কুয়েত যাওয়ার টাকা নিয়ে বিরোধে প্রবাসীর বিরুদ্ধে মামলা

- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুড়িয়া গ্রামের দীর্ঘদিনের কুয়েত প্রবাসী আকবর মোল্লার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার মামলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে এর নেপথ্যে বাদী রত্না বেগমের ভাই পরিচয়ে ইয়াহিয়া মৃধার ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন আকবর মোল্লা।
আকবর মোল্লার দাবি, মহম্মদপুর উপজেলার গোবরনাদা গ্রামের রত্না বেগমের ভাসুর তাইজুল ইসলামকে তিনি কুয়েতে নিয়ে যান। এরপর রত্না বেগম তার স্বামী আহাদ আলীকে কুয়েতে পাঠানোর জন্য আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আকবরের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে রত্না বেগম তার ভাই পরিচয়ে ইয়াহিয়া মৃধাকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে এক লাখ টাকা দেন। বিষয়টি আগে থেকে জানতেন না দাবি করে আকবর তার ছেলেকে টাকা ফেরত দিতে বলেন। পরে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
এরপর রত্না বেগমের অনুরোধে ঝিনাইদহের সাধুহাটি এলাকার কুয়েত প্রবাসী স্বপন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন আকবর। তার মাধ্যমে আরও এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা জানান তিনি। আকবরের দাবি, আহাদ আলীর বয়স বেশি হওয়ায় কুয়েতের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। পরে বয়স কমিয়ে পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কুয়েতের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আহাদ আলী কুয়েতে যেতে পারেননি।
পরে রত্না বেগম টাকা ফেরত চান বলে দাবি করেন আকবর। টাকা ফেরতের জন্য স্বপনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে তার মোবাইল নম্বর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানান তিনি। এরপর আকবর মোল্লা অভিযোগ করেন, তাকে তার স্ত্রী ও ছেলেসহ আসামি করে মহম্মদপুর আমলী আদালতে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়।
মামলার নথিতে দেখা যায়, মহম্মদপুর সিআর মামলা নম্বর ৪৯৮/২৫। মামলাটি ২০২৫ সালের ২৯ মে দায়ের করা হয়। এতে আকবর মোল্লা, তার স্ত্রী শাপলা খাতুন এবং ছেলে আকাশ মোল্লাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী রত্না বেগমের অভিযোগ, কুয়েতে পাঠানোর কথা বলে তার স্বামী আহাদ আলীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়। পাশাপাশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে কুয়েতে পাঠানো হয়নি।
তবে আকবর মোল্লার দাবি, তিনি টাকা আত্মসাৎ করেননি এবং বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন। ভিসা জটিলতা ও সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তির কাছে দেওয়া টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার। এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মামলার বিষয়ে জানতে মহম্মদপুরের গোবরনাদা গ্রামে যান মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহমেদ ও সহ-সভাপতি সাহেব আলী। সেখানে মামলার বাদী রত্না বেগমের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হয় বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের দাবি, মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে রত্না বেগম কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে আশপাশের লোকজনের উপস্থিতিতেও তিনি বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে তারা জানান। তবে শুধু বক্তব্য না দেওয়ার ভিত্তিতে মামলাটি মিথ্যা বা ভিত্তিহীন—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মামলার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি আদালত ও তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য।













