র্যাব বিলুপ্ত করে আসছে এসআরবি
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫১৯ বার পড়া হয়েছে
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
খসড়া আইনে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসআরবির নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার কথা বলা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ হবে এসআরবির অন্যতম দায়িত্ব। এ ছাড়া আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে ইউনিটটির। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন এসআরবির সদস্যরা।
খসড়া আইনে তদন্তের জন্য অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে রাখা হয়েছে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত এবং বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই কমিটি কাজ করবে। কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে।
এ ছাড়া এসআরবির সদস্যদের জন্য শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আইন কার্যকর হলে র্যাবের সম্পদ, জনবল, তহবিল, চলমান মামলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এসআরবির অধীনে স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়াটি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। অর্থাৎ, নাম ও কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও অভিযান, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও তদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার বড় অংশই নতুন বাহিনীর জন্য বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

















