ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালের বন্যা গঙ্গা হয়ে বাংলাদেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৫৫ বার পড়া হয়েছে

নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ৫৭৯ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধস ও নদীর প্রবাহ আটকে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল নেমে আসে রাসুয়া অঞ্চলে। ভোতেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী হয়ে বিপুল জলরাশি নেমে যায় ভারতের গঙ্গা অববাহিকার দিকে। এতে সেতু, সড়ক, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে বরফ ও পাথরের ধসে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যায়। পরে সেই বাধা ভেঙে কাদা, পাথর ও বিপুল পানি প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে নেমে আসে। মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশূলী নদীর একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের দুর্যোগকে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা গ্লফের সঙ্গে তুলনা করা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদের ঝুঁকি বাড়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ আরও বড় আকার নিতে পারে।

নেপালের নদী ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের পানিপ্রবাহগত সংযোগ থাকায় এ বন্যার পানি শেষ পর্যন্ত গঙ্গা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ভূ-তত্ত্ববিদ ও পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপাল থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে পানির তীব্রতা অনেকটাই কমে যাওয়ার কথা। ফলে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কম।

তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশের বৃষ্টিপাত, গঙ্গার পানির প্রবাহ এবং ফারাক্কাসহ আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির স্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, নেপালের এই বিপর্যয় শুধু একটি দেশের দুর্যোগ নয়; এটি হিমালয়-নির্ভর আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৪০
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:২৮
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৬
  • ৩:৪৮
  • ৫:২৮
  • ৬:৪২
  • ৬:০০

নেপালের বন্যা গঙ্গা হয়ে বাংলাদেশে

আপডেট সময় : ১১:৪৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ৫৭৯ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধস ও নদীর প্রবাহ আটকে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল নেমে আসে রাসুয়া অঞ্চলে। ভোতেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী হয়ে বিপুল জলরাশি নেমে যায় ভারতের গঙ্গা অববাহিকার দিকে। এতে সেতু, সড়ক, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে বরফ ও পাথরের ধসে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যায়। পরে সেই বাধা ভেঙে কাদা, পাথর ও বিপুল পানি প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে নেমে আসে। মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশূলী নদীর একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের দুর্যোগকে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা গ্লফের সঙ্গে তুলনা করা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদের ঝুঁকি বাড়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ আরও বড় আকার নিতে পারে।

নেপালের নদী ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের পানিপ্রবাহগত সংযোগ থাকায় এ বন্যার পানি শেষ পর্যন্ত গঙ্গা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ভূ-তত্ত্ববিদ ও পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপাল থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে পানির তীব্রতা অনেকটাই কমে যাওয়ার কথা। ফলে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা কম।

তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশের বৃষ্টিপাত, গঙ্গার পানির প্রবাহ এবং ফারাক্কাসহ আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির স্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, নেপালের এই বিপর্যয় শুধু একটি দেশের দুর্যোগ নয়; এটি হিমালয়-নির্ভর আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।