মাগুরায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার মামলা

- আপডেট সময় : ১১:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫২৯ বার পড়া হয়েছে
মাগুরার শ্রীপুরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে পঞ্চানন মন্ডল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ী বিনোদ কুমার বিশ্বাস। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মোল্লা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিন সাক্ষীর জবানবন্দি ভুল তথ্য দিয়ে একই ধরনের করে লেখার অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী।
মামলার নথি অনুযায়ী, শ্রীপুর সিআর মামলা নম্বর ১৪৯/২০২৬-এ পঞ্চানন মন্ডলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ ৪০৮ ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদী বিনোদ কুমার বিশ্বাসের দাবি, পঞ্চানন মন্ডল ২০১৫ সালে তাঁর পাট ও ভূষিমালের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। কর্মরত অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এ সংক্রান্ত হিসাব প্রতিষ্ঠানের লাল রেজিস্টারে সংরক্ষিত রয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি পঞ্চানন মন্ডল ভারতে চিকিৎসার কথা বলে প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যান। পরে হিসাব করে ওই টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারেন বিনোদ কুমার বিশ্বাস। এরপর পাওনা টাকা ফেরতের জন্য একাধিকবার দাবি করলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল কয়েকজন সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চানন মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে টাকা চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার তদন্তে সাক্ষী বাবলু সরদারের ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, তিনি বাদী ও আসামি দুজনকেই আগে থেকে চেনেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পঞ্চানন মন্ডল বাদীর কাছ থেকে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সালিশ বৈঠকে স্বীকার করেছিলেন। তবে একই জবানবন্দিতে বাবলু সরদার উল্লেখ করেছেন, তিনি টাকা লেনদেন কিংবা ৬ এপ্রিলের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন। পঞ্চানন মন্ডল বাদীর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালে কোনো টাকা বা মালামাল আত্মসাৎ করেছিলেন কি না, সে বিষয়েও তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কোনো তথ্য নেই বলে জবানবন্দিতে বলা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনোদ কুমার বিশ্বাস অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা তিন সাক্ষীর বক্তব্য একই রকমভাবে লিখেছেন এবং সেখানে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে মিল নেই এমন তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পঞ্চানন মন্ডলের কাছে হিসাব অনুযায়ী ১২ লাখ টাকার বেশি পাওনা থাকলেও মানবিক কারণে তিনি মাত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে মামলা করেছেন। বিনোদ কুমার বিশ্বাস আরও বলেন, পঞ্চানন মন্ডলকে তিনি ভাইয়ের মতো দেখতেন এবং তাঁর পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর দাবি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাল রেজিস্টারে পঞ্চানন মন্ডলের নিজের হাতে লেখা হিসাবও রয়েছে।
অন্যদিকে পঞ্চানন মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল নম্বর না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর প্রতিবেশী ধীরেন বাবু দাবি করেন, পঞ্চানন মন্ডলের কাছে বিনোদ কুমার বিশ্বাসের কয়েক লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে তিনি জানেন। তবে মামলার অভিযোগ ও সাক্ষীদের বক্তব্যের বিষয়ে আসামির সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।













