বুধবার, মে ১৯, ২০২১
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
বুধবার, মে ১৯, ২০২১
Homeপ্রেস রিলিজবেঁধে দেয়া দামে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিতে কঠোর নজরদারির দাবি

বেঁধে দেয়া দামে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিতে কঠোর নজরদারির দাবি

সরকারের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিতে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।  নজরদারিতে আন্তরিকতার ঘাটতি হলে এ উদ্যোগের সফলতা নিয়ে সংশয় থেকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ক্যাব নেতৃবৃন্দ।
এক বিবৃতিতে, ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু ও ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান বলেন, বেশ কয়েকমাস ধরে অস্থির ভোজ্যতেলের অস্থিরতা ঠেকাতে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন-সংক্রান্ত সরকারি কর্মকতা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি। অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্য পণ্যের মূল্য নির্ধারণ সরকারের শীর্ষ মহলের আন্তরিকতার বর্হিপ্রকাশ। কিন্তু নির্ধারিত মূল্য কার্যকরে মাঠ পর্যায়ে যথাযথ নজরদারিতে আন্তরিকতার ঘাটতি হলে এ উদ্যোগের সফলতা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। 
বিবৃতিতে বলা হয় সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল মিলগেটে ১০৭ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১১০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াাবিন তেল মিলগেটে ১২৩ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১২৭ টাকা এবং খুচরা বিক্রয় মূল্য ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিলগেটে ৫৯০ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ৬১০ টাকা এবং খুচরা বিক্রয় মূল্য ৬৩০ টাকা করা হয়েছে। যা ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা আর্ন্তজাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দেশীয় ট্যারিফ কমিশনের আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বর্ধিত মূল্যকে প্রকারান্তরে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান বলে মতপ্রকাশ করেন। ভোজ্যতেল একটি আমদানিকৃত পণ্য। ট্যারিফ কমিশনের অনুমতি ব্যতিরেকে মূল্য বাড়ানো যায় না। আর যেহেতু মোড়কে বিক্রি হয়। সেকারনে মোড়কের গায়ের চেয়ে বেশী মূল্যে বিক্রিতে নিষেধ। তারপরও ব্যবসায়ীরা বাড়তি মূল্যে বিক্রি করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয় ইতিপূর্বে সরকার আলুর দাম বেঁধে দিয়েছিলো কিন্তু বেঁধে দেয়া দামে আলু পাওয়া যায় নি। ২/১টি জায়গায় স্থানীয় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলে ব্যবসায়ীরা দোকান পাট বন্ধ করে ধর্মঘট করলে আর কোন ব্যবস্থা নিতে পারে নি। উর্ধ্বমূখী চালের বাজারেও দাম বেঁধে দিয়ে, শুল্ক কমিয়ে, বিদেশ থেকে চাল আমদানি করেও কোন ভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। চিহ্নিত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহনে সক্ষম হন নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয় নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা। জেলা, উপজেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, ভোক্তা প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত বাজার তদারিক অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও অস্থিরতা ঠেকানো সম্ভব। মজুতদারি ঠেকাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে নগদ অর্থ দন্ডের পাশাপাশি প্রয়োজনে জেল-জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে। আর এ ধরণের সমাজবিরোধী কাজে জড়িতদের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে। একই সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক উৎস থেকে নিত্যপণ্যের আপৎকালীন মজুত বাড়াতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে পণ্যবিক্রিকে নাগরিক পরীবিক্ষণের আওতায় আনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
অন্যান্য সংবাদ
- Advertisment -spot_img
bn Bengali
X
%d bloggers like this: