ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা নিয়ে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নে তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫১৯ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডা. তাসনিম জারা। রোববার দুপুরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

তাসনিম জারা বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করে আসছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানে শুধু শিশুদের টিকাদান নয়, প্রসূতি মা, গর্ভবতী নারীসহ এলাকাবাসীকে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো। ভবনটি ভেঙে দেওয়ার পরও স্বাস্থ্যকর্মীরা খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদানসহ জরুরি সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। রোদে কষ্ট করে মায়েরা শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

তবে কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলার পরও কেন তা ঠেকানো গেল না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তাসনিম জারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো সত্ত্বেও যদি হামলা ঠেকানো না যায় তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে তাদের ওপর আস্থা রাখবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি বাড়ি ও দোকান দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে কেন এমন দখলের প্রবণতা তৈরি হয়েছে তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন,

স্বাস্থ্যসেবায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তাঁর দাবি ভাঙচুরের ঘটনায় শিশুদের টিকাদানের রেজিস্টার দুটি ট্যাব ও অফিসের ফোন হারিয়ে গেছে। ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা আগের মতো রেজিস্টার দেখে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন টিকা কার্ড হারিয়ে গেলে অনেক শিশুর নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত নতুন করে রেজিস্টার তৈরি এবং প্রতিটি শিশুর টিকার তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাসনিম জারা বলেন, ভবনের কিছু কক্ষ এখনো ব্যবহারযোগ্য। প্রশাসন দ্রুত এসব কক্ষ খুলে দিলে অন্তত মাতৃস্বাস্থ্যসেবাগুলো আবার চালু করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে তারা ওয়াশরুম ব্যবহার ও খাবার খাওয়ার মতো ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। ব্যবহারযোগ্য কক্ষগুলো দ্রুত খুলে দিয়ে টিকাদানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ডা. তাসনিম জারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা নিয়ে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নে তাসনিম জারা

আপডেট সময় : ০৪:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডা. তাসনিম জারা। রোববার দুপুরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

তাসনিম জারা বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করে আসছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানে শুধু শিশুদের টিকাদান নয়, প্রসূতি মা, গর্ভবতী নারীসহ এলাকাবাসীকে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো। ভবনটি ভেঙে দেওয়ার পরও স্বাস্থ্যকর্মীরা খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদানসহ জরুরি সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। রোদে কষ্ট করে মায়েরা শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

তবে কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলার পরও কেন তা ঠেকানো গেল না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তাসনিম জারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো সত্ত্বেও যদি হামলা ঠেকানো না যায় তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে তাদের ওপর আস্থা রাখবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি বাড়ি ও দোকান দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে কেন এমন দখলের প্রবণতা তৈরি হয়েছে তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন,

স্বাস্থ্যসেবায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তাঁর দাবি ভাঙচুরের ঘটনায় শিশুদের টিকাদানের রেজিস্টার দুটি ট্যাব ও অফিসের ফোন হারিয়ে গেছে। ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা আগের মতো রেজিস্টার দেখে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন টিকা কার্ড হারিয়ে গেলে অনেক শিশুর নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত নতুন করে রেজিস্টার তৈরি এবং প্রতিটি শিশুর টিকার তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাসনিম জারা বলেন, ভবনের কিছু কক্ষ এখনো ব্যবহারযোগ্য। প্রশাসন দ্রুত এসব কক্ষ খুলে দিলে অন্তত মাতৃস্বাস্থ্যসেবাগুলো আবার চালু করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে তারা ওয়াশরুম ব্যবহার ও খাবার খাওয়ার মতো ন্যূনতম সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। ব্যবহারযোগ্য কক্ষগুলো দ্রুত খুলে দিয়ে টিকাদানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ডা. তাসনিম জারা।