ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এখন অনলাইনেই নাম ছাড়পত্র থেকে কোম্পানি নিবন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৫১ বার পড়া হয়েছে

কোম্পানি নিবন্ধনের দীর্ঘসূত্রতা ও দাপ্তরিক জটিলতা কমাতে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিঙ্গাপুরের দ্রুত ব্যবসা নিবন্ধন ব্যবস্থার আদলে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর—আরজেএসসি চালু করতে যাচ্ছে ‘ইলেকট্রনিক বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ বা ইবিআরএস।

নতুন এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে উদ্যোক্তাদের কোম্পানির নাম ছাড়পত্র থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত কোনো কাজেই আর আরজেএসসি কার্যালয়ে যেতে হবে না। ঘরে বসেই অনলাইনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আরজেএসসির কার্যক্রম আধুনিকায়নসংক্রান্ত সভায় ইবিআরএস চালুর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হলে নিবন্ধনের সময় আরও কমে আসবে। ইবিআরএসে এনআইডি, ই-টিন ও মোবাইল নম্বর তাৎক্ষণিকভাবে যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। ফলে আবেদনে দেওয়া তথ্যের অসংগতি বা জালিয়াতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

কোম্পানি গঠনের আইনি প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। সংঘস্মারক ও সংঘবিধির জন্য উদ্যোক্তারা স্ট্যান্ডার্ড, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনযোগ্য কাস্টমাইজড এবং পূর্বানুমোদিত মডেল ব্যবহার করতে পারবেন। এতে নথি যাচাই ও অনুমোদনের সময় কমবে। স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন নিশ্চিত করতে ইবিআরএসকে বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এনআইডি ও ভোটার তথ্য যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশন, মোবাইল সিম যাচাইয়ে বিটিআরসি এবং ক্লাউড নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবার জন্য বিডিসিসিএলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

সফটওয়্যারের কারিগরি নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। ইতোমধ্যে নিবন্ধন মডিউলের ব্যবহারকারী গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন অনুযায়ী সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডাইনামিক সলিউশন লিমিটেড আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সফটওয়্যারটির চূড়ান্ত রূপান্তর ও হস্তান্তর করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইবিআরএস চালু হলে কোম্পানি নিবন্ধনে উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় কমবে। দপ্তরে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন কমার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় তথ্য যাচাইয়ের ফলে সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপগুলোর দ্রুত ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৪০
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৬
  • ৩:৪৮
  • ৫:২৮
  • ৬:৪২
  • ৬:০০

এখন অনলাইনেই নাম ছাড়পত্র থেকে কোম্পানি নিবন্ধন

আপডেট সময় : ১১:২০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

কোম্পানি নিবন্ধনের দীর্ঘসূত্রতা ও দাপ্তরিক জটিলতা কমাতে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিঙ্গাপুরের দ্রুত ব্যবসা নিবন্ধন ব্যবস্থার আদলে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর—আরজেএসসি চালু করতে যাচ্ছে ‘ইলেকট্রনিক বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ বা ইবিআরএস।

নতুন এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে উদ্যোক্তাদের কোম্পানির নাম ছাড়পত্র থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত কোনো কাজেই আর আরজেএসসি কার্যালয়ে যেতে হবে না। ঘরে বসেই অনলাইনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আরজেএসসির কার্যক্রম আধুনিকায়নসংক্রান্ত সভায় ইবিআরএস চালুর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হলে নিবন্ধনের সময় আরও কমে আসবে। ইবিআরএসে এনআইডি, ই-টিন ও মোবাইল নম্বর তাৎক্ষণিকভাবে যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। ফলে আবেদনে দেওয়া তথ্যের অসংগতি বা জালিয়াতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

কোম্পানি গঠনের আইনি প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। সংঘস্মারক ও সংঘবিধির জন্য উদ্যোক্তারা স্ট্যান্ডার্ড, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনযোগ্য কাস্টমাইজড এবং পূর্বানুমোদিত মডেল ব্যবহার করতে পারবেন। এতে নথি যাচাই ও অনুমোদনের সময় কমবে। স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন নিশ্চিত করতে ইবিআরএসকে বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এনআইডি ও ভোটার তথ্য যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশন, মোবাইল সিম যাচাইয়ে বিটিআরসি এবং ক্লাউড নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবার জন্য বিডিসিসিএলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

সফটওয়্যারের কারিগরি নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। ইতোমধ্যে নিবন্ধন মডিউলের ব্যবহারকারী গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন অনুযায়ী সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডাইনামিক সলিউশন লিমিটেড আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সফটওয়্যারটির চূড়ান্ত রূপান্তর ও হস্তান্তর করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইবিআরএস চালু হলে কোম্পানি নিবন্ধনে উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় কমবে। দপ্তরে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন কমার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় তথ্য যাচাইয়ের ফলে সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপগুলোর দ্রুত ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।