ঋতু বদলের দিনকাল

হেমন্তের হিম বাতাস জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। এই সময়টায় বাতাসে জলীয়বাষ্প কমে যাওয়ায় ত্বকের রুক্ষতা, হাত-পা ফাটা, ঠাণ্ডাজ্বরসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। দিনে গরম ও রাতের ঠাণ্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে গিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে । তাই সবারই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এসময়ের কী করনীয় তার পরামর্শ দিয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যাপক আকিকা সুলতানা

গোড়ালি ফাটার প্রবণতা থাকলে সপ্তাহে এক দিন পায়ের যত্ন নিন

* তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় অনেকেই দিন-রাত ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখেন। বদ্ধ ঘরে জীবাণুর আক্রমণ বেড়ে যায়।

দিনের বেলায় দরজা-জানালা খুলে ঘরে যতটা সম্ভব রোদ ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। সন্ধ্যাবেলা ঠাণ্ডা পড়ার আগেই জানালা বন্ধ করে দিন। তবে ঘরের ভেন্টিলেশন যেন ঠিক থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।  

* শীতের পোশাক কিংবা লেপ, কাঁথা ব্যবহারের আগে অবশ্যই কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। কম্বল, লেপ বা মোটা কাঁথা যেগুলো সব সময় ধোয়া সম্ভব নয় সেগুলোতে সুতি কাপড়ের কভার ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে কভার ধুয়ে নিলেই হবে।

* সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নজর দিন। পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার রাখুন মেন্যুতে। কম তেল ও মসলা দিয়ে সহজপাচ্য খাবার রান্না করুন।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি, ই, জিংক সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। তাই মৌসুমি ফল ও সবজি দৈনিক খাদ্যতালিকায় রাখুন। ভিটামিন ‘সি’যুক্ত টক ফল শরীরে ঠাণ্ডা সমস্যা দূরে করে।

* তৃষ্ণা কম লাগে বলে এ সময়ে পানি কম খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। রোগব্যাধি বেড়ে যাওয়ার এটাও একটা কারণ। পিপাসা না পেলেও নিয়ম করে দৈনিক ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। সুস্থ শরীর ও ত্বকের রুক্ষতা দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় পানি পানের পাশাপাশি ঘরে তৈরি তাজা ফলের জুস, লাচ্ছি, ডাবের পানি কিংবা লেবুর শরবত খেতে পারেন।

* ঋতু বদলের সময়ে অল্প সর্দি, গলা খুসখুস করে বা নাক বন্ধ হলে ঘরোয়া চিকিৎসা নিতে পারেন। সহনীয় গরম লবণ পানিতে গড়গড়া করুন। হালকা গরম পানি পান এবং বিশ্রাম নিন। নাক বন্ধ হলে একটা বড় পাত্রে ফুটন্ত পানিতে মেন্থল দিয়ে তার ওপর মুখ নিচু করে বড় একটি তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে ভাপ নিন কয়েক মিনিট। দিনে কয়েকবার এভাবে ভাপ নিলে আরাম হবে । অল্প কাশি হলে সকালে ১ চামচ আদার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খান দুই বেলা।

* হেমন্তের শুরু থেকেই ত্বকের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। তাই পেট্রোলিয়াম জেলি, লোশন ও ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার শুরু করুন। গত বছরের ব্যবহার্যগুলোর মেয়াদ আছে কি না যাচাই করে নিন। ঠাণ্ডা পড়লেও গোসল বাদ দেবেন না। চাইলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন।

* শীতে ধুলাবালি বেশি থাকে। তাই প্রতিদিনের ত্বক চর্চায় ক্লিনজিং, টোনিং ও মায়েশ্চারাইজিং—এই তিনটি বেসিক ধাপ অনুসরণ করুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী পণ্য বাছাই করতে হবে। সপ্তাহে দুই দিন ফেসওয়াশ বা বডিওয়াশের সঙ্গে সামান্য মোটা দানার চিনি মিশিয়ে নিন। হালকা হাতে মুখ ও সারা শরীর স্ক্রাবিং করুন। ত্বকের মরা চামড়া দূর হবে। গোসলের পর শরীরে গ্লিসারিনের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করুন। শুষ্কতা নিয়ে আর ভাবতে হবে না।

* হাত ও পায়ের যত্নে ব্যবহার করুন লেবু। লেবু অর্ধেক করে কেটে এক চামচ চিনি মিশিয়ে হাত ও পায়ের ত্বকে ঘষে নিন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান। রাতে ঘুমানোর আগে অলিভ অয়েল বা আমন্ড অয়েল ম্যাসাজ করে লাগান হাত-পায়ের ত্বকে। গোড়ালি ফাটার প্রবণতা থাকলে সপ্তাহে এক দিন গরম পানি ও শ্যাম্পুর মিশ্রণে পা ডুবিয়ে রেখে পিউমিস স্টোন ( ঝামা) দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। তারপর ভালো করে ধুয়ে-মুছে গ্লিসারিনের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে মাখুন। রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমালে পা ফাটার সমস্যা কমে যাবে।

* রোদ থাকুক বা না থাকুক বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না। ময়েশ্চারাইজারের পর ত্বকে সানস্ক্রিন লাগান। সব শেষে কমপ্যাক্ট বা ফিনিশিং পাউডার দিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। এই সময়ের রোদের তাপ খুব বেশি থাকে। ছাতা ও এক বোতল পানি সঙ্গে রাখুন।

Author

ID NO : মারজানইমু

Share Button

Comment Following News

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top