ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ জঙ্গলের রহস্যে ‘দ্য ভান’

বিনোদন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫২২ বার পড়া হয়েছে

দিনের আলোয় শান্ত একটি জঙ্গল। পাতার ফাঁকে সূর্যের আলো, পাখির ডাক আর বাতাসের মৃদু শব্দ। কিন্তু সূর্য ডুবে গেলেই বদলে যায় সেই পরিবেশ। নেমে আসে ঘন অন্ধকার। বদলে যায় চারপাশের শব্দ। আর লোকমুখে ছড়িয়ে থাকা রহস্যময় গল্পগুলো যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই লোকবিশ্বাস আর রহস্যময় পরিবেশকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়া অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দ্য ভান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’।

সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রেলার ও টিজারে দেখা গেছে জঙ্গলকে ঘিরে এক অজানা বিপদের গল্প। গল্পের কেন্দ্রে এমন একজন মানুষ রয়েছেন যিনি একটি সংরক্ষিত জঙ্গলে প্রবেশ করে প্রচলিত একটি নিয়ম ভেঙে ফেলেন। এরপর থেকেই বদলে যেতে থাকে সবকিছু। জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশ ধীরে ধীরে পরিণত হয় রহস্য আর আতঙ্কে। তবে সিনেমাটির গল্প পুরোপুরি কল্পনানির্ভর নয়। এর পেছনে রয়েছে ভারতের বিহারের পাটনার কাছে অবস্থিত একটি প্রাচীন বনদেবী মন্দিরকে ঘিরে প্রচলিত লোককথা।

প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা বিশ্বাস। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সূর্যাস্তের পর সেখানে মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। মন্দিরের দরজা বন্ধ হওয়ার পর পুরোহিতরাও সেখান থেকে চলে যান। রাতে মন্দির প্রাঙ্গণে থাকার অনুমতিও নেই তাদের। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর বনদেবী মন্দির প্রাঙ্গণে বিচরণ করেন। তাই সন্ধ্যার পর সেখানে মানুষের উপস্থিতি নিষিদ্ধ। এই লোকবিশ্বাসই ‘দ্য ভান’ সিনেমার গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে।

নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গল্প তৈরির আগে তারা শুধু লোকমুখে প্রচলিত কাহিনির ওপর নির্ভর করেননি। পরিচালক অরুণাভ কুমার নিজে মন্দিরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেনেছেন মন্দিরের ইতিহাস এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশ্বাস ও লোককথা। এরপর বাস্তব সেই স্থান ও লোকবিশ্বাসের সঙ্গে নির্মাতারা যুক্ত করেছেন নিজেদের কল্পনা রহস্য এবং নাটকীয়তা। জঙ্গলকেন্দ্রিক গল্প হওয়ায় সিনেমাটিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে প্রযুক্তি ও অ্যানিমেশন।

সিনেমাটির আরেকটি আকর্ষণ সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়ার জুটি। রহস্যে ঘেরা জঙ্গলের সঙ্গে তাদের চরিত্রের সম্পর্ক কী এবং নিষিদ্ধ সেই জঙ্গলে প্রবেশের পর কী ঘটে তা নিয়েই এখন দর্শকদের আগ্রহ। ভয় আর আতঙ্কের পাশাপাশি মানুষের বিশ্বাস প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং অজানাকে ঘিরে মানুষের ভয়ও গল্পটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে লোককথা বাস্তবতা ও কল্পনার মিশেলে ‘দ্য ভান’ দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে যাচ্ছে এক রহস্যময় অন্ধকার জগৎ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

নিষিদ্ধ জঙ্গলের রহস্যে ‘দ্য ভান’

আপডেট সময় : ০২:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনের আলোয় শান্ত একটি জঙ্গল। পাতার ফাঁকে সূর্যের আলো, পাখির ডাক আর বাতাসের মৃদু শব্দ। কিন্তু সূর্য ডুবে গেলেই বদলে যায় সেই পরিবেশ। নেমে আসে ঘন অন্ধকার। বদলে যায় চারপাশের শব্দ। আর লোকমুখে ছড়িয়ে থাকা রহস্যময় গল্পগুলো যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই লোকবিশ্বাস আর রহস্যময় পরিবেশকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়া অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দ্য ভান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’।

সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রেলার ও টিজারে দেখা গেছে জঙ্গলকে ঘিরে এক অজানা বিপদের গল্প। গল্পের কেন্দ্রে এমন একজন মানুষ রয়েছেন যিনি একটি সংরক্ষিত জঙ্গলে প্রবেশ করে প্রচলিত একটি নিয়ম ভেঙে ফেলেন। এরপর থেকেই বদলে যেতে থাকে সবকিছু। জঙ্গলের স্বাভাবিক পরিবেশ ধীরে ধীরে পরিণত হয় রহস্য আর আতঙ্কে। তবে সিনেমাটির গল্প পুরোপুরি কল্পনানির্ভর নয়। এর পেছনে রয়েছে ভারতের বিহারের পাটনার কাছে অবস্থিত একটি প্রাচীন বনদেবী মন্দিরকে ঘিরে প্রচলিত লোককথা।

প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা বিশ্বাস। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সূর্যাস্তের পর সেখানে মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। মন্দিরের দরজা বন্ধ হওয়ার পর পুরোহিতরাও সেখান থেকে চলে যান। রাতে মন্দির প্রাঙ্গণে থাকার অনুমতিও নেই তাদের। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর বনদেবী মন্দির প্রাঙ্গণে বিচরণ করেন। তাই সন্ধ্যার পর সেখানে মানুষের উপস্থিতি নিষিদ্ধ। এই লোকবিশ্বাসই ‘দ্য ভান’ সিনেমার গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে।

নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গল্প তৈরির আগে তারা শুধু লোকমুখে প্রচলিত কাহিনির ওপর নির্ভর করেননি। পরিচালক অরুণাভ কুমার নিজে মন্দিরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেনেছেন মন্দিরের ইতিহাস এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশ্বাস ও লোককথা। এরপর বাস্তব সেই স্থান ও লোকবিশ্বাসের সঙ্গে নির্মাতারা যুক্ত করেছেন নিজেদের কল্পনা রহস্য এবং নাটকীয়তা। জঙ্গলকেন্দ্রিক গল্প হওয়ায় সিনেমাটিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে প্রযুক্তি ও অ্যানিমেশন।

সিনেমাটির আরেকটি আকর্ষণ সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়ার জুটি। রহস্যে ঘেরা জঙ্গলের সঙ্গে তাদের চরিত্রের সম্পর্ক কী এবং নিষিদ্ধ সেই জঙ্গলে প্রবেশের পর কী ঘটে তা নিয়েই এখন দর্শকদের আগ্রহ। ভয় আর আতঙ্কের পাশাপাশি মানুষের বিশ্বাস প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং অজানাকে ঘিরে মানুষের ভয়ও গল্পটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে লোককথা বাস্তবতা ও কল্পনার মিশেলে ‘দ্য ভান’ দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে যাচ্ছে এক রহস্যময় অন্ধকার জগৎ।