ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর মুখ থেকে ১,৬৪৩ শিশুকে বাঁচালেন নেপালের প্রধান শিক্ষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৫০ বার পড়া হয়েছে

‘গ্রামটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমাকে বলল, দৌড়াও।’ বন্ধুর কাছ থেকে আসা মাত্র কয়েকটি শব্দই যেন বদলে দিল সবকিছু। মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিলেন নেপালের এক প্রধান শিক্ষক। আর তাঁর সেই সিদ্ধান্তেই ভয়াবহ বন্যার হাত থেকে বেঁচে গেলেন এক হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী।

বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিট। নেপালের নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির কাছে আসে বন্ধুর ফোন।  সতর্কবার্তা—‘গ্রামটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দৌড়াও।’

তখন স্কুল ও আশপাশে অবস্থান করছিল ১ হাজার ৬৪৩ শিশু। ৪৭ বছর বয়সী এই ইংরেজির শিক্ষক প্রথমে ভেবেছিলেন, তিনতলা স্কুল ভবনটি নিরাপদ। কারণ ভবনটি নদী থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচু। কিন্তু পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন তিনি।

এক মুহূর্তও দেরি না করে স্কুলের ঘণ্টা বাজান দাওয়াদি। শিক্ষকদের নির্দেশ দেন শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দ্রুত বের করে আনতে। একই সঙ্গে স্কুলবাসের চালকদের ফোন করে শিশুদের নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিতে বলেন।

এক চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দেখেন, সেই বাসটি তখনও সেতু পার হচ্ছে। এদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। একজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে উঁচু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যরা পায়ে হেঁটে ছুটতে থাকে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে। আর তাদের পেছনেই ছিলেন প্রধান শিক্ষক।

শেষ পর্যন্ত একটি বোধিবৃক্ষের নিচে আশ্রয় নেয় শিক্ষার্থীরা। এর কিছুক্ষণ পরই ভয়াবহ বন্যার স্রোত আঘাত হানে এলাকায়। ভেসে যায় স্কুল ভবনসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা। তবে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর সবাই বেঁচে যায়। তবে এই ঘটনায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের দুজন প্রাণ হারান। ইতিহাসের শিক্ষক সান্তোষ পারিয়ার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামা বন্যার স্রোতে ভেসে যান।

শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচানোর পর স্থানীয়দের কাছে নায়ক হয়ে উঠেছেন রাজেন্দ্র দাওয়াদি। কিন্তু নিজের কৃতিত্ব নিতে নারাজ তিনি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুলের দিকে তাকিয়ে তাঁর প্রশ্ন—‘আমি আর কী করতে পারতাম?’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গ থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পরই এই ভয়াবহ স্রোতের সৃষ্টি হয়। নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানা এই দুর্যোগে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা ব্যাপক। তবে ভয়াবহতার মধ্যেও একজন শিক্ষকের কয়েক মিনিটের দ্রুত সিদ্ধান্ত হয়ে উঠেছে ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর জীবন বাঁচানোর গল্প।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৪০
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৬
  • ৩:৪৮
  • ৫:২৮
  • ৬:৪২
  • ৬:০০

মৃত্যুর মুখ থেকে ১,৬৪৩ শিশুকে বাঁচালেন নেপালের প্রধান শিক্ষক

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

‘গ্রামটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমাকে বলল, দৌড়াও।’ বন্ধুর কাছ থেকে আসা মাত্র কয়েকটি শব্দই যেন বদলে দিল সবকিছু। মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিলেন নেপালের এক প্রধান শিক্ষক। আর তাঁর সেই সিদ্ধান্তেই ভয়াবহ বন্যার হাত থেকে বেঁচে গেলেন এক হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী।

বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিট। নেপালের নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির কাছে আসে বন্ধুর ফোন।  সতর্কবার্তা—‘গ্রামটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দৌড়াও।’

তখন স্কুল ও আশপাশে অবস্থান করছিল ১ হাজার ৬৪৩ শিশু। ৪৭ বছর বয়সী এই ইংরেজির শিক্ষক প্রথমে ভেবেছিলেন, তিনতলা স্কুল ভবনটি নিরাপদ। কারণ ভবনটি নদী থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচু। কিন্তু পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন তিনি।

এক মুহূর্তও দেরি না করে স্কুলের ঘণ্টা বাজান দাওয়াদি। শিক্ষকদের নির্দেশ দেন শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দ্রুত বের করে আনতে। একই সঙ্গে স্কুলবাসের চালকদের ফোন করে শিশুদের নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিতে বলেন।

এক চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দেখেন, সেই বাসটি তখনও সেতু পার হচ্ছে। এদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। একজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে উঁচু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যরা পায়ে হেঁটে ছুটতে থাকে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে। আর তাদের পেছনেই ছিলেন প্রধান শিক্ষক।

শেষ পর্যন্ত একটি বোধিবৃক্ষের নিচে আশ্রয় নেয় শিক্ষার্থীরা। এর কিছুক্ষণ পরই ভয়াবহ বন্যার স্রোত আঘাত হানে এলাকায়। ভেসে যায় স্কুল ভবনসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা। তবে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর সবাই বেঁচে যায়। তবে এই ঘটনায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের দুজন প্রাণ হারান। ইতিহাসের শিক্ষক সান্তোষ পারিয়ার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামা বন্যার স্রোতে ভেসে যান।

শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচানোর পর স্থানীয়দের কাছে নায়ক হয়ে উঠেছেন রাজেন্দ্র দাওয়াদি। কিন্তু নিজের কৃতিত্ব নিতে নারাজ তিনি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুলের দিকে তাকিয়ে তাঁর প্রশ্ন—‘আমি আর কী করতে পারতাম?’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গ থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পরই এই ভয়াবহ স্রোতের সৃষ্টি হয়। নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানা এই দুর্যোগে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা ব্যাপক। তবে ভয়াবহতার মধ্যেও একজন শিক্ষকের কয়েক মিনিটের দ্রুত সিদ্ধান্ত হয়ে উঠেছে ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর জীবন বাঁচানোর গল্প।