অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্টে চলমান সাঁতার, ভারোত্তোলন থেকে কোন সুখবরই পায়নি বাংলাদেশ। লাল-সুবজের জার্সিতে ওই দুটি ইভেন্ট খুব ভালে হয়নি। শুধুমাত্র আজ মহিলাদের ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে মাবিয়া আকতার সীমান্ত ১৩ জনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হয়েছে ষষ্ঠ। যা ইতোপুর্বে আর কখনো অর্জিত হয়নি।

আগামীকাল শ্যুটিংয়ে নামছে বাংলাদেশ। এই ইভেন্টটিকে ঘিরেই সব আশা-ভরসা বাংলাদেশ শিবিরে। কমনওয়েলথ গেমসের জন্য বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা নিজেও বলেছিলেনÑ আমাদের একমাত্র ভরসা শ্যুটিং। অন্য ক্রীড়াবিদরা গোল্ডকোস্ট সফরে যাচ্ছে শুধুমাত্র অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। যা এসএ গেমসে কাজে লাগবে।

বিওএ মহাসচিবের কথামতে, গেমস শুরুর কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়েছিল শ্যুটিং দল। লক্ষ্য এখানকার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো। অস্ট্রেলিয়ার গেম ভিলেজে বাংলাদেশ দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন অনুশীলন ভালো হচ্ছে।

এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধিত থাকবে বেলমন্ট শ্যুটিং সেন্টারের দিকে। যেখানে রোববার লক্ষ্যভেদের লড়াইয়ে নামবেন বাংলাদেশ দলের শ্যুটার রাব্বি হাসান মুন্না, আবদুল্লাহ হেল বাকী, আরদিনা ফেরদৌস ও আরমিন আশা। এদের মধ্যে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মুন্না ও বাকী। মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে লড়বেন আরদিনা ও আসা।

বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু বাসসকে বলেন, ‘শ্যুটাররা মানসিকভাবে চাঙ্গা রয়েছে। প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে। তবে ইংল্যান্ড, ভারত ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোও জোড়ালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। সুতরাং আমাদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হবে।’

শ্যুটিংয়ে ভারতকেই প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবছে বাংলাদেশ। অপু বলেন, ‘ভারত ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাদের অলিম্পিক শ্যুটাররাই এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আমরা যেখানে ওয়াইল্ডকার্ড নিয়ে অলিম্পিকে যাই, সেখানে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোয়ালিফাই হয়। গত আসরেও তাদের আটজন শ্যুটার কোয়ালিফাই হয়ে অলিম্পিকে লড়েছে। যদিও পদক আনতে পারেনি। যেহেতু তারা যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে অলিম্পিকে খেলে, তাই তাদের সঙ্গে টেক্কা দেয়া কঠিন হবে।’

তবে অপু আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেন, ‘তারপরও আমরা প্রস্তুত। ভালোভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন সঠিক দিনে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করতে পারলে পদক নিয়ে দেশে ফিরতে পারবো।’

১৯৯০সালে অনুষ্ঠিত অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে এয়ার পিস্তল থেকে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার নিনি। এয়ার পিস্তল থেকে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তারা। এটিই এই গেমসে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পদক। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অনুষ্ঠিত গেমসে এয়ার রাইফেল ইভেন্ট থেকে লাল সবুজদের শিবিরে স্বর্ণপদক এনে দেন আসিফ হোসেন। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত গেমসে বাংলাদেশ দলগত ভাবে রৌপ্য এবং ২০১০ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত গেমসে দলগত ব্রোঞ্জ পদক জয় করে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো নগরীতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে এই শ্যুটিং থেকেই বাংলাদেশকে রৌপ্যপদক এনে দেন আবদুল্লাহ হেল বাকী। যাকে ঘিরেই এবারো পদক প্রত্যাশার স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ। যে কারণে তাদের পদক প্রাপ্তির বিপরীতে আগাম অর্থ পুরস্কার প্রদানের ঘোষনা করেছে শ্যুটিং ফেডারেশন ও বিওএ।

Author

ID NO : স্টাফ রিপোর্টার

Share Button

Comment Following News

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top