ব্যাংক হিসাব না খুলেই টাকা গচ্ছিত ইউপি সচিবের কাছে
ঝিনাইদহে ভিডব্লিউবি প্রকল্পে ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

- আপডেট সময় : ০৯:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৬২ বার পড়া হয়েছে
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৫ নং কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি VWB প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ইউপি সচিব মো: নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৪ মাসে ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের দুস্থ নারীদের সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংকে ডিপিএস হিসেবে জমা থাকার কথা। কিন্তু ২৪ মাস মেয়াদি প্রকল্পের ১৪ মাস পার হলেও উপকারভোগী কার্ডধারীদের নামে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি। উল্টো প্রতি মাসের সঞ্চয়ের নগদ টাকা ইউপি সচিব মো: নজরুল ইসলাম তার নিজের কাছে গচ্ছিত রেখেছেন বলে অভিযোগ।
এই হিসাবে গত ১১ মাসে তিনি ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। এ বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এ ব্যাপারে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলতে পারবেন। তবে আমি জানি যে সবার নামে হিসাব খুলে সেখানে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।”
অভিযুক্ত ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম বলেন, “ব্যাংক একাউন্ট করা হয়েছে, সেখানে টাকা জমা দেওয়া হয়ে থাকে। এই ব্যাপারে আপনার কিছু করার দরকার নেই।” এরপর তিনি ক্যামেরার সামনে আর কোনো কথা না বলে দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে চলে যান। ফলে তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থা উই এর পরিচালক শরীফা খাতুন বলেন, “আমরা গত ২৮শে এপ্রিল থেকে দায়িত্ব পেয়েছি। গত মাসে বিভিন্ন ইউনিয়নে মিটিং করে জেনেছি সকলে ঠিকমতো ব্যাংক একাউন্ট করে স্লিপ নিয়ে চাল উঠাচ্ছে। শুধুমাত্র এই ইউনিয়নে ব্যতিক্রম ঘটেছে। তারা ব্যাংক একাউন্ট করতে পারেনি বিধায় তাদের কোনো টাকা নেওয়া লাগেনা। ভুক্তভোগী নারীরা এ বিষয়ে আমাদের কাছে কিছু বলেনি।”
ঝিনাইদহ জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সি ফিরোজা বেগম বলেন, “টাকা দুস্থ নারীদের ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়ে ব্যাংক স্লিপ নিয়ে চাল নেওয়ার কথা। ব্যাংক একাউন্ট না থাকলে কোনো নগদ টাকা কেউ নিতে পারবে না। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এনজিও সিলেকশন করতে দেরি হয়েছে। সবকিছু তদারকি করে গত আগস্ট মাস থেকে এনজিও কাজ করছে। ঘটনা যাই ঘটুক আমি দ্রুতই ইউপি সচিবকে অফিসে ডেকে ব্যবস্থা নেব।”
তিনি আরও বলেন, “এই নজরুল ইসলাম পূর্বে হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়নে কর্মরত ছিল। সেখানেও তিনি একই ধরনের কাজ করেছেন। তিনি পূর্ব থেকেই দুর্নীতিবাজ।” এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও আত্মসাতকৃত টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।













