বাংলাদেশের উত্তরঅঞ্চলের দিনাজপুরের পূর্বঅঞ্চলের মধ্যপাড়ায় এক মাত্র পাথর খনি। মধ্যপাড়ার পাথর খনিতে পাথর উত্তোলন ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও উত্তোলনকৃত পাথর বিক্রয় কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি অর্থনীতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উন্নয়নের ধারবাহিকতার অন্যতম অংশীদার জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) বর্তমানে দেশের একমাত্র মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে প্রতি মাসে ১ লক্ষ ২৩ হাজার টন পাথর খনির ভূ-গর্ভ থেকে উত্তোলনের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
গত অক্টোবর-২০১৮ ইং সালে পাথর উত্তোলনের নয়া রেকর্ড তৈরী হলেও পাথর বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অব্যবস্থার জন্য বর্তমানে খনি এলাকার ৯ টি স্টক ইয়ার্ডে প্রায় ৩ লক্ষ মেট্রিক টন পাথর অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। যার দেশিও বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৭০-৮০ কোটি টাকা।
মধ্যপাড়া খনি সুত্রে জানা গেছে যে , জিটিসি কোম্পানীটি বিগত মাস গুলোতে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টন পাথর উত্তোলন করলেও মধ্যপাড়া পাথর খনি (এমজিএমসিএল) কর্তৃপক্ষ গড়ে ৫০ শতাংশ পাথরও বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছে না বলে জানা যায়। প্রধানত বর্তমান মৌসুম পাথর বিক্রির জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। তৎসত্বেও দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনি কর্তৃপক্ষের বিক্রয় নীতি, বাজার উপযোগী না হওয়ার ফলে প্রতি মাসে ১০ কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোম্পানীটি।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত ২০১৫ ইং সালের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপাড়া পাথর খনি কর্তৃপক্ষের অদক্ষ বিপনন ব্যবস্থার কারনে পাথর খনির ৯ টি ইয়ার্ডে প্রায় ৭ লক্ষ টন পাথর অবিক্রিত থাকার দরুন উদ্ভুদ পরিস্থিতির জন্য দেশের একমাত্র পাথর খনিটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অবিক্রিত পাথরের স্তুপ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তে থাকলে পাথর খনিটি আবারো বন্ধের মুখে পড়তে পারে। এমতবস্থায় খনির উপর নির্ভরশীল শ্রমিক ও এলাকাবাসীগণ প্রত্যক্ষভাবে জীবন ও জীবিকা নির্বাহে অপূরনীয় ক্ষতির সন্মুখীন হতে পারে। সরকার এল.জি.ই.ডি, ফ্যাসিলিটিস ডিপাটমেন্ট (শিক্ষা), গণর্পূত বিভাগ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ ও সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি কে যদি মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহার করার জন্য বাধ্য করতেন তাহলে একদিকে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পেত অন্যদিকে দেশিও টাকা দেশেই থাকত এবং ঐ কোম্পানীটি ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ঐ প্রতিষ্ঠানগুলির কাজে পঞ্চগড়ের ভাঙ্গা পাথর এবং ভারত থেকে আমদানী করা পাথর সরকারী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানগুলি, কলেজ ও বড় বড় ব্রীজ কালভাট গুলি নিমার্ণ কাজে পঞ্চগড়ের পাথর এবং আমদানী করা পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। মধ্যপাড়ার পাথর ৫০ ভাগ ব্যবহার করা হচ্ছে না এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে। কাজেই মধ্যপাড়া পাথর খনিটি দিন দিন অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপাড়া পাথর খনিটিকে সঠিক বিক্রয় নীতি প্রনয়ন করে পাথর খনিটিকে লাভজনক করতে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করছেন এলকাবাসী।

Author

ID NO : মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর

Share Button

Comment Following News

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top