শুক্রবার, জুন ২৫, ২০২১
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
শুক্রবার, জুন ২৫, ২০২১
Homeঅর্থনীতিবাদশাহ শাহ্ ফয়সাল ও সৌদি আরবের নানা কথা - ১

বাদশাহ শাহ্ ফয়সাল ও সৌদি আরবের নানা কথা – ১

না কলম, না কাগজ। মাথার ওপর ছাদ! আর না বসার কোন ব্যবস্থা! একজন শিক্ষক মরুভূমির উত্তপ্ত বালির ওপর কিছু লিখতো। ঐ শিক্ষকের ছাত্ররাও তা দেখে বালিতে ঐ অক্ষরগুলো লিখতো। কখনো বাতাসের ফলে লেখাগুলো মিলিয়ে যেতো। কিন্তু সেই শিক্ষকের এক ছাত্রের মন থেকে তা কখনো মিলিয়ে যেতো না।

তারপর সেই ছাত্র তাঁর বাবার সাথে মিলে একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলো। যা আরবের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধনী রাষ্ট্র হয়ে উঠে। সেই ছাত্র কীভাবে নাজরান জয় করে? সেই ছাত্র সৌদি আরবের বাদশাহ শাহ্ ফয়সাল। কিন্তু সে এত কিছু কীভাবে করলো? চলুন বাদশাহ শাহ্ ফয়সাল ও সৌদি আরবের নানা কথা সম্পর্কে জানা যাক।

আজকের সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ আধুনিক এক শহর। সুন্দর দালানকোঠা ও ৭৫ লক্ষ জনসংখ্যার বিশাল ও সুন্দর শহর। ১৯০৬ সালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অবস্থা এরকম ছিলো না। ১৯০৬ সালে রিয়াদে মরুভূমির তপ্ত বালির ওপর তৈরি কাঁচা বাড়িগুলোতে মাত্র কয়েক হাজার লোক থাকতো।

রিয়াদের সবচেয়ে সুন্দর বাড়ি ছিলো মাটি ও পাথরের তৈরি মাসমাখ দুর্গ (Masmak Fort)। যাকে কাসর আল মাসমাখও বলা হয় (Qaṣr al-Maṣmak)। এই দুর্গ এবং শহরে সৌদি রাজ পরিবার ও তাঁর সমর্থকরা বাস করতো। ১৯০২ সালে সৌদ পরিবারের প্রধান শাহ্ আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ মাত্র ৩০ জন লোকের সাহায্যে এই দুর্গ জয় করেন।

এই ছোট শহরে রিয়াদে ১৯০৬ সালের ১৪ ই এপ্রিলে আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদের তৃতীয় ছেলে শাহ্ ফয়সাল জন্ম গ্রহণ করলো। আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদের স্ত্রী তথা শাহ্ ফয়সালের মা তারফা বিনত আব্দুল্লাহ আল শেইখ (Tarfa bint Abdullah Al Sheikh) ওয়াহাবী মতবাদের সবচেয়ে বড় আলেম আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফের মেয়ে ছিলো।

আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফ ওয়াহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব এর বংশধর ছিলো। সে হিসেবে শাহ্ ফয়সাল বাবার তরফ থেকে আলে সৌদের বংশধর এবং মায়ের তরফ থেকে আল আস শেইখ বা ওয়াহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতার বংশধর ছিলেন। এই দুটি পরিবারের মধ্যে ১৫০ বছর যাবৎ রাজনৈতিক জোট ছিলো।

১৭৪৪ সালে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব সৌদ পরিবারের সাথে বন্ধুত্ব করে। সৌদ পরিবার আরব ভূমিতে ইসলাম এবং ওয়াহাবী মতবাদ প্রচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের কাছে। এই প্রতিশ্রুতির কারণে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব সৌদ পরিবারের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন ও চুক্তি করেন।

ঐ চুক্তি অনুযায়ী সৌদ পরিবার অমুসলিম ও যেসব মুসলিম ওয়াহাবী মতবাদ মানে না সেসব মুসলিমের বিরুদ্ধে জিহাদ করার অঙ্গীকার করে। এছাড়া এই চুক্তি অনুযায়ী শাসন ক্ষমতা আলে সৌদের হাতে এবং ধর্মীয় ক্ষমতা আলে শেইখ তথা ওয়াহাবী পরিবারের হাতে থাকবে তা নিশ্চিত করা হয়।

দুই পরিবার তাদের বন্ধনকে মজবুত করার জন্য নিজেদের ছেলে মেয়ের বিবাহও দেয়। এই রীতি কয়েক শতাব্দী পার হওয়ার পর আজও বজায় আছে। শাহ্ ফয়সালের জন্মের সময় তাঁর মা তারফা তাঁর বাবার বাড়িতে ছিলো। শাহ্ ফয়সালের জন্মের পর এক কর্মচারী ছুটে গিয়ে আব্দুল আজিজকে শাহ্ ফয়সালের জন্মের সুসংবাদ দেন।

শাহ্ ফয়সালের বয়স যখন ৭ দিন তখন তাঁর নানা কয়েকটি দুম্বা জবাই করে তাঁর আকিকা করেন এবং বড় দাওয়াতের আয়োজন করেন। ঐ দিনই আব্দুল আজিজ প্রথমবারের মতো তাঁর ছেলেকে কোলে নিয়ে তাঁর ছেলের নাম ছেলের প্রপিতামহ ফয়সালের নামে ফয়সাল রাখেন।

আব্দুল আজিজের দাদা ফয়সাল তথা শাহ্ ফয়সালের প্রপিতামহ ফয়সাল একজন অসাধারণ কুটনীতিবিদ ছিলেন। যিনি কোন আপস না করেই বড় সাম্রাজ্যগুলোর কাছ থেকে দাবি আদায় করতে বেশ দক্ষ ছিলেন। আব্দুল আজিজ তাঁর দাদার কুটনীতির গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছিলো। আব্দুল আজিজ তাঁর যে কোন এক ছেলের নাম তাঁর দাদার নামে রাখতে চাইতো।

আব্দুল আজিজ তাঁর বড় দুই ছেলের নাম ফয়সাল না রাখতে পারলেও তাঁর তৃতীয় ছেলের নাম ফয়সাল রাখেন। আব্দুল আজিজ চাইতেন তাঁর ছেলেও যেন বড় হয়ে অনেক বড় কুটনীতিবিদ হয়। একজন শাহজাদা হওয়ার সুবাদে শাহ্ ফয়সালের বাল্যকাল আরাম আয়াশে কাটার কথা থাকলেও তা হলো না।

কারণ আলে সৌদ শান্তিপূর্ণভাবে শাসন করতে পারছিলো না। আল সৌদের সাম্রাজ্য তখন নজদে সীমাবদ্ধ ছিলো। নজদের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিলো ওসমানী সালতানাত। যাদের সীমানা কুয়েত থেকে ওমান এবং ওমান থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। কুয়েত থেকে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত এই অংশের নাম ছিলো আল হাসা।

নজদের পশ্চিমে হেজাজে ছিলো ওসমানী সালতানাতের অধীনস্থ হাশেমীদের শাসন। নজদেী উত্তরে ছিলো আল রশিদ সাম্রাজ্য। আল রশিদ সাম্রাজ্যও অনেকটা ওসমানীয়দের অধীনস্থ ছিলো। আল রশিদ সাম্রাজ্য মাঝে মাঝেই আল সৌদের বিরুদ্ধে ওসমানীয়দের সামরিক সাহায্য নিতো। দক্ষিণে একটি ছোট সাম্রাজ্য আল আছির ছিলো। যা ওসমানীয়দের অধীনস্থ না হলেও আলে সৌদের শত্রু ছিলো।

একেবারে দক্ষিণে ইয়েমেন ছিলো। তারাও আলে সৌদের বন্ধু নয় বরং বড় শত্রু ছিলো। যারা আরব ভূখন্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কয়েকটি যুদ্ধ করেছিলো।

তিনদিকে থাকা শক্তিশালী ওসমানী সালতানাত এবং দক্ষিণে দুটি শত্রু সাম্রাজ্যে ঘিরে থাকা সৌদি সাম্রাজ্য ঠিকে থাকার জন্য মরণপণ লড়াই করছিলো। এই লড়াইয়ে পরাজয় মানে পরিবার নিয়ে তপ্ত মরুভূমিতে আশ্রয়হীন ঘুরে বেড়ানো। আর মৃত্যুর সামনে পতিত হওয়া।

আলে সৌদের এরকম একটি অভিজ্ঞতাও ছিলো। ১৮৯১ আল রশিদ সাম্রাজ্য আলে সৌদের রাজধানী রিয়াদ দখল করে তাদের সাম্রাজ্য শেষ করে দেয়। তখন শাহ্ ফয়সালের বাবা আব্দুল আজিজ এর বয়স মাত্র ১৬ বছর ছিলো।

আলে সৌদ ওসমানী সালতানাতের অংশ কুয়েতে আশ্রয় নেয়। এর ১২ বছর পর আব্দুল আজিজ গুটি কয়েক লোকের সাহায্য আবারও রিয়াদ জয় করে। এরপর আব্দুল আজিজ ধীরে ধীরে তাঁর সাম্রাজ্য শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আব্দুল আজিজ তাঁর সন্তানদেরও কঠোর প্রাণ করে তোলার প্রশিক্ষণ দিতে লাগলেন। যাতে তারা যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারে।

শাহ্ ফয়সালের প্রশিক্ষণ সূর্য উঠার দু ঘন্টা আগে শুরু হয়ে যেতো। অল্প খাবার খেয়ে জিন ছাড়া উত্তপ্ত গরম মরুভূমিতে ঘোড়া চালনা। উত্তপ্ত বালিতে খালি পায়ে পাথরের উপর দিয়ে দৌড়ানোর মত কঠিন প্রশিক্ষণ শাহ্ ফয়সাল এবং অন্যান্যদের দেওয়া হচ্ছিলো।

শাহ্ ফয়সাল তাঁর বাবার পরিবার থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ পাচ্ছিলেন। অন্যদিকে তাঁর নানার পরিবার থেকে ধর্মীয় শিক্ষা পাচ্ছিলেন। শাহ্ ফয়সালের মা তাঁর জন্মের ৬ মাস পরে মারা যান। এরপর থেকে শাহ্ ফয়সাল তাঁর নানা নানির কাছে থাকতে লাগলেন।

শাহ্ ফয়সাল এখানে পড়তে ও লিখতে শিখেন। নানার কাছেই তাঁর লেখাপড়ার হাতে খড়ি হয়। নানার ছত্রছায়ায় মাদরাসায় তিনি শিক্ষা গ্রহণ করতেন। কিন্তু সেই মাদরাসাও বা কেমন মাদরাসা! না সেই মাদরাসার কোন ছাদ ছিলো, না বসার জায়গা, আর না কাগজ কলম। শিক্ষক কাঠি দিয়ে বালির ভিতর অক্ষর লিখতো। ছাত্ররা সেগুলো পড়তো আর বালির ভিতর আঙুল দিয়ে সেগুলোর অনুকরণ করতো। মাঝে মাঝে হাওয়ার ফলে লেখাগুলো মিলিয়ে যেতো।

কিন্তু শাহ্ ফয়সালের স্মৃতি থেকে তা কখনো মিলিয়ে যেতো না। শাহ্ ফয়সালের অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ছিলো। শাহ্ ফয়সাল এই মাদরাসায় ইসলামি শিক্ষার প্রাথমিক বইগুলো পড়েছিলো। শাহ্ ফয়সাল মাত্র ১০ বছর বয়সে কুরআন হাফেজ হয়ে গেল। শাহ্ ফয়সালের কুরআন হিফজ শেষ হওয়ায় রিয়াদে অনুষ্ঠান করা হলো।

শাহ্ ফয়সালকে ঘোড়ায় বসানো হয়। কয়েকজন লোক শাহ্ ফয়সালের সাথে ঘোড়ায় চড়ে কাফেলার মতো চলতে থাকে। তাদের সাথে স্থানীয় মাদরাসার ছাত্ররাও ছিলো। শাহ্ ফয়সালের কাফেলা যেই ঘরের সামনে দিয়ে যেতো সেই ঘরের অধিবাসীরা বের হয়ে এসে শাহ্ ফয়সালকে অভিনন্দন জানাতো। এভাবে চলতে চলতে কাফেলা আব্দুল আজিজের প্রাসাদের সামনে আসলো। আব্দুল আজিজকে তখন নজদের আমীর বলা হতো, বাদশাহ নয়।

আমীর আব্দুল আজিজ প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে তাঁর ছেলে শাহ্ ফয়সালের কপালে চুমু দিলেন। আর কিছু অর্থ দিলেন পুরষ্কার হিসেবে। তারপর আব্দুল আজিজ শাহ্ ফয়সালকে দোয়া করতে বলেন। শাহ্ ফয়সাল তাঁর বাবার লম্বা জীবন ও সফলতার জন্য দোয়া করলো। এরপর শাহ্ ফয়সাল পুরষ্কারের অর্থ তাঁর শিক্ষককে দিয়ে দেয়।

শাহ্ ফয়সালের ১১ বছর বয়স হওয়ার পর আব্দুল আজিজ তাকে অন্যান্য বিষয় যেমন ইংরেজি, গণিত ইত্যাদি শেখানো শুরু করলো। যদিও তৎকালীন সময়ের আরবে এসব বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করার প্রচলন ছিলো না। তাও আব্দুল আজিজ বিদেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষক খুঁজে আনেন তাঁর সন্তানদের জন্য।

এই শিক্ষককের কাছেই শাহ্ ফয়সাল প্রথম জানতে পারলো যে, পৃথিবীর সব জায়গা মরুভূমি নয়। পৃথিবীতে সবুজ শ্যামল ভূমি আছে। পৃথিবীতে উঁচু দালানকোঠায় পরিপূর্ণ শহর আছে। যেখানে মানুষ চার চাকার গাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়ায়। যেখানে মানুষ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা অন্য কোন মানুষের সাথে কথা বলতে পারতো মুহূর্তে। শাহ্ ফয়সাল এসব বর্ণনা শুনার পর তা কল্পনা করছিলো। তবে শাহ্ ফয়সাল এসব কল্পনা করার আগে বাস্তবে দেখতে চাইছিলো।

কিন্তু এসব বাস্তবে দেখার আগেই আরব ও সমগ্র পৃথিবীর পরিস্থিতি প্রচন্ড পরিবর্তিত হয়ে গেল। কিন্তু কীভাবে? প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ওসমানী সালতানাত ও তাদের জোটসঙ্গীরা পরাজিত হয়। ফলে আরব ভূখন্ডে হাশেমীরা স্বাধীন হয়ে যায়। আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদ আগেই ওসমানীয়দের দূর্বলতার সুযোগে পূর্বে থাকা আল হাসা দখল করে নেয়। অন্যদিকে আলে রশিদ এবং হাশেমীরাও আরব ভূ খন্ড দখল করার চেষ্টা চালাতে থাকে। এই প্রতিযোগিতায় আলে সৌদ সবচেয়ে শক্তিশালী ছিলো।

আব্দুল আজিজের দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিলো হেজাজ। কারণ প্রথমত এখানে সবচেয়ে পবিত্র দুই শহর ও মসজিদ আছে। এর ফলে হজ্বযাত্রীদের আগমণের আয় সৌদিরা পাবে। দ্বিতীয়ত হেজাজে নিয়ন্ত্রণ থাকলে মুসলিম বিশ্বের কাছে সৌদিদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। যা তাদের ক্ষমতাও বাড়াবে।

তৃতীয়ত আলে শেইখ তথা আব্দুল ওয়াহাবের বংশধররা মনে করতো বাকীরা সঠিক ইসলাম অনুযায়ী চলছে না। তাই সৌদিদের উচিত হেজাজ দখল করে হেজাজ সঠিক ইসলামি আইনে পরিচালিত করা। আর এসবের জন্য সৌদিদের হাশেমীদের সাথে যুদ্ধ করতে হতো। হাশেমীরা তখন ব্রিটিশদের জোটসঙ্গী ছিলো।

যখন ব্রিটিশরা ওসমানী সালতানাতের অংশ সিরিয়ায় আক্রমণ করেছিলো। তখন হাশেমীরা ওসমানীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ব্রিটিশদের পক্ষে সিরিয়া ওসমানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এই কাজের জন্য ব্রিটিশরা তাদের হেজাজের সাথে সাথে ইরাক ও জর্ডানের শাসনভারও হাশেমীদের দিয়ে দেয়।

হেজাজের সাথে সাথে ইরাক ও জর্ডান পাওয়ার পর হাশেমী সাম্রাজ্য অনেক বড় হয়ে যায়। হাশেমী শাসক শরীফে মক্কা হুসেন ইবনে আলী মুসলিমদের খলিফা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। অন্যদিকে আব্দুল আজিজ চাচ্ছিলেন তাকে যেন মুসলমানদের নেতা মানা হয়।

কিন্তু হাশেমীরা তো যুদ্ধ ছাড়া তা ত্যাগ করবে না। তাই একটি সিদ্বান্তমূলক যুদ্ধ আসন্ন ছিলো। এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিলো ব্রিটিশদের। তৎকাল সুপার পাওয়ার ব্রিটিশরা যাদের পক্ষে থাকবে তারাই যুদ্ধে জয়ী হবে। আব্দুল আজিজ জানতেন তিনি একা হাশেমীদের পরাজিত করতে পারবেন। কিন্তু ব্রিটিশরা হাশেমীদের পক্ষে থাকলে তা সম্ভব হবে না।

তাই আব্দুল আজিজ যুদ্ধ শুরুর আগে একটি কুটনৈতিক কৌশল অবলম্বন করলো । যেই কৌশলে সে ব্রিটিশদের একটি গোপন বার্তা পাঠালো। এই কাজের জন্য আব্দুল আজিজ তাঁর সবচেয়ে বড় ছেলে প্রিন্স তুর্কীকে মনোনীত করলো। কিন্তু প্রিন্স তুর্কী ইনফ্লুয়েঞ্জায় মারা যায়।

তাই এই কুটনৈতিক অভিযানের জন্য ১৩ বছরের শাহ্ ফয়সালকে মনোনীত করা হয়। ১৯১৯ সালে শাহ্ ফয়সাল ১৩ বছর বয়সে তাঁর সফরসঙ্গীদের সাথে আধুনিক লন্ডন শহরে যান। লন্ডনে গিয়ে শাহ্ ফয়সাল কী দেখলো? ব্রিটিশদের সাথে কুটনীতি কী সফল হয়েছিলো? কীভাবে নাজরান সৌদি আরবের অংশ হলো?

অন্যান্য সংবাদ
- Advertisment -spot_img
bn Bengali
X
%d bloggers like this: