ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্ঘটনার প্রতিবাদে গ্রিনলাইনের পাঁচ বাস আটকালেন ববি শিক্ষার্থীরা

জুলিয়া জাহান
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫১১ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনায় গ্রিনলাইন পরিবহনের পাঁচটি বাস আটকে রেখে তিন দফা দাবি আদায় করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া ব্রিজের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে ইমরান খান ও আশরাফ রাকিব আলমসহ তিন শিক্ষার্থী একটি ভ্যানে করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় কুয়াকাটাগামী গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাস ওভারটেক করার সময় ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। বাসের নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কায় একজন শিক্ষার্থী ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে নামেন।

দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বাস কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসে এসে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান। কর্তৃপক্ষ সাড়া না দেওয়ায় সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসসংলগ্ন সড়ক থেকে গ্রিনলাইনের পাঁচটি বাস আটকে রাখেন তারা। এ সময় অভিযুক্ত চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে বহিষ্কার, চালকের লাইসেন্স বাতিল এবং আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

পরে রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত গ্রিনলাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার করে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। গ্রিনলাইন পরিবহনের বরিশাল বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. হাসান সরদার বাদশা জানান, মুচলেকা ও চিকিৎসা খরচ বাবদ শিক্ষার্থীদের ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের বাসের কারণে আবার দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল এবং চালক ও সুপারভাইজারকে চাকরিচ্যুত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ জানান, ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। পরিবহন কোম্পানি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ায় রাতেই বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর দপদপিয়া ব্রিজে ডলফিন পরিবহনের একটি বাস শিক্ষার্থীবাহী অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে শিক্ষার্থীরা বাসটি আটকে ক্ষতিপূরণ আদায় করেন। একই এলাকায় বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় থ্রি-হুইলারের যাত্রী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নিহত হওয়ার ঘটনাতেও আন্দোলন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

দুর্ঘটনার প্রতিবাদে গ্রিনলাইনের পাঁচ বাস আটকালেন ববি শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনায় গ্রিনলাইন পরিবহনের পাঁচটি বাস আটকে রেখে তিন দফা দাবি আদায় করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া ব্রিজের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে ইমরান খান ও আশরাফ রাকিব আলমসহ তিন শিক্ষার্থী একটি ভ্যানে করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় কুয়াকাটাগামী গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাস ওভারটেক করার সময় ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। বাসের নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কায় একজন শিক্ষার্থী ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে নামেন।

দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বাস কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসে এসে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান। কর্তৃপক্ষ সাড়া না দেওয়ায় সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসসংলগ্ন সড়ক থেকে গ্রিনলাইনের পাঁচটি বাস আটকে রাখেন তারা। এ সময় অভিযুক্ত চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে বহিষ্কার, চালকের লাইসেন্স বাতিল এবং আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

পরে রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত গ্রিনলাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার করে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। গ্রিনলাইন পরিবহনের বরিশাল বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. হাসান সরদার বাদশা জানান, মুচলেকা ও চিকিৎসা খরচ বাবদ শিক্ষার্থীদের ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের বাসের কারণে আবার দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল এবং চালক ও সুপারভাইজারকে চাকরিচ্যুত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ জানান, ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। পরিবহন কোম্পানি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ায় রাতেই বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর দপদপিয়া ব্রিজে ডলফিন পরিবহনের একটি বাস শিক্ষার্থীবাহী অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে শিক্ষার্থীরা বাসটি আটকে ক্ষতিপূরণ আদায় করেন। একই এলাকায় বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় থ্রি-হুইলারের যাত্রী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নিহত হওয়ার ঘটনাতেও আন্দোলন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।