ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরা পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত

এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা

মোঃ সাহেব আলী, মাগুরা :
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল তৈরির ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের জরুরি নির্দেশনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ ব্যবস্থা নেয়। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। পরে তিনি ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভুল সংশোধন করে সঠিক বিল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের ওই বিলটি ইস্যু করা হয়। বিলের তথ্য অনুযায়ী ৮ আগস্ট মিটারের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০ ইউনিট। আর ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান রিডিং ৩৯৫ ইউনিট। অর্থাৎ এক মাসে ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ হয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ সেই বিলের পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।

অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ যার পরিমাণ ২ হাজার ৫৬ টাকা। ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেন, এটি শুধু ভুতুড়ে বিল নয় বরং আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন ভুলে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম জানান, মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়। ঘটনার পর বিল সংশোধন করা হয়েছে এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

মাগুরা পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত

এক মাসের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ১০:৩৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল তৈরির ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের জরুরি নির্দেশনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ ব্যবস্থা নেয়। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। পরে তিনি ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভুল সংশোধন করে সঠিক বিল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের ওই বিলটি ইস্যু করা হয়। বিলের তথ্য অনুযায়ী ৮ আগস্ট মিটারের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০ ইউনিট। আর ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান রিডিং ৩৯৫ ইউনিট। অর্থাৎ এক মাসে ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ হয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ সেই বিলের পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।

অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ যার পরিমাণ ২ হাজার ৫৬ টাকা। ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেন, এটি শুধু ভুতুড়ে বিল নয় বরং আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন ভুলে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম জানান, মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়। ঘটনার পর বিল সংশোধন করা হয়েছে এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।