বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বন্দর: ডেমারেজ মওকুফসহ ৯ দফা দাবি
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / ৫২৪ বার পড়া হয়েছে
সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দর এবং সংলগ্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে পানি প্রবেশ করে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। এ পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণের দায় অস্বীকারের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অবস্থানের সমালোচনা করে সরকারের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
রোববার বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমইএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক যৌথভাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠান। চিঠির অনুলিপি অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও কনটেইনার ডিপো প্লাবিত হয়। এতে আমদানিকৃত কাঁচামাল, শিল্প উপকরণ, খাদ্যপণ্য, রাসায়নিক এবং রপ্তানিযোগ্য তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ ও অন্যান্য পণ্যের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত যেকোনো দাবি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে ক্ষতি হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, বন্যার কারণে পণ্য খালাস, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় অতিরিক্ত ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট, স্টোরেজ ও শিপিং চার্জ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে উৎপাদন, রপ্তানি, নগদ অর্থপ্রবাহ, শ্রমিকদের মজুরি এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ব্যবসায়ীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
- চট্টগ্রাম বন্দর ও সংযোগ সড়ক-রেলপথ দ্রুত সচল করা।
- ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে যৌথ মূল্যায়ন কমিটি গঠন।
- ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট ও স্টোরেজ চার্জ সম্পূর্ণ বা আংশিক মওকুফ।
- জরুরি ও পচনশীল পণ্যের জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কাস্টমস সুবিধা।
- ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্পসুদের পুনঃঅর্থায়ন ও কার্যকরী মূলধন ঋণ।
- ঋণ পরিশোধে সময় বৃদ্ধি ও পুনঃতফসিলের সুযোগ।
- এলসি, আমদানি-রপ্তানি ও বৈদেশিক লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানো।
- কর, ভ্যাট, ইউটিলিটি বিল ও সরকারি ফি পরিশোধে বিশেষ ছাড়।
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসনে বিশেষ প্রণোদনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের ক্ষেত্রে সহজতর কাস্টমস ও ব্যাংকিং সুবিধা।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, দ্রুত এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন না হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।


















