ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন প্রত্যাহারের দাবি শফিকুর রহমানের

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল ২০২৬-কে কোরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থী দাবি করে আইনটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের এই লংমার্চ শনিবার সকালে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে রংপুরে গিয়ে শেষ হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী একটি আইন পাস করেছে বলে তারা মনে করেন। তার দাবি, এই আইন ঘরে ঘরে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং সরকারকে এর মূল্য দিতে হবে। তাই আইনটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনাতেও তিনি এর বিভিন্ন ধারাকে কোরআন ও সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করেছিলেন।

গণভোটের রায় নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই—এমন অবস্থান গ্রহণ করলে ২০২৪ সালের গণবিপ্লব এবং ২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার ভাষ্য, সংবিধানের বাইরে গিয়ে যদি পরিবর্তন সম্ভব হয়ে থাকে তাহলে গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তার দাবি, বর্তমান সরকার আগের সরকারের মতো একই পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, আট দফা দাবি মেনে দৃশ্যমান বাস্তবায়ন করা হলে লংমার্চের প্রয়োজন হতো না। অন্যথায় সংসদের ভেতরে প্রতিবাদ এবং রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, আট দফার যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। তবে তার আগে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ গ্যাস সার ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তার অভিযোগ, এসব সংকটের মধ্যে চাঁদাবাজি বেড়েছে এবং এর প্রভাব দ্রব্যমূল্যের ওপর পড়ছে। চাঁদাবাজির কারণে মানুষের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের কাছে জবাব চান শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাত মাসেও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি উত্তরাঞ্চলকে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরেন।

সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের অন্য নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ গ্যাস তেল ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন প্রত্যাহারের দাবি শফিকুর রহমানের

আপডেট সময় : ১২:৫৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল ২০২৬-কে কোরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থী দাবি করে আইনটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের এই লংমার্চ শনিবার সকালে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে রংপুরে গিয়ে শেষ হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী একটি আইন পাস করেছে বলে তারা মনে করেন। তার দাবি, এই আইন ঘরে ঘরে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং সরকারকে এর মূল্য দিতে হবে। তাই আইনটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনাতেও তিনি এর বিভিন্ন ধারাকে কোরআন ও সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করেছিলেন।

গণভোটের রায় নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই—এমন অবস্থান গ্রহণ করলে ২০২৪ সালের গণবিপ্লব এবং ২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার ভাষ্য, সংবিধানের বাইরে গিয়ে যদি পরিবর্তন সম্ভব হয়ে থাকে তাহলে গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তার দাবি, বর্তমান সরকার আগের সরকারের মতো একই পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, আট দফা দাবি মেনে দৃশ্যমান বাস্তবায়ন করা হলে লংমার্চের প্রয়োজন হতো না। অন্যথায় সংসদের ভেতরে প্রতিবাদ এবং রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, আট দফার যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। তবে তার আগে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ গ্যাস সার ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তার অভিযোগ, এসব সংকটের মধ্যে চাঁদাবাজি বেড়েছে এবং এর প্রভাব দ্রব্যমূল্যের ওপর পড়ছে। চাঁদাবাজির কারণে মানুষের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের কাছে জবাব চান শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাত মাসেও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি উত্তরাঞ্চলকে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরেন।

সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের অন্য নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ গ্যাস তেল ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।