উপাচার্য অপসারণের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চলমান আন্দোলকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের পদধারী কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। 

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংস পরিস্থিতি এড়াতে কর্তৃপক্ষ হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। বিরোধী মতের কারণে সহিংস ঘটনার সৃষ্টি আমাদের কাম্য নয়। হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তৃতীয় কোনও পক্ষ সুযোগ নতে পারে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হোক, তা সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা চায় না।’ 

বুধবার (৬ নভেম্বর) বিকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষা উপমন্ত্রী। 

এর আগে দুপুর সাড়ে ৩টার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হল না ছাড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় এসেছিলেন, আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তারা অভিযোগ জমা দেবেন তথ্য প্রমাণাদিসহ। কিন্তু, দুর্ভাগ্যের বিষয় যে সেটা হওয়ার আগেই আমরা দেখতে পেয়েছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপচার্যের বাসভবন ঘিরে একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সেখানে অবস্থান করে অবরোধের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপাতত বন্ধ রাখার।’

আন্দোলনের ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে উপমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে গেছে। এর ফলে আমাদের সন্তানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমরা চাই না একে অপরের দ্বিমত প্রকাশের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হোক। সবার নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে যেন কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।’

উপমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে মূল অভিযোগ তথ্য-প্রমাণাদিসহ দয়া করে আমাদের কাছে উপস্থাপন করুন, আমরা তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। বিশ্ববিদ্যালয় এই মুহূর্তে বন্ধ ঘোষণা হয়েছে, আমরা আশা করি সেখানে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকবে এবং ছাত্রছাত্রীরা যার যার মতো যেটা ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা ব্যবস্থা নেবেন।’

গত দুই মাস ধরে অচলাবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে উপমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্বশাসিত, সেখানে নিজস্ব প্রশাসন আছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক উপাচার্য নিয়োজিত হয়েছেন, সিন্ডিকেট আছে সেখানকার বডিগুলো ভিন্ন। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি হস্তক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে করি না। সেখানে কোনও ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া সরাসরি হস্তক্ষেপ করব, আইনি কাঠামোতে সেটা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই আমাদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।’

উপাচার্যের বাসভবন অবরোধ প্রসঙ্গে উপমন্ত্রী বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয়ের বক্তব্য হচ্ছে- সেখানে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল, সেজন্য তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সাহায্য চেয়েছিলেন। আমাদের দাবি-দাওয়া থাকতে পারে, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বাড়ি ঘেরাও করে অবরুদ্ধ করে ফেলি, সেটা অমানবিক এবং স্বাভাবিকভাবেই সেটা নৈতিকতার পর্যায়ে পড়ে না। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক মণ্ডলীকে বিশেষ করে আহ্বান জানাবো, তাদের মাধ্যমেই তো আমাদের ছাত্রছাত্রীরা শিখবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মত-দ্বিমতের সংষ্কৃতি থাকবে, সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের সৌন্দর্য। সেটা সহিংসতায় রূপাস্তরিত হলে আমাদের হস্তক্ষেপ করতে হয়, তবুও আমরা চেষ্টা করি একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় করতে পারি। এখানে বল প্রয়োগের কোনও বিষয় নেই। সহিংস কাজ যারা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।’

Author

ID NO :

Share Button

Comment Following News

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top