ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামুদ্রিক খাতকে আধুনিক করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতকে আধুনিক নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এ খাতকে পরিবেশগতভাবে টেকসই জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশ্ব নৌ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতকে আধুনিক নিরাপদ প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশগতভাবে টেকসই জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তরে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে আরও শক্তিশালী নীতি বাস্তবায়ন আধুনিক অবকাঠামো পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন দক্ষ নাবিক এবং কার্যকর সামুদ্রিক সুশাসন প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ২০২৬ ও ২০২৭ সালের প্রতিপাদ্য ‘নীতিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সামুদ্রিক উৎকর্ষ অর্জন’। আইএমও জানিয়েছে, এই প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিধিবিধানকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে এসে নিরাপদ সুরক্ষিত দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন,

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু নীতি ও বিধিবিধান প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। এর কার্যকর প্রয়োগ ও পরিচালনাগত উৎকর্ষও নিশ্চিত করতে হবে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং বিস্তৃত নদীপথের মাধ্যমে দেশের পণ্য ও সেবা পরিবহন করা হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সামুদ্রিক সীমানা নৌপরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ২৯টি সামুদ্রিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে বলে জানান তিনি। নৌপরিবহন খাতে সবুজ রূপান্তরের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অভ্যন্তরীণ ও সমুদ্রগামী নৌযানের কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।

আরও পড়ুন,

২০২৬ সালকে বাস্তবায়নের বছর হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী চারটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো সবুজ নৌপরিবহন এগিয়ে নেওয়া ও বিশ্বমানের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা গড়ে তোলা, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল লজিস্টিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দর অবকাঠামো আধুনিকায়ন, হাইড্রোগ্রাফি কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং নাবিকদের দক্ষতা বাড়াতে সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন। তিনি বলেন, সামুদ্রিক উৎকর্ষ শুধু নীতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন কার্যক্রমেও এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ মালিক নাবিক সামুদ্রিক পেশাজীবী এবং পরিবেশবিষয়ক সংস্থাগুলোকে বৈশ্বিক মানদণ্ড ও জাতীয় অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী নীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং নিরাপদ সবুজ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বানও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:৩১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৫:৪৯
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৭
  • ১১:৫১
  • ৪:০৬
  • ৫:৪৯
  • ৭:০২
  • ৫:৪৯

সামুদ্রিক খাতকে আধুনিক করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতকে আধুনিক নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এ খাতকে পরিবেশগতভাবে টেকসই জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশ্ব নৌ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতকে আধুনিক নিরাপদ প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশগতভাবে টেকসই জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তরে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে আরও শক্তিশালী নীতি বাস্তবায়ন আধুনিক অবকাঠামো পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন দক্ষ নাবিক এবং কার্যকর সামুদ্রিক সুশাসন প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ২০২৬ ও ২০২৭ সালের প্রতিপাদ্য ‘নীতিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সামুদ্রিক উৎকর্ষ অর্জন’। আইএমও জানিয়েছে, এই প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিধিবিধানকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে এসে নিরাপদ সুরক্ষিত দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন,

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু নীতি ও বিধিবিধান প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। এর কার্যকর প্রয়োগ ও পরিচালনাগত উৎকর্ষও নিশ্চিত করতে হবে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং বিস্তৃত নদীপথের মাধ্যমে দেশের পণ্য ও সেবা পরিবহন করা হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সামুদ্রিক সীমানা নৌপরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ২৯টি সামুদ্রিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে বলে জানান তিনি। নৌপরিবহন খাতে সবুজ রূপান্তরের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অভ্যন্তরীণ ও সমুদ্রগামী নৌযানের কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।

আরও পড়ুন,

২০২৬ সালকে বাস্তবায়নের বছর হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী চারটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো সবুজ নৌপরিবহন এগিয়ে নেওয়া ও বিশ্বমানের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা গড়ে তোলা, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল লজিস্টিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দর অবকাঠামো আধুনিকায়ন, হাইড্রোগ্রাফি কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং নাবিকদের দক্ষতা বাড়াতে সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন। তিনি বলেন, সামুদ্রিক উৎকর্ষ শুধু নীতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন কার্যক্রমেও এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ মালিক নাবিক সামুদ্রিক পেশাজীবী এবং পরিবেশবিষয়ক সংস্থাগুলোকে বৈশ্বিক মানদণ্ড ও জাতীয় অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী নীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং নিরাপদ সবুজ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বানও জানান তিনি।