দোড়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৫ বছর ধরে সভাপতি পদে আছে নান্নু মন্ডল
- আপডেট সময় : ১০:২৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
হাটগোপালপুরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিটি না থাকায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা ভোটের মাধ্যমে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং স্থানীয়ভাবে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শামসুল আলমের কাছ থেকে তুরাপ মণ্ডল চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে পরবর্তীতে চাকরি দেওয়া হয়নি এবং টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাটগোপালপুরের লিটুর মাধ্যমে তিনজন শিক্ষক নিয়োগের জন্য নান্নু মণ্ডল প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর খন্দকার অবগত ছিলেন বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানের দুটি সরকারি বড় গাছ কেটে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া একসময় প্রতিষ্ঠানের বেঞ্চ ভাঙা, টিনের বেড়া না থাকা এবং অবকাঠামোগত নানা সমস্যাও ছিল বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বাড়তে থাকে। এমনকি প্রায় ৫০ লাখ টাকা নান্নু মণ্ডলের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এ অর্থের উৎস ও ব্যবহারের বিষয়ে কোনো নথিপত্র বা ব্যাংক হিসাব প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। এদিকে প্রতিষ্ঠানের সহকারী সুপার হিসেবে দাবি করা মাওলানা মোখলেসুর রহমান বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। তবে শিক্ষক সংকট রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার খন্দকারের অভিযোগ, নান্নু মণ্ডল কীভাবে সভাপতি হয়েছেন, তা গ্রামের অনেকেই জানেন না। তার দাবি, নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন হলে প্রকৃত পরিস্থিতি সামনে আসবে। রাজা মিয়ার দাবি, তার দুই সন্তান প্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশোনা করেনি। তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন হলে ভালো হবে। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগও করেন তিনি।
এদিকে আবুল হোসেনের ছেলে আমীনের অভিযোগ, প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে প্রতিষ্ঠানের জন্য ১১ কাঠা জমি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। তাকে প্রতিষ্ঠানের কোনো একটি শূন্য পদে, বিশেষ করে দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তার। তখনকার কমিটির সভাপতি নান্নু মণ্ডল, সেক্রেটারি তুরাপ মণ্ডল, ইন্তাজ মিস্ত্রিসহ আরও কয়েকজন বিষয়টি জানতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নান্নু মণ্ডল ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব, নিয়োগসংক্রান্ত নথি ও ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।















