষেপ নিতে পারবে। কমনওয়েলথ সিভিল এবং ক্রিমিনাল জাস্টিস রিফর্ম অফিসের প্রধান স্টীভেন ম্যালবে বলেন, কমনওয়েলথ সাইবার ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক দলিল। এ দলিল কমনওয়েলথ সদস্যভূক্ত ৫৩ টি রাষ্ট্রকে এক সঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা এবং জনগনের অধিকার রক্ষায় কমনওয়েলথ এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশ্বব্যাপী সাইবার চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাইবার অপরাধ বন্ধ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমনওয়েলথ দেশসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা এবং সাইবার স্পেস প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আলোচনায় কমনওয়েলথকে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী ও বিচার কর্মকর্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সক্ষমতা গড়ে তুলতে এই ঘোষণার প্রয়োজন ছিল। এই ঘোষণা কমনওয়েলথ সাইবার ইনিশিয়েটিভ(সিসিআই) ও কমনওয়েলথ টেলিকমিউনিকেশন অর্গানাইজেশনসহ (সিটিও) এ ক্ষেত্রে অব্যাহত কাজ করে যাবে। সিটিও এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় কমনওয়েলথ সেক্রেটারি সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা গড়ে তুলতে সাইবার অপরাধে আক্রান্ত দেশগুলোকে টেকনিক্যাল সহায়তা দিবে।

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top