ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৭ বছরের জঞ্জাল ৬ মাসে পরিষ্কার সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলিয়া জাহান
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫৪৫ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যুৎ খাতে নতুন করে আর কোনো ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নতুন অনুমোদন পাওয়া তিনটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ দিলে টাকা, না দিলে নাই’—এই নীতিতে চুক্তি করা হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং শিল্প-কারখানায় এর প্রভাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিশ্বজুড়ে উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে বোরো মৌসুমে কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। পরে পাচার রোধে সহনীয় মাত্রায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিদ্যুৎ খাতে আগের সরকারের নীতির সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশ নির্ভরতা বেড়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যবস্থা আগের সরকার রেখে গেছে। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন করে নতুন রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ রাখছে না। বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সরকার মনে করে। তবে রাতারাতি এসব চুক্তি বাতিল করা সম্ভব নয়। চুক্তি বাতিল করলে আন্তর্জাতিক সালিশে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হারানোর ঝুঁকি নেওয়ার মতো পরিস্থিতি সরকারের নেই। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপন, বড়পুকুরিয়ায় ৬২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু এবং পায়রায় আরও ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া মাতারবাড়ীতে এলপিজি টার্মিনাল ও স্টোরেজ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বায়ুবিদ্যুৎ নিয়ে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিনের নানা সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বর্তমান সরকার। তাই স্বল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩৭
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৩৩
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৩
  • ১১:৪৭
  • ৩:৫৩
  • ৫:৩৩
  • ৬:৪৭
  • ৫:৫৭

১৭ বছরের জঞ্জাল ৬ মাসে পরিষ্কার সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ খাতে নতুন করে আর কোনো ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নতুন অনুমোদন পাওয়া তিনটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ দিলে টাকা, না দিলে নাই’—এই নীতিতে চুক্তি করা হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং শিল্প-কারখানায় এর প্রভাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিশ্বজুড়ে উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে বোরো মৌসুমে কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। পরে পাচার রোধে সহনীয় মাত্রায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিদ্যুৎ খাতে আগের সরকারের নীতির সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও জ্বালানির উৎস নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশ নির্ভরতা বেড়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যবস্থা আগের সরকার রেখে গেছে। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন করে নতুন রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ রাখছে না। বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সরকার মনে করে। তবে রাতারাতি এসব চুক্তি বাতিল করা সম্ভব নয়। চুক্তি বাতিল করলে আন্তর্জাতিক সালিশে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হারানোর ঝুঁকি নেওয়ার মতো পরিস্থিতি সরকারের নেই। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপন, বড়পুকুরিয়ায় ৬২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু এবং পায়রায় আরও ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া মাতারবাড়ীতে এলপিজি টার্মিনাল ও স্টোরেজ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বায়ুবিদ্যুৎ নিয়ে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিনের নানা সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বর্তমান সরকার। তাই স্বল্প সময়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।