জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ১১ দফা দাবি এবি পার্টির

- আপডেট সময় : ০২:৪২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৫২৬ বার পড়া হয়েছে
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আমদানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশে ডিজেল কেরোসিন পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দরে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি বা এবি পার্টি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: জনস্বার্থ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ থাকলেও তা একসঙ্গে জনগণের ওপর না চাপিয়ে ধাপে ধাপে ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে মূল্য সমন্বয় করা যেত।
মঞ্জুর দাবি সাত মাসে দুইবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এটি এবি পার্টির রাজনৈতিক মূল্যায়ন। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে সেচ পাম্প পাওয়ার টিলার হারভেস্টারসহ কৃষিযন্ত্র পরিচালনার খরচ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়। ফলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবহন খাতেও বাড়তে পারে পরিচালন ব্যয়। বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের জ্বালানি খরচ বাড়লে তার প্রভাব পরিবহন ভাড়া এবং পণ্য পরিবহনের খরচে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন ও পণ্যের দামে বাড়তি চাপ তৈরির আশঙ্কার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় ও বিপিসির লোকসানের হিসাব জনগণের সামনে আরও স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবি জানান। তিনি আমদানি শুল্ক ও কর সাময়িক সমন্বয় এবং বিপিসির দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপচয় ও জ্বালানি চুরি বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেন।
অন্যদিকে সরকার জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর বৃদ্ধি পরিবহন ও বিমা ব্যয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ওপর বাড়তে থাকা লোকসানের কথা জানিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পরও ডিজেলের দাম প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের তুলনায় কম রয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সংবাদ সম্মেলন থেকে ১১ দফা দাবি তুলে ধরে এবি পার্টি। এর মধ্যে কৃষি ও পরিবহন খাতে ব্যবহৃত ডিজেলের জন্য পৃথক মূল্যনীতি গ্রহণ এবং একবারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়ের দাবি রয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারদর ফ্রেইট বিনিময় হার আমদানি ব্যয় ও করের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও ফর্মুলাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল জনগণকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। প্রকৃত কৃষক ও কৃষিযন্ত্রের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ডিজেল সহায়তা চালু করা অযৌক্তিক পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ঠেকানো বিপিসির আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বাধীন অডিট এবং সীমান্তপথে জ্বালানি পাচার বন্ধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালুর দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত জ্বালানি তহবিল গঠন নিম্নআয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবি পার্টি।

















