মাধবদীতে বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট

- আপডেট সময় : ১১:০৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে নরসিংদীর মাধবদীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস ঘেরাও এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকরা। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই কর্মসূচিতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নরসিংদীর মাধবদী এলাকার টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের সামনে অবস্থান নেন তারা। একপর্যায়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।
এতে মাধবদী বাসস্ট্যান্ডের উভয় পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে টেক্সটাইল কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আর উৎপাদন কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের আয় ও বেতনেও এর প্রভাব পড়ছে।
এক শ্রমিকের ভাষ্য, লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো কাপড় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে বেতনও ঠিকঠাক পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে বলেও ক্ষোভ জানান তিনি। তাদের দাবি, নরসিংদী ও বিশেষ করে মাধবদীর শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় মাধবদী থানা পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা। এরপর মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়।
নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক মহসিন কবির বলেন, লোডশেডিং একটি জাতীয় সমস্যা। ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাধবদী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে।
অন্যদিকে মাধবদী থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাসের পর শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। শ্রমিকদের হুঁশিয়ারি, আশ্বাস অনুযায়ী বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তারা আবারও লাগাতার কর্মসূচিতে যেতে পারেন। ফলে শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।













