দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সেটেলমেন্ট অফিসে দালাল ফড়–য়াদের তৎপরতা বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। অনিয়ম দূর্নীতি, দেখার কেউ নেই। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সেটেলমেন্ট অফিসে এক যুগ ধরে চলছে জমি জমার মাঠ পর্চার কাজ। ৩০ ধারা, শুনানিতে বাদি বিবাদির নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। কাগজ বৈধ থাকলেও তাদেরকে মাসের পর মাস হয়রাণি করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে না মাঠ পর্চা। আবার অনেকে অবৈধ জাল দলিলের কাগজপত্র জমা দিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছে উৎকোচের বিনিময়ে। দীর্ঘ ১ যুগ ধরে ফুলবাড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জরিপের কাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই চলছে অনিয়ম দূর্নীতি। বর্তমান বেশকিছু ইউনিয়নে মাঠ পর্চার কাজ চলছে। মাঠ পর্চার কাজে বাদী বিবাদীরা কেউ ৩০ ধারায় আবেদন করেছে। যার কাগজপত্র ঠিক আছে তাকেও হয়রাণি করছে। অপরদিকে সেটেলমেন্ট অফিসের কতিপয় দালাল, অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিবাদীকে মাঠ পর্চা দেওয়ায় দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। অযথা সাধারণ মানুষকে হয়রাণি করা হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভূগিরা।
জানাযায়, ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউপির চককবির গ্রামের হরিপদ পালের স্ত্রী বুলবুলি রাণীর চককবির মৌজার ১৬৬ খতিয়ান ১.১৩ একর জমির ৩টি পর্চার আলাদা আলাদা খতিয়ান করে পর্চা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ২৩/০১/২০১৭ ইং তারিখে ফুলবাড়ী সেটেলমেন্ট অফিসের মোঃ মোশররফ হোসেন ৩ হাজার টাকা নিয়ে আলাদা খতিয়ান খুলে পর্চা না দিয়ে পুরাতুন খতিয়ানে অংশ বসিয়ে দেন। এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার বুলবুলি রাণি পালের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, উক্ত অফিসের মোঃ মোশাররফ হোসেন পৃথক পৃথক পর্চা দেওয়ার কথা বলে  ৩ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। কিন্তু একই পর্চায় সবার নাম দেন। উক্ত সেটেলমেন্ট অফিসে এলাকার শত শত মানুষ দালাল খপ্পরদের পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। বর্তমান উক্ত সেটেলমেন্ট অফিসে শিবনগর ইউপির সদস্য মজনু হক, মোঃ মোশাররফ হোসেন, বেতদিঘী ইউপির মোঃ আব্দুল আলিম, খয়েরবাড়ী ইউপির শ্রী লিটন কুমার সহ আরও বেশ কয়েকজন দালাল রিতিমত টাকার বিনিময়ে অবৈধকে বৈধ আর বৈধকে অবৈধ করে দিচ্ছেন। এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর রয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলার অনেকে কয়েক যুগ আগে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতে বা পাকিস্থানে চলে গেছেন এবং অনেকে মারা গেছেন তাদের নামের জমির জাল দলিল সৃষ্টি করে প্রভাবশালীরা মাঠ পর্চা নিয়েছেন এমন অভিযোগ রয়েছে।     
এছাড়া উক্ত অফিস থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন জমি জমার মালিক কে ৩০ ধারা শুনানিতে নোটিশ প্রদান করে। তারা নোটিশ পাওয়া মাত্র সেটেলমেন্ট অফিসে এলে তাদের কে হাজিরা দিতে হয়। এ সময় প্রতি নোটিশের হাজিরায় ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগ করেছেন সুলতানপুর গ্রামের প্রদীপ, সুনিল চন্দ্র, মধ্য সুলতান পুরের বুলবুল সহ অনেকে।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী সহ কারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ আফসার আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, উক্ত অফিসে কর্মরত তারা কেউ এই অফিসের নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মচারী নয়। তারা আমাদেরকে সহযোগীতা করেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে ফুলবাড়ী সেটেলমেন্ট অফিসে কর্মরত বেশ কয়েকজন দালাল অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। তাদের কারণে সাধারণ মানুষ উক্ত অফিসে সুষ্ঠু ভাবে কাজ করতে পারছে না। তাদের মাধ্যমে উৎ কোচের টাকা চলে যায় কর্মকর্তাদের পকেটে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা দালাল ও দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Author

ID NO : মোঃ আফজাল হোসেন,ফুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধি

Share Button

Comment Following News

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top