ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার সাধারন জনগন দলিল লেখকদের কাছে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে। জমি ক্রেতাদের নিকট থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দলিল সম্পাদন বাবত লেখক সমিতি আদায় করছে অতিরিক্ত টাকা। দলিল লেখকরা একদিকে ক্রেতা-বিক্রেতা দের ধোঁকাদিয়ে বোকা বানিয়ে বেশী অর্থ আদায় করছে অন্যদিকে কারসাজি করে দলিল সম্পাদন করছে। একদিকে সমিতির মাধ্যমে নিদ্ধারিত আয় অন্যদিকে ক্লায়েন্টদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়-এ দুয়ের মাঝে দলিল লেখকরা হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
জানা গেছে দলিল লেখক সমিতি , নিজেদের তৈরীকরা নিয়মে নাল, খাল, বিল , বাড়ি ইত্যাদি জমির শ্রেনী বিভাজন তৈরী না করে সকল ক্ষেত্রে আড়াই পার্সেন্ট ও অফিস এক পার্সেন্ট করে টাকা আদায় করছে। সমিতির মূল নীতি হলো একতাই শক্তি সূতারাং অতিরিক্ত বলে কিছু নেই-বাধ্যতামূলক এ টাকাই দিতে হবে যদি দলিল রেজিষ্ট্রি করতে হয়। বিশ^স্ত সূত্রে জানাযায় বর্তমানে যে অতিরিক্ত রেট আদায় করা হচ্ছে তারথেকে আরো বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। হেবা দলিলের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬% টাকা-বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সর্বনি¤œ ৪ লাখ টাকার দলিল হলে ৬% দিতে হবে আর এর বেশী টাকার দলিলের ক্ষেত্রে ৫% পর্যন্ত বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা যায়। সাফ কবলা ও দানপত্র দলিলে সরকারী খরচ-৮০০০ (আট হাজার) টাকা স্টাম্প ফিস সহ এবং হেবা দলিল প্রতি খরচ-৭০০ (সাত শত) টাকা - স্ট্যাম্প ফিসহ নিদ্ধারিত হলেও একই রেট প্রদান করতে হবে। শ্রেনীভিত্তিক সরকার নির্দ্ধারিত রেইটের তোয়াক্কা না করে নাল, বাড়ি খাল যাই থাকুকনা কেন দলিল লেখক সমিতি নিদ্ধারিত ৬% টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের। দলিল লেখক সমিতিকে প্রতি লাখে কবলা ও দানপত্রের ক্ষেত্রে জমাদিতে হয় ২০০ (দুই শত টাকা) ও হেবা দলিলে সমিতিতে প্রতি লাখে আদায় ১০০০ (এক হাজার) টাকা। মাস শেষে এই টাকা দলিল লেখকদের মধ্যে পয়েন্ট অনুযায়ী ভাগাভাগি করা হয়। প্রতি মাসে সমিতি থেকে কিছু সংখ্যক দলিল লেখকের আয় ১ লক্ষ টাকারও বেশী এবং অন্যান্য দলিল লেখক এর নূন্যতম আয় ৫০ হাজার টাকা। পয়েন্ট হিসেবে ২/৩ লক্ষ টাকাও আয় আছে কারো কারো সালথা সাব রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে। সরকার কতৃক নিদ্ধারিত ফি থাকা সত্বেও দলিল লেখকরা সমিতির ইচ্ছামাফিক রেইটের ধূয়া দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠেছে ,আর কারসাজি করে মিথ্যা তথ্যদিয়ে অত্যাচারের খড়গ ক্রেতা-বিক্রেতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বসে আছে বলার , দেখার কেউ নেই- নেই কোন জবাবদিহীতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাব রেজিষ্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট একজন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখানে দলিল করতে হলে সমিতি নির্দ্ধারিত রেট এর ক্ষেত্রে কোন ছাড় হবেনা। অন্য আর এক প্রশ্নের জবাবে জনৈক ব্যক্তি বলেন, ইউএনও, ডিসি, সচিব সাহেব সবাইকে আমরা চিনি-কাউকেই আমরা পথ দেখাইনা-পথ দেখাইলে সবার চোখ খুলে যাবে। সাধারন জনগনের প্রশ্ন দলিল লেখকদের হরিলুট কারবার , সীমাহীন প্রতারনা আর স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে যথাযথ কতৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন কি ? 

Author

ID NO : বুলবুল হোসাইন, সালথা, ফরিদপুরের

Share Button

Comment Following News

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top