ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতের আঁধারে জমি দখল, ঘর নির্মাণের অভিযোগ

মহম্মদপুর, মাগুরা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:১১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

দিনের আলো ফোটার আগেই বদলে গেল দৃশ্যপট। যে জায়গা নিয়ে বিরোধ, সেই জায়গাতেই রাতের আঁধারে নির্মাণ করা হয়েছে ঘর। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের মধ্যে এমন ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া বাজারে তিন ভাইয়ের সম্পত্তি জবরদখল করে রাতারাতি ঘর তোলার অভিযোগ উঠেছে দুখু মিয়া ও কবির হোসেনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী তিন ভাই মো. বাকি বিল্লাহ, মো. কামাল হোসেন ও মো. জামাল হোসেনের দাবি, তাদের নামে থাকা সম্পত্তিতে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্ত দুখু মিয়া ও কবির হোসেনের বিরুদ্ধে মহম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ১০৪৮।

আরও পড়ুন,

জিডিতে জামাল হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি ঘটনার দিন বাজারে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে এবং প্রান নাশের হুমকি দেয়‌। বাড়িতে তারা তিন ভাই নিয়মিত অবস্থান করেন না। সেখানে কয়েকজন নারী থাকেন। এই সুযোগে অভিযুক্তরা প্রতিদিন বাড়িতে এসে নানা ধরনের উৎপাত করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

পরিবারটির দাবি, বিষয়টি শুধু জমি দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর আগে মো. কামাল হোসেনকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করার ঘটনাও ঘটেছে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বলে তাদের দাবি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগের মামলা চলমান এবং নতুন করে থানায় জিডি করার পরও দখলচেষ্টা থামেনি। বরং শুক্রবার দিবাগত রাতে লোকচক্ষুর আড়ালে রাতের আঁধারে বিরোধপূর্ণ জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা রাতেই সেখানে নির্মাণকাজ করতে দেখেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ না করে রাতের আঁধারেই দ্রুত ঘর তুলে ফেলা হয়েছে।

আরও পড়ুন,

ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত দুখু মিয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে দুখু মিয়া বলেন— “ওদেরকে একবার মেরেছি, বাজারে ওঠা বন্ধ করেছি; আবার সামনে পেলে আবারও মারবো।” এমন বক্তব্যের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পূর্বের মারধরের মামলা চলমান থাকা এবং নতুন করে হুমকির অভিযোগের কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার অনুসন্ধানে সাংবাদিক ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সামনেও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশোভন আচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের প্রশ্ন—থানায় জিডি, পূর্বের মামলা এবং বিরোধের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকার পরও কীভাবে রাতের আঁধারে বিরোধপূর্ণ জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলো?

ভুক্তভোগী তিন ভাইয়ের দাবি, তারা কোনো সংঘাতে যেতে চান না। তারা চান, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরেজমিন তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিকানা, দখলের বৈধতা এবং রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণের ঘটনাটি যাচাই করুক। একই সঙ্গে তারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৪০
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৬
  • ৩:৪৮
  • ৫:২৮
  • ৬:৪২
  • ৬:০০

রাতের আঁধারে জমি দখল, ঘর নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:১১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনের আলো ফোটার আগেই বদলে গেল দৃশ্যপট। যে জায়গা নিয়ে বিরোধ, সেই জায়গাতেই রাতের আঁধারে নির্মাণ করা হয়েছে ঘর। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের মধ্যে এমন ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া বাজারে তিন ভাইয়ের সম্পত্তি জবরদখল করে রাতারাতি ঘর তোলার অভিযোগ উঠেছে দুখু মিয়া ও কবির হোসেনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী তিন ভাই মো. বাকি বিল্লাহ, মো. কামাল হোসেন ও মো. জামাল হোসেনের দাবি, তাদের নামে থাকা সম্পত্তিতে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্ত দুখু মিয়া ও কবির হোসেনের বিরুদ্ধে মহম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর ১০৪৮।

আরও পড়ুন,

জিডিতে জামাল হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি ঘটনার দিন বাজারে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করে এবং প্রান নাশের হুমকি দেয়‌। বাড়িতে তারা তিন ভাই নিয়মিত অবস্থান করেন না। সেখানে কয়েকজন নারী থাকেন। এই সুযোগে অভিযুক্তরা প্রতিদিন বাড়িতে এসে নানা ধরনের উৎপাত করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

পরিবারটির দাবি, বিষয়টি শুধু জমি দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর আগে মো. কামাল হোসেনকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করার ঘটনাও ঘটেছে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বলে তাদের দাবি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগের মামলা চলমান এবং নতুন করে থানায় জিডি করার পরও দখলচেষ্টা থামেনি। বরং শুক্রবার দিবাগত রাতে লোকচক্ষুর আড়ালে রাতের আঁধারে বিরোধপূর্ণ জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা রাতেই সেখানে নির্মাণকাজ করতে দেখেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ না করে রাতের আঁধারেই দ্রুত ঘর তুলে ফেলা হয়েছে।

আরও পড়ুন,

ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত দুখু মিয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে দুখু মিয়া বলেন— “ওদেরকে একবার মেরেছি, বাজারে ওঠা বন্ধ করেছি; আবার সামনে পেলে আবারও মারবো।” এমন বক্তব্যের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পূর্বের মারধরের মামলা চলমান থাকা এবং নতুন করে হুমকির অভিযোগের কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার অনুসন্ধানে সাংবাদিক ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সামনেও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশোভন আচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের প্রশ্ন—থানায় জিডি, পূর্বের মামলা এবং বিরোধের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকার পরও কীভাবে রাতের আঁধারে বিরোধপূর্ণ জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলো?

ভুক্তভোগী তিন ভাইয়ের দাবি, তারা কোনো সংঘাতে যেতে চান না। তারা চান, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরেজমিন তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিকানা, দখলের বৈধতা এবং রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণের ঘটনাটি যাচাই করুক। একই সঙ্গে তারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।