ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এপিবিএনকে অপরাধ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে নতুন আইন পাস

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫৩৫ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল, ২০২৬’। এর মধ্য দিয়ে ১৯৭৯ সালের পুরোনো অধ্যাদেশ বাতিল করে এপিবিএনের জন্য যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন করা হলো। বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। নতুন আইনে প্রথমবারের মতো এপিবিএন কর্মকর্তাদের ফৌজদারি অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম সাব-ইন্সপেক্টর বা এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশনস অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

নতুন আইনের আওতায় সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, মানব পাচার, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাবে এপিবিএন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বও এ বাহিনীর ওপর থাকছে।

স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও এখন থেকে এপিবিএনের একক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এপিবিএন নিজস্ব আটক কেন্দ্র, ব্যারাক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সদর দপ্তরে গড়ে তোলা হবে সাইবার সেল ও গবেষণা ইউনিট। পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে এপিবিএন পরিচালিত হবে এবং বাহিনীটি আইজিপির সার্বিক তদারকিতে থাকবে।

অপারেশনাল প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীর বাইরের পেশাদার বিশেষজ্ঞদেরও এপিবিএনে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও বিচারকদের চুক্তিভিত্তিক বা প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে বাহিনীতে যোগদানের পর সব সদস্যের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এদিকে নতুন আইনে এপিবিএনের বিচারিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনো অধ্যাদেশের ‘পুলিশ-প্রধান আদালত’ ব্যবস্থার পরিবর্তে বিশেষ ও আপিল আদালতে অসামরিক বিচার বিভাগের সদস্যদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিশেষ এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতে আবেদন করা যাবে। বিলটি পাসের ফলে এপিবিএনের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ল। একই সঙ্গে অপরাধ তদন্ত, সাইবার সক্ষমতা এবং বিশেষায়িত নিরাপত্তা কার্যক্রমে বাহিনীটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

এপিবিএনকে অপরাধ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে নতুন আইন পাস

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল, ২০২৬’। এর মধ্য দিয়ে ১৯৭৯ সালের পুরোনো অধ্যাদেশ বাতিল করে এপিবিএনের জন্য যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন করা হলো। বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। নতুন আইনে প্রথমবারের মতো এপিবিএন কর্মকর্তাদের ফৌজদারি অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম সাব-ইন্সপেক্টর বা এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশনস অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

নতুন আইনের আওতায় সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, মানব পাচার, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাবে এপিবিএন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বও এ বাহিনীর ওপর থাকছে।

স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও এখন থেকে এপিবিএনের একক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এপিবিএন নিজস্ব আটক কেন্দ্র, ব্যারাক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সদর দপ্তরে গড়ে তোলা হবে সাইবার সেল ও গবেষণা ইউনিট। পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে এপিবিএন পরিচালিত হবে এবং বাহিনীটি আইজিপির সার্বিক তদারকিতে থাকবে।

অপারেশনাল প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীর বাইরের পেশাদার বিশেষজ্ঞদেরও এপিবিএনে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও বিচারকদের চুক্তিভিত্তিক বা প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে বাহিনীতে যোগদানের পর সব সদস্যের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এদিকে নতুন আইনে এপিবিএনের বিচারিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনো অধ্যাদেশের ‘পুলিশ-প্রধান আদালত’ ব্যবস্থার পরিবর্তে বিশেষ ও আপিল আদালতে অসামরিক বিচার বিভাগের সদস্যদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিশেষ এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতে আবেদন করা যাবে। বিলটি পাসের ফলে এপিবিএনের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ল। একই সঙ্গে অপরাধ তদন্ত, সাইবার সক্ষমতা এবং বিশেষায়িত নিরাপত্তা কার্যক্রমে বাহিনীটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী হলো।