ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫২৪ বার পড়া হয়েছে

নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সারা বছর বাজার নজরদারি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সারা বছর বাজার নজরদারি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার সচিবালয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু রমজান মাস নয়, সারা বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, বাজারে নজরদারি ও মনিটরিং বাড়াতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পণ্যের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব কয়েকটি এলাকার বাজারে পড়েছে। তবে শীতকাল সামনে থাকায় নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের দামে সামান্য অস্বাভাবিক ওঠানামাও মানুষের মধ্যে বাজার নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি ভোক্তাদের আস্থা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে এর অর্থনৈতিক চাপ দেশকেও বহন করতে হয়। তাই জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত পণ্য এবং যেসব পণ্যের ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়েছে কিংবা জাহাজীকরণ পর্যায়ে রয়েছে সেগুলোর তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়। কমিশনের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭ লাখ টন। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪২ হাজার টন মসুর ডাল আমদানি হলেও চলতি বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার টন। ভোজ্যতেলের কাঁচামাল বা সিড আমদানিও বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ে ২ লাখ ৭৩ হাজার টন সিড আমদানি হলেও চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টনে।

এ ছাড়া দেশে বছরে চিনির চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রায় ৩ লাখ টন চিনির চাহিদা তৈরি হয়। কমিশন বলছে, সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের আমদানি ও পাইপলাইন পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে। সরবরাহব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ট্রেসেবিলিটি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পণ্যের সরবরাহের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণে এ কার্যক্রম ব্যবহার করা হবে।

ডিম ও পোলট্রিসহ গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যকে এতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সভায় ব্যবসায়ী নেতারা নিত্যপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, সরবরাহ ও বাজারমূল্য নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে পরামর্শ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সারা বছর বাজার নজরদারি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সারা বছর বাজার নজরদারি আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার সচিবালয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু রমজান মাস নয়, সারা বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, বাজারে নজরদারি ও মনিটরিং বাড়াতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পণ্যের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব কয়েকটি এলাকার বাজারে পড়েছে। তবে শীতকাল সামনে থাকায় নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের দামে সামান্য অস্বাভাবিক ওঠানামাও মানুষের মধ্যে বাজার নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি ভোক্তাদের আস্থা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে এর অর্থনৈতিক চাপ দেশকেও বহন করতে হয়। তাই জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত পণ্য এবং যেসব পণ্যের ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়েছে কিংবা জাহাজীকরণ পর্যায়ে রয়েছে সেগুলোর তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়। কমিশনের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭ লাখ টন। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪২ হাজার টন মসুর ডাল আমদানি হলেও চলতি বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার টন। ভোজ্যতেলের কাঁচামাল বা সিড আমদানিও বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ে ২ লাখ ৭৩ হাজার টন সিড আমদানি হলেও চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টনে।

এ ছাড়া দেশে বছরে চিনির চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রায় ৩ লাখ টন চিনির চাহিদা তৈরি হয়। কমিশন বলছে, সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের আমদানি ও পাইপলাইন পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে। সরবরাহব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ট্রেসেবিলিটি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পণ্যের সরবরাহের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণে এ কার্যক্রম ব্যবহার করা হবে।

ডিম ও পোলট্রিসহ গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যকে এতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সভায় ব্যবসায়ী নেতারা নিত্যপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, সরবরাহ ও বাজারমূল্য নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে পরামর্শ দেন।