হারানো নাব্যতা ফিরছে আদি বুড়িগঙ্গায়
- আপডেট সময় : ০৪:১১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
হারানো নাব্যতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে শুরু হয়েছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা আর দূষণে অনেকটাই হারিয়ে গেছে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক রূপ। কোথাও ময়লার ভাগাড়, কোথাও আবার বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ। এমন পরিস্থিতিতে চ্যানেলটিকে আবারও প্রাণবন্ত করে তুলতে শুরু হয়েছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
শুক্রবার সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে এর বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয়রা।
২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হলেও দূষণ ও বর্জ্যের সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি। এবার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি চ্যানেলটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হলে চ্যানেলের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। জনসাধারণের হাঁটা ও অবসর সময় কাটানোর জন্য নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা জরুরি। এ উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল পাবেন। ঢাকা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিচ্ছন্নতার পরও যাতে চ্যানেলটি পুনরায় দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সেজন্য নজরদারি জোরদার করা হবে।
পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে পরিণত করার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এতে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট থেকে স্বস্তি মিলবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

















