ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদরাসার সুপারের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫৭৮ বার পড়া হয়েছে

মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক উপস্থিতি, প্রক্সি শিক্ষক, নিয়োগ এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসাটিতে নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি কয়েকজন শিক্ষকের অনুপস্থিতির সুযোগে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর অভিযোগও রয়েছে। অনুসন্ধানে মাদরাসায় গিয়ে সুপারকে পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার কথা থাকলেও সুপার দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাদরাসা থেকে চলে যান।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস বা পিবিজিএসআই স্কিমের আওতায় পাওয়া প্রায় ৫ লাখ টাকার অনুদানের ব্যয় নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক প্রণোদনা খাতে প্রায় ১ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৮০ হাজার টাকা শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে। তবে বই ও লাইব্রেরি, শিক্ষা উপকরণ, বিশুদ্ধ পানি, ছাত্রীদের শৌচাগার ও কমনরুম, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন,

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব খাতের নির্ধারিত কাজের অনেকগুলোই সরেজমিনে পাওয়া যায়নি। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার কথা সুপার জানিয়েছেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে সেই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। এ ছাড়া লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগে ১২ লাখ টাকা নেওয়া, জমি ও পুকুর ইজারা, প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি, সিলিং ফ্যান ও অন্যান্য সামগ্রী কেনার অর্থ এবং শিক্ষক-স্টাফদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কৃষি শিক্ষক শিল্পী অসুস্থ এবং হার্টের অপারেশন করা রোগী। তার ক্লাস অন্য কেউ নিয়ে থাকেন বলেও জানান তিনি। তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে সব বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শালিখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং বিষয়টি দেখছেন।

মাগুরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সহীলুদ্দীন জানান, অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। একই সঙ্গে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি জানানো হবে। এদিকে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী জানিয়েছেন, শতখালী দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩৭
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৩৩
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৩
  • ১১:৪৭
  • ৩:৫৩
  • ৫:৩৩
  • ৬:৪৭
  • ৫:৫৭

মাদরাসার সুপারের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক উপস্থিতি, প্রক্সি শিক্ষক, নিয়োগ এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসাটিতে নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি কয়েকজন শিক্ষকের অনুপস্থিতির সুযোগে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর অভিযোগও রয়েছে। অনুসন্ধানে মাদরাসায় গিয়ে সুপারকে পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার কথা থাকলেও সুপার দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাদরাসা থেকে চলে যান।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস বা পিবিজিএসআই স্কিমের আওতায় পাওয়া প্রায় ৫ লাখ টাকার অনুদানের ব্যয় নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক প্রণোদনা খাতে প্রায় ১ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৮০ হাজার টাকা শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে। তবে বই ও লাইব্রেরি, শিক্ষা উপকরণ, বিশুদ্ধ পানি, ছাত্রীদের শৌচাগার ও কমনরুম, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন,

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব খাতের নির্ধারিত কাজের অনেকগুলোই সরেজমিনে পাওয়া যায়নি। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের অর্থের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার কথা সুপার জানিয়েছেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে সেই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। এ ছাড়া লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগে ১২ লাখ টাকা নেওয়া, জমি ও পুকুর ইজারা, প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি, সিলিং ফ্যান ও অন্যান্য সামগ্রী কেনার অর্থ এবং শিক্ষক-স্টাফদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কৃষি শিক্ষক শিল্পী অসুস্থ এবং হার্টের অপারেশন করা রোগী। তার ক্লাস অন্য কেউ নিয়ে থাকেন বলেও জানান তিনি। তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে সব বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শালিখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং বিষয়টি দেখছেন।

মাগুরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সহীলুদ্দীন জানান, অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। একই সঙ্গে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি জানানো হবে। এদিকে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী জানিয়েছেন, শতখালী দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী।