ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরোধীদের ওয়াকআউটের মধ্যেই সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাস

জুলিয়া জাহান
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫৫৩ বার পড়া হয়েছে

শরীয়াহ ও মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন অভিযোগ তুলে বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। রোববার জাতীয় সংসদে বিলটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক হয়। বিরোধী সদস্যরা বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি জানান। তবে সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে গেলে কয়েক মিনিটের জন্য ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। পরে কণ্ঠভোটেই বিলটি পাস হয়।

বিলের উদ্দেশ্য হলো সন্তানদের নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করা। তবে বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, এই বিধান মুসলিম পারিবারিক আইন, হেবা, ফারায়েজ ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের মতে, সম্পত্তির মালিকানা সন্তানদের নামে দিয়ে বাবা-মায়ের কাছে ভোগদখল রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মোমেন বলেন, প্রস্তাবিত আইন কোরআন ও সুন্নাহর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই ধরনের আপত্তি তুলে আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য বিলটি জনমত যাচাই এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আলেম-ওলামাদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান। তবে বিলের মানবিক দিকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, অনেক বাবা-মা শেষ বয়সে সন্তানের অবহেলার শিকার হন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনে আরও কিছু সুরক্ষা যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ড. মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও প্রস্তাবিত বিধান ইসলামী উত্তরাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়ে শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বিধানটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এটি হেবা, সাধারণ দান বা শরীয়াহ আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ক্ষুণ্ন করবে না।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা, বিনিময় ও দানের মতো বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। নতুন বিধানটিও এসবের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে কার্যকর হবে। ফলে হেবা বা উত্তরাধিকার আইন ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ীই পরিচালিত হবে। বিতর্ক ও বিরোধিতার পর শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৪০
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৬
  • ৩:৪৮
  • ৫:২৮
  • ৬:৪২
  • ৬:০০

বিরোধীদের ওয়াকআউটের মধ্যেই সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাস

আপডেট সময় : ০৯:০০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শরীয়াহ ও মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন অভিযোগ তুলে বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। রোববার জাতীয় সংসদে বিলটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক হয়। বিরোধী সদস্যরা বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি জানান। তবে সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে গেলে কয়েক মিনিটের জন্য ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। পরে কণ্ঠভোটেই বিলটি পাস হয়।

বিলের উদ্দেশ্য হলো সন্তানদের নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করা। তবে বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, এই বিধান মুসলিম পারিবারিক আইন, হেবা, ফারায়েজ ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের মতে, সম্পত্তির মালিকানা সন্তানদের নামে দিয়ে বাবা-মায়ের কাছে ভোগদখল রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মোমেন বলেন, প্রস্তাবিত আইন কোরআন ও সুন্নাহর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই ধরনের আপত্তি তুলে আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য বিলটি জনমত যাচাই এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আলেম-ওলামাদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান। তবে বিলের মানবিক দিকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, অনেক বাবা-মা শেষ বয়সে সন্তানের অবহেলার শিকার হন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনে আরও কিছু সুরক্ষা যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ড. মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও প্রস্তাবিত বিধান ইসলামী উত্তরাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়ে শরীয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বিধানটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এটি হেবা, সাধারণ দান বা শরীয়াহ আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ক্ষুণ্ন করবে না।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা, বিনিময় ও দানের মতো বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। নতুন বিধানটিও এসবের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে কার্যকর হবে। ফলে হেবা বা উত্তরাধিকার আইন ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ীই পরিচালিত হবে। বিতর্ক ও বিরোধিতার পর শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়।