ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইলটের ছুরিকাঘাতে মাঝআকাশে ১৭ হাজার ফুট নিচে নামল বিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫২৬ বার পড়া হয়েছে

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝআকাশে ঘটে গেল ভয়াবহ ঘটনা। ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের সময় একজন পাইলট অন্যজনকে ছুরিকাঘাত করেন। একই সময়ে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।

৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করে। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটির উচ্চতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মোট পতনের পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট বলা হয়েছে।

এ সময় বিমান থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। পরে ‘৭৫০০’ সংকেত পাঠানো হয়, যা বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয় এবং সৌদি আরবের তাবুকের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ককপিটে একজন পাইলটকে ছুরিকাঘাত করার পর চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শোনা যায়। কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলটরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। পরে অতিরিক্ত ক্রু সদস্যরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন।

বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার দুজনকেই আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানের সব যাত্রী নিরাপদ এবং তাদের হিসাব পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যাত্রীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করার পর বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয় এবং তদন্ত চলছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষও ঘটনার তদন্ত করছে। হামলাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ইসরায়েলি পক্ষ জানিয়েছে। তবে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন বা বাইরের কোনো পক্ষের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর বিমানে থাকা যাত্রীদের পরবর্তী সময়ে তেল আবিবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আর ভয়াবহ এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত পদক্ষেপেই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

পাইলটের ছুরিকাঘাতে মাঝআকাশে ১৭ হাজার ফুট নিচে নামল বিমান

আপডেট সময় : ১০:৪৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝআকাশে ঘটে গেল ভয়াবহ ঘটনা। ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের সময় একজন পাইলট অন্যজনকে ছুরিকাঘাত করেন। একই সময়ে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।

৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করে। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটির উচ্চতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মোট পতনের পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট বলা হয়েছে।

এ সময় বিমান থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। পরে ‘৭৫০০’ সংকেত পাঠানো হয়, যা বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয় এবং সৌদি আরবের তাবুকের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ককপিটে একজন পাইলটকে ছুরিকাঘাত করার পর চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শোনা যায়। কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলটরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। পরে অতিরিক্ত ক্রু সদস্যরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন।

বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার দুজনকেই আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানের সব যাত্রী নিরাপদ এবং তাদের হিসাব পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যাত্রীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করার পর বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয় এবং তদন্ত চলছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষও ঘটনার তদন্ত করছে। হামলাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ইসরায়েলি পক্ষ জানিয়েছে। তবে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন বা বাইরের কোনো পক্ষের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর বিমানে থাকা যাত্রীদের পরবর্তী সময়ে তেল আবিবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আর ভয়াবহ এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত পদক্ষেপেই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।