ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিটেনকে কটাক্ষ করে নেতানিয়াহুর বিতর্কিত মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৪২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যকে ব্যঙ্গ করে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকারের নীতির প্রতি কটাক্ষ হিসেবেই এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলকে নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে দেশটির একটি পডকাস্টে এ মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।

আলোচনায় ব্রিটিশ লেখক র‍্যান্ডলফ চার্চিলের প্রসঙ্গ তুলে ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েল নিয়ে তাঁর ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। এরপর ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, বর্তমান ব্রিটেনকে এখন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলা যেতে পারে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ২০২২ সালের একটি মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। ভ্যান্স সে সময় যুক্তরাজ্যকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি ইসলামপন্থী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের একটি ইহুদি সংগঠন। মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজমের নেতারা বলেন, ইহুদি-বিদ্বেষ, মুসলিম-বিদ্বেষ ও সামাজিক বিভাজন যখন মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে, তখন এ ধরনের বক্তব্য বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। তারা স্পষ্ট করে বলেন, নেতানিয়াহু ব্রিটিশ ইহুদিদের হয়ে কথা বলেন না এবং তাঁর বক্তব্য তাদের প্রতিনিধিত্ব করে না।

এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কেও টানাপোড়েন বেড়েছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে এবং কিছু অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স বাতিল করেছে।এছাড়া ইসরায়েলি সরকারের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। ফ্রান্স ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান আরও কঠোর করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক মহল থেকে ইসরায়েলি সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো এবং অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপের কথাও বলা হচ্ছে। ফলে নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৪০
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৬
  • ৩:৪৮
  • ৫:২৮
  • ৬:৪২
  • ৬:০০

ব্রিটেনকে কটাক্ষ করে নেতানিয়াহুর বিতর্কিত মন্তব্য

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাজ্যকে ব্যঙ্গ করে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকারের নীতির প্রতি কটাক্ষ হিসেবেই এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলকে নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে দেশটির একটি পডকাস্টে এ মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।

আলোচনায় ব্রিটিশ লেখক র‍্যান্ডলফ চার্চিলের প্রসঙ্গ তুলে ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েল নিয়ে তাঁর ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। এরপর ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, বর্তমান ব্রিটেনকে এখন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলা যেতে পারে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ২০২২ সালের একটি মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। ভ্যান্স সে সময় যুক্তরাজ্যকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি ইসলামপন্থী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের একটি ইহুদি সংগঠন। মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজমের নেতারা বলেন, ইহুদি-বিদ্বেষ, মুসলিম-বিদ্বেষ ও সামাজিক বিভাজন যখন মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে, তখন এ ধরনের বক্তব্য বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। তারা স্পষ্ট করে বলেন, নেতানিয়াহু ব্রিটিশ ইহুদিদের হয়ে কথা বলেন না এবং তাঁর বক্তব্য তাদের প্রতিনিধিত্ব করে না।

এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কেও টানাপোড়েন বেড়েছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে এবং কিছু অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স বাতিল করেছে।এছাড়া ইসরায়েলি সরকারের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। ফ্রান্স ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান আরও কঠোর করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক মহল থেকে ইসরায়েলি সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো এবং অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপের কথাও বলা হচ্ছে। ফলে নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।