শুক্রবার, মে ৭, ২০২১
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
Homeঅর্থনীতিপ্রথমদিনে নিয়ম মেনে দোকান ও মার্কেট বন্ধ

প্রথমদিনে নিয়ম মেনে দোকান ও মার্কেট বন্ধ

করোনা ভাইরাস রোধে জনস্বার্থে টানা ১১ দিন বন্ধ থাকার পর বিপনীবিতানসহ মার্কেট খুললেও নিয়ম মেনে সময়মতো বন্ধ করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তে সময় বাড়ার আশ্বাসে বাড়ি ফিরেছেন দোকানীরা।
আজ রোববার প্রথমদিনে নিয়ম মেনে দ্কোানপাট ও শপিংমল বন্ধ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা থাকার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ব্যবসায়ী মালিক সমিতি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত চাঁদরাত পর্যন্ত বলবৎ থাকতে পাওে বলে জানিয়েছে চাঁদনীচক,চন্দ্রিমা মার্কেটের কিছু দোকানী।
এদিকে,সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে এসব শপিংমল ও বিপনীবিতান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত আসলে ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মাঝে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে আবার করোনা সংক্রামনের ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে মার্কেট খোলা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। দোকানীদের একাংশ বলেছেন,এই স্বল্প সময়ে শপিংমল খোলা থাকলেও ক্রেতা সমাগম কম থাকার কারণ হিসেবে গণপরিবহগন বন্ধ থাকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অনেকে আবার মনে করছেন সময়সীমা বাড়ানো হলে রোজা এবং গরম আবহাওয়া উপেক্ষা করে অনেক ক্রেতা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না। ইফতারীর পর কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন ক্রেতাদের কেউ কেউ। সুতরাং ১০ টা পাঁচটা সময়সীমা পরিবর্তন করে তা কিছু সময় বাড়িয়ে দিলে ক্রেতাসমাগম বাড়ার পাশাপাশি বিক্রেতারাও লাভের মুখ দেখবেন।
তারা বলেন,গতবছর করোনা ভাইরাসের কারণে গতবছর থেকে ব্যবসায় মন্দাভাব কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এবার আশা ছিল বৈশাখ এবং রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিবেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে বৈশাখ বাণিজ্য হয়নি। আবার স্বল্পসময়ের মধ্যে বিক্রির কম হতে পারে।
রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, চাঁদনীচক, নূরম্যানশন, মীরপুর কো অপারেটিভ মার্কেট, মীরপুর শপিংমল, শাহআলী মার্কেটসহ ধানমšডীর কিছু দোকান ও শপিংমলেরর একইচিত্র দেখা গেছে। এদিকে জনসমাগমের পুরোনো চিত্র না দেখা গেলেও খানিকটা দেখা গেছে নিউমার্কেট গাউছিয়া মার্কেট, চাঁদনীচক,নূরম্যাশন মার্কেটে।
মীরপুর নিউমাকের্টে অবস্থিত টপটেন শপিংমলের সেলসম্যান আব্দুস সামাদ বলেন,সকাল ১০ টায় নিয়ম মেনে দোকান খোলা হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা ও সেলসম্যানরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে ক্রেতাদের স্যানিটাইজ করেছে এবং শরীরের তাপমাত্রা চেক করেছে। তারপরও এখন দুপুর পর্যন্ত হাতেগোনা ১০/১৫ জন ক্রেতা এসেছে ; এদের মধ্যে অনেকে ঘুরে ঘুরে পণ্য দেখলেও কম সংখ্যক কিছু ক্রেতা কেনাকাটা করেছেন। আশায় আছি গণপরিবহন চালু হলে ক্রেতাসমাগম বাড়বে।
ধানমন্ডীতে অবস্থিত একটি কসমেটিক দোকানের সেলস এক্সজিকিউটিভ মোহাম্মদ স্বপন বলেন,প্রায় বারোটার দিকে কিছু কাস্টমার এসেছে। বেচাকেনা তেমন হয়নি। মার্কেট খুলে দেওয়্য়া করোনা সংক্রামণ আরো বাড়তে পারে। যারা গণপরিবহনে যাতায়াত করেন তারা গাড়িতে ওঠার পরপ্রতি সিটে একজন করে বসেন, কিন্তু রাস্তায় গাড়ি কম থাকা এবং অতিরিক্ত মানুষ থাকায় গাড়িতে উঠতে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়,কে আগে আসন পাবে এই নিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। কিউ মানা হচ্ছে খুব কম স্থানে। স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দূরত্ব মানা হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রতি সন্তুষ্ট প্রকাশ করে তিনি বলেন,এরবেশী সময় দেওয়া ঠিক হবে না। যারা কেনাকাটা করতে আসবেন তারা এই সময়ের মধ্যে আসবেন।
ঢাকা সুপার নিউমার্কেটের দোকানী আব্দুর রউফ জানান, নিরাপত্তাকর্মীরা মার্কেটে ঢোকার মুখে হ্যান্ড স্যানিটাইজ করছে। আমরাও দোকান ঝাড়–পোছ করে বসছি। এখনো বেচাকেনা শুরু হয়নি। কাল থেকে হয়তো ক্রেতারা আসবে।
গাউছিয়া মার্কেটের নূরম্যানশন সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান,সকালে দোকান খোলার পর একজনমাত্র ক্রেতা এসেছে। ঈদেও আর বেশি সময় বাকি নেই। বুঝতে পারছি না এইবার ব্যবসায় মূলধন তুলতে পারবো কি না। এদিকে, মার্কেটের নীচে অনেক লোকজন থাকলেও দোতলা ও তিনতলায় ক্রেতা সংখ্যা অনেক কম। মার্কেটের নিচের দিকে শতকরা ৪০ শতাংশ মানুষ মাস্ক পড়ে ঘুরছে। অনেক দোকানে নেই স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা। এখানে এই ভিড়ের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানাও সম্ভব না।
কেনাকাটা করতে আসা নুরুল আমিন জানান, ঈদের জন্য নয়, দরকারে কিছু কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছি। কামরাঙ্গীচর থেকে আসতে ঝক্কি কম পোহাতে হয়নি। পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাটারিচালিত অটো রিকশায় প্রায় পাঁচগুণ ভাড়া গুনতে হয়েছে। অনেকেই কেনাকাটা করতে এসেছেন। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও গরম আর করোনার ভয়ে এভাবে মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসার আগ্রহ অনেকের কমে যাবে।
চাঁদনীচকের দোতলায় হেনা জুয়েলার্সের সত্বাধিকারী আসিফ চৌধুরী বলেন,সরকার ক্রেতাÑবিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে দোকানপাট ও শপিংমল খোলার সময় বৃদ্ধি করছে বলে জানিয়েছে মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ। আসলে সময় বাড়লেও মানুষের মনে ভয় ঢুকে গেছে। খুব দরকার না পরলে মানষ কেনাকাটা করতে আসবেন না। সময় বৃদ্ধি করলে ক্রেতাসমাগম হবে বলে আশা করা যায়।

অন্যান্য সংবাদ
- Advertisment -spot_img
bn Bengali
X
%d bloggers like this: