বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি মাদ্রাসা অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়ন ও আগুনে পুড়িয়ে মারার বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের একক প্রতিবাদকে সামাজিক প্রতিবাদ-প্রতিরোধে রূপ দিতে সকল গণ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মেনন বলেন নুসরাত ঐ প্রতিবাদ করতে গিয়ে যে অনন্য উদাহরণ রেখে গেলেন তা রাষ্ট্র ও সমাজড়কে নতুন ভাবে জাগ্রত করবে। ঐ যৌননিপীড়ণ ও আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও দলীয় নেতাদের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ঘৃণ্য অপচেষ্টার নিন্দা জানিয়ে মেনন বলেন, এসব ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রশ্নকে সামনে এনে অপরাধ আড়াল করার প্রচেষ্টা রাষ্ট্র ও প্রশাসনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। মেনন বলেন সাম্প্রতিক অতীতে ব্লগারদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা এই ধারণার সত্যতা প্রমাণ করে। মেনন বলেন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিকতা সম্পর্কে যারা উচ্চকণ্ঠ তাদের ধারণাও যে ভুল মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের উপর ধারাবাহিক যৌন নিপীড়ন ও শেষে তার প্রতিবাদ-প্রতিরোধকে গুড়িয়ে দিতে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা তার প্রমাণ দেয়। 

আজ ১৩ এপ্রিল শনিবার বিকেল ৩টায় তোপখানা রোডস্থ পার্টি কার্যালয়ে বিভিন্ন গণসংগঠনের এক যৌথ সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি একথা বলেন। সভার শুরুতে নুসরাত জাহানের আত্মদানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এবং নুসরাতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। মেনন বলেন, কেবল নারী অধিকারের বিষয়েই নয়, ইউটিউবে প্রচারিত বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, বৈশাখের নববর্ষ অনুষ্ঠানের মত প্রতিষ্ঠিত বিষয়ে কেবল বিষোদাগার করাই হচ্ছে না এ বিষয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জও করা হচ্ছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এ ধরনের রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী প্রচার কাজের ব্যাপারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোনই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। পক্ষান্তরে সংবাদপত্রে দুর্নীতির রিপোর্ট করার জন্য সম্প্রতি যুগান্তরের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ রিমা-ে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে এবং ঘটছে।
পার্টির মহানগর কমিটির সভাপতি কমরেড আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে গণসংগঠনসমূহের যৌথ সভায় নুসরাতকে যৌন নিপীড়ন ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার বিরুদ্ধে আগামী ১৬ এপ্রিল দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই সাথে সভায় পয়লা বৈশাখ নববর্ষ বরণকেও উৎসব আনন্দের পাশাপাশি প্রতিবাদ-প্রতিরোধের অনুষ্ঠানকে পরিণত করার আহ্বান জানান হয়। যৌথ সভায় নারী মুক্তি সংসদ, গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, জাতীয় কৃষক সমিতি, খেতমজুর ইউনিয়ন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ও নতুন কথা’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Author

ID NO : কামরূল আহসান

Share Button

Comment Following News

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top