নাম-ফোনের ১৫৫ নম্বরেই মিলল ‘দ্য স্পাইডার’-এর হদিস
- আপডেট সময় : ০৬:২০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫৩০ বার পড়া হয়েছে
আসাদের পতনের পর গা-ঢাকা দেওয়া সিরিয়ার কুখ্যাত গোয়েন্দাপ্রধান হিসসাম লুকিয়া এখন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উপকণ্ঠে লুকিয়ে আছেন—বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। একসময় সিরিয়ার জেনারেল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লুকিয়ার ডাকনাম ছিল ‘দ্য স্পাইডার’। বিরোধীদের ওপর নির্যাতনসহ বিভিন্ন নৃশংসতার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দামেস্কে লুকিয়ার পরিত্যক্ত বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে পড়ে সাংবাদিকদের একটি দল। সেখানেই মেলে দামি পোশাক, স্বর্ণপদক, আসাদের সঙ্গে তোলা ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি। তবে সবচেয়ে বড় সূত্র হয়ে ওঠে একটি সাদামাটা নোটবুক। নোটবুকটিতে হাতে লেখা ছিল ১৫৫টি নাম ও ফোন নম্বর।
বিবিসির সাংবাদিকরা লন্ডনে ফিরে এসব নম্বর ধরে তদন্ত শুরু করেন। সামরিক কর্মকর্তা, আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। পরে সিরিয়ায় গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এক অ্যাপার্টমেন্টের প্রহরীর মাধ্যমে লুকিয়ার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মাহমুদের সন্ধান পান তারা। মাহমুদের দাবি, আসাদ সরকারের পতনের আগের রাতেই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে রাজধানী থেকে পালিয়ে যান লুকিয়া।
এরপর লেবাননের সূত্র, রুশ গোয়েন্দা সংস্থার পুরস্কার ও নববর্ষের শুভেচ্ছা কার্ড—সব মিলিয়ে তদন্তকারীরা ধারণা পান, ভিন্ন নামে রাশিয়ার পাসপোর্ট নিয়ে লেবানন হয়ে মস্কোয় পালিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত একটি রুশ ফোন নম্বরও হাতে আসে বিবিসির। পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে ফোন করে নিশ্চিত হওয়া যায়, অপর প্রান্তে লুকিয়াই রয়েছেন।
সরাসরি ফোন করলে লুকিয়া ভয়ের সুরে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কথা বলা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। পরবর্তী অনুসন্ধানে মেসেজিং অ্যাপ ও সিরিয়ান ফোন নম্বরের সূত্র ধরে বিবিসি নিশ্চিত হয়—হিসসাম লুকিয়া এখন মস্কোর উপকণ্ঠের দুটি আলাদা এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সিরিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। কিন্তু রাশিয়া তাকে ফেরত পাঠানোর কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সিরিয়ার নিখোঁজ মানুষ ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
















