পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়ে এই আহ্বান জানায় জোটটি।

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠনের পাশাপাশি যদি নিয়মিত পর্যালোচনার একটি ব্যবস্থা করা হয়, তবে সেটি পোশাক খাতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে তা সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক খাতে যে অনভিপ্রেত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে, তা-ও এড়ানো যাবে। এ ধরনের পরিস্থিতি শিল্পের ভাবমূর্তি ও আস্থা ক্ষুণ্ন করে, যা সরকারসহ সবাই কঠোর পরিশ্রম করে অর্জন করেছে।

১২ জানুয়ারি অ্যাকর্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই চিঠি দিয়েছে। অ্যাকর্ডের পক্ষে চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ। বৃহস্পতিবার চিঠির অনুলিপি নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে অ্যাকর্ড। সেই চিঠির অনুলিপি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমানকে দিয়েছে সংস্থাটি।

মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত মাসে আশুলিয়ায় পোশা৬কশ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার ৫৯ কারখানা চার দিন বন্ধ থাকে। এ সময় আন্দোলন করার অজুহাতে অনেক শ্রমিককে ছাঁটাই করে কয়েকটি কারখানার কর্তৃপক্ষ। কয়েক হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা হয়। পুলিশের হাতে বেশ কয়েকজন শ্রমিকনেতা গ্রেপ্তার হন। এই প্রেক্ষাপটেই অ্যাকর্ড প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের পর দেশের পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ইউরোপীয় ২২০ ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা এবং দেশি-বিদেশি শ্রমিক সংগঠনের চুক্তির মাধ্যমে অ্যাকর্ড গঠিত হয়। পরিদর্শনের মাধ্যমে পোশাক কারখানার অগ্নি, ভবন ও বৈদ্যুতিক ত্রুটি চিহ্নিত করে অ্যাকর্ড। তারপর সংস্থার তত্ত্বাবধানে ত্রুটি সংশোধন করে কারখানাগুলো। অ্যাকর্ডের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স একইভাবে কাজ করছে।

চিঠিতে অ্যাকর্ড বলেছে, গত তিন বছরের বেশি সময়ে অ্যাকর্ডের অধীনে দেশের পোশাকশিল্প নিরাপত্তা ইস্যুতে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে গত মাসের আশুলিয়ার ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বেগ জানিয়ে অ্যাকর্ড বলেছে, সম্প্রতি যাঁদের আটক ও ছাঁটাই করা হয়েছে, তাঁরা শ্রমিক অধিকারে সোচ্চার। বিশ্বস্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে কমপক্ষে ১৪ জন আটক বা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন পুলিশি হেফাজতে আছেন। দু-তিনজনকে মারধর করা হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া আশুলিয়ার শ্রমিক-অসন্তোষে সাত শতাধিক শ্রমিকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আছে এবং তাঁরা সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের হুমকির মধ্যে আছেন।

দেশের শ্রম ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী দেশের শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় শিগগিরই ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছে অ্যাকর্ড। একই সঙ্গে শ্রমিকদের যদি অন্যায়ভাবে আটক ও ছাঁটাই এবং মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি।

অ্যাকর্ডের পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত এইচঅ্যান্ডএমসহ ২০টির বেশি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান পোশাকশিল্পের মজুরি পর্যালোচনার জন্য অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মিলিতভাবে একটি চিঠি দিয়েছে। এতে আশুলিয়ার সাম্প্রতিক শ্রমিক-অসন্তোষের বিষয়টি উল্লেখ করে শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণের অনুরোধ করা হয়।

পোশাক খাতে সর্বশেষ ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মজুরি বাড়ে। সে সময় খাতটির ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী, মজুরি ঘোষণার এক বছর পর ও তিন বছরের মধ্যে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সুযোগ আছে। পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠিত হবে।

অ্যাকর্ডের চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠন করার আহ্বান জানানোর কোনো এখতিয়ার অ্যাকর্ডের নাই। কারণ, তাদের কার্যক্রম কেবলমাত্র পোশাক কারখানা পরিদর্শন ও তত্ত্বাবধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ।’

এইচঅ্যান্ডএমসহ অন্য ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের চিঠির বিষয়ে মোহাম্মদ নাছির বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের পোশাকের দাম বাড়াতে অনুরোধ করছি। তারা পোশাকের দাম এক সেন্ট বাড়ায়নি, বরং কমিয়েছে। উল্টো গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কারখানার মান উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের চাপ আছে মালিকদের ওপর।

Author

ID NO :

Share Button

Comment Following News

E-mail : info@dpcnews24.com / dpcnews24@gmail.com

EDITOR & CEO : KAZI FARID AHMED (Genarel Secratry - DHAKA PRESS CLUB)

Search

Back to Top