‘মাননীয়’ নয়, শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’: নিজের দপ্তরেই নিয়ম চালু করলেন তারেক রহমান

- আপডেট সময় : ১১:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫৩১ বার পড়া হয়েছে
পদবির আগে সম্মানসূচক ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের কার্যালয় থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দাপ্তরিক নিয়ম মেনে ডিজিটাল হাজিরাও দিচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথিপত্র ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল হাজিরা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। দিনের কাজ শেষে অফিস ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রটি ইতোমধ্যে সব মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি পত্রালাপ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিতে পরিপত্রের ব্যত্যয় না ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও প্রশাসনের সর্বস্তরে নির্দেশনাটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন, পরিপত্রটি মাঠ প্রশাসনের সর্বত্র পৌঁছে গেছে। বৃহস্পতিবার কিছু দাপ্তরিক চিঠিপত্রে এর বাস্তবায়নও দেখা গেছে। কোনো দপ্তরে নির্দেশনার ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি দাপ্তরিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ডিজিটাল হাজিরা চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও কার্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় নির্ধারিত হাজিরা পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতে আরও কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তাঁর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার না করার নীতিও অনুসরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ সম্বোধন বা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে আনাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য।

















