নেপালে টানেলে নিখোঁজ ৯৩৩ শ্রমিক, চলছে মরিয়া উদ্ধার

- আপডেট সময় : ১১:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫৪২ বার পড়া হয়েছে
নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর ত্রিশূলী নদীর তীরে থাকা বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রকল্পে অন্তত ৯৩৩ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বন্যার সময় এসব শ্রমিকের কতজন টানেলের ভেতরে ছিলেন এবং তাদের মধ্যে কতজন এখনো জীবিত রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিকূল আবহাওয়া, কাদা-পানি এবং সড়ক ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপালের ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের তালিকা অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রেই নিখোঁজ ৪২ জন। তাদের সন্ধানে টানেলের ওপর থেকে গর্ত করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাওয়ার টানেলটির দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটারের বেশি।
উদ্ধার অভিযানে অস্ট্রেলিয়ার ভূতত্ত্ববিদ আর্নল্ড ডিক্সও পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি জানান, টানেলের কতটা অংশ কাদা ও পানিতে ভরে গেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে ১০ মিটার খনন করেও শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো যেতে পারে, আবার ১০০ মিটার পর্যন্ত খনন করতে হতে পারে। চিলিমে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রেও ছয়জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা প্রায় ১৩০ মিটার পর্যন্ত এগোলেও বুকসমান কাদা ও পলির কারণে অভিযান থেমে যায়।
নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অনুসন্ধানকারী দলের পাশাপাশি ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞরাও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়েছেন। জীবিতদের শনাক্ত করতে ড্রোনে তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি কাদা সরানো, টানেলের প্রবেশপথ শনাক্ত করা এবং বিকল্প পথে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী ধাপে অক্সিজেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যোগাযোগযন্ত্র ও ক্যামেরা নিয়ে উদ্ধারকারীদের টানেলের ভেতরে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে।
এদিকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭৯ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কয়েকজন কাদা-পলিতে ভরা টানেল পেরিয়ে নিজেরাই বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। উদ্ধার পাওয়া এক শ্রমিক জানিয়েছেন, পানি, কংক্রিট ও ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে লোহার রড আঁকড়ে ধরে তাকে প্রায় ছয় ঘণ্টা এগিয়ে টানেলের বাইরে আসতে হয়েছে।
হিমালয় অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নেপাল, ভারত ও চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। তবে বন্যা, ভূমিধস, ভূমিকম্প ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ এই এলাকায় বড় অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন নিখোঁজ শ্রমিকদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা। প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে উদ্ধারকারীদের জন্য।
















