রবিবার, আগস্ট ১, ২০২১
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
রবিবার, আগস্ট ১, ২০২১
Homeদেশকুরআনের আলোয়, আলোকিত পরিবার!

কুরআনের আলোয়, আলোকিত পরিবার!

কুরআনের আলোয়, আলোকিত পরিবার!

আদর্শ পরিবার গড়ার একটা কন্সেপ্ট। আয়োজকদের দাওয়াত পেয়ে সকাল ৮ঃ৩০ মিনিটে পৌছালাম ombazar.com এর অডিটোরিয়ামে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছিলেন এক প্রানবন্ত যুবক। ডাক্তার নাবিল মাহমুদ নিলয়।

আলোচনার বিষয়বস্তুঃ
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আমাদের কি হুকুম দিয়েছেন আর আমরা কি করছি!

আল্লাহ বলেন, “তোমরা রিজিকের সন্ধানে হাঁটো।”
এই কথার মর্মার্থ হল, রিজিক তোমার নিশ্চিত, তুমি যত চেষ্টাই কর এটা বদলাতে পারবেনা। অতএব, রিজিক নিয়ে ছোটাছুটি করে কোন লাভ নেই।

আল্লাহ বলেন তোমরা দ্বীনের পথে দৌড়াও! আর আমরা দ্বীনের পথে হাঁটি, কারন আমাদের কাছে এর গুরুত্ব কম!

আল্লাহ বলেন, তোমরা সালাত এবং আমার স্মরনে দৌড়াও। আর আমরা দৌড়াই ক্যারিয়ার, চাকরি এবং ব্যবসার উদ্দেশ্যে।

আল্লাহ বলেন, তোমরা প্রতিযোগিতা কর ক্ষমা ও জান্নতের জন্য। আমরা প্রতিযোগিতা করি সন্তান এবং সম্পদ নিয়ে!

আল্লাহ বলেন তোমরা ভোঁদৌড় দাও আমার দিকে। আর আমরা ভোঁদৌড় দেই রিজিকের সন্ধানে!

একবার ভাবুনতো, আপনি আপনার সাবঅর্ডিনেটকে হুকুম করলেন একটা আর সে করলো আরেকটা, আপনি কি তাকে পুরষ্কার দিবেন না ছাটাই করবেন?

আল্লাহ কত মহান! আমরা তার হুকুম না মানার পড়েও আমাদেরকে রিজিক নিয়ে যাচ্ছেন অবিরাম!

এই অনুষ্ঠানে গিয়ে আমার যে উপলব্ধি হয়েছে আজকে তাই লেখার চেষ্টা করছি।

মহান রাব্বুল আলামিন, পবিত্র কুরআনে, (সুরা আবাসা, আয়াত ৩৪-৩৬) পারিবারিক সম্পর্কগুলো বর্ননা করেছেন এই সিরিয়ালে- ভাই-বোন, মা, বাবা, স্ত্রী এবং সন্তান!

মানুষ হাশরের ময়দানে উপরোক্ত ৫টি সম্পর্কের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াবে। কারণ, দুনিয়ায় আমরা সবার আগে এদের হক নষ্ট করি!

কিন্তু দুনিয়াবি হিসাবে আমরা সম্পর্কে প্রাধান্য দেই প্রথমে সন্তান -স্ত্রী-বাবা-মা-ভাই/বোন-অন্যান্য আত্বীয়।
আজ যে সন্তান, আমার কাছে, সকল কিছুর চেয়ে প্রিয়, যার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আমরা উপরোক্ত সকল সম্পর্ক ছিন্ন করি, অন্যের হক নষ্ট করি। হাশরের ময়দানে যখন সকলেই “ইয়া নাফসি! ইয়া নাফসি!” করবে, তখন মানুষ জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য সবার আগে এই সন্তানকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে!

একজন মহিলাকে যখন হাসরের মাঠে পাকড়াও করা হবে, তুমি দ্বীনের হুকুম কতটুকু পালন করেছ?

সে উত্তরে বলবে ইয়া গাফুরুর রাহীম- আমি জীবনের প্রথম পর্যায়ে বাবার দায়িত্বে ছিলাম। বাবার মৃত্যুর পরে ভাইয়ের দায়িত্বে ছিলাম, বিয়ের পড়ে স্বামীর দায়িত্বে ছিলাম। স্বামীর মৃত্যুর পরে ছেলের দায়িত্বে ছিলাম – এরা কেউই আমাকে দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষা দেননি, অতএব, আজকে আমার সাথে সাথে তাদেরকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হউক!

সন্তানও আল্লাহর কাছে নালিশ জানাবে আমার পিতা-মাতা আমাকে দ্বীনের সঠিক শিক্ষা দেইনি, কুরআনের আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ দেইনি। আজকে আমার সাথে তাদেরকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হউক!

হায়! আমরা আজ কোথায় দাঁড়িয়ে! একটু চিন্তা করি, যে স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্মানের চিন্তায় আমরা অস্থির, হাশরের ময়দানে এই স্ত্রী-সন্তানই সবার আগে আমার/আপনার ব্যাপারে নালিশ জানাবে।

তাই আসুন, সন্তানের দুনিয়াবি কল্যাণের পাশাপাশি তাকে পরকালের কল্যাণের জন্যও তৈরি হতে সাহায্য করি।
এমন সন্তান রেখে যাই, যে আমার মৃত্যুর পরে আমাকে গোসল দিতে ভয় পাবেনা, আমার জানাজার নামাজ নিজে পড়াবে, কবরে নিজে নেমে দাফন সম্পন্ন করবে এবং আমৃত্যু নামাজের ভিতরে ও বাইরে আল্লাহর কাছে হাত উঠিয়ে বলবে – রাব্বির হামহুমা কামা রব্বায়ানি সগীরা!

তাই আসুন, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দেই, সময় থাকতে পবিত্র, “কুরআনের আলোয় আলোকিত পরিবার” গড়ে তুলি।

অন্যান্য সংবাদ
- Advertisment -spot_img
bn Bengali
X
%d bloggers like this: