ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোকসানে বন্ধ মধুমতি ও শাপলা টকিজ

বিনোদন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একসময় নতুন সিনেমা মুক্তি পেলেই দর্শকের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠত দেশের সিনেমা হল। টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হলের সামনে জমজমাট আড্ডা—সব মিলিয়ে সিনেমা হল ছিল বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু সেই চিত্র এখন অনেকটাই অতীত।

দর্শক সংকট ও দীর্ঘদিনের লোকসানে বছরের অধিকাংশ সময়ই ফাঁকা পড়ে থাকে হলের আসন। লোকসান সামলাতে না পেরে একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দিচ্ছেন মালিকরা। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মধুমতি ও রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শাপলা টকিজ।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একসময় ছিল চারটি সিনেমা হল। ভৈরব বাজারে মেঘনার পাড়ে ছবিঘর, রেলওয়ে স্টেশনের পাশে পলাশ এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে ছিল মধুমতি ও দর্শন। এর মধ্যে অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে ছবিঘর ও পলাশ। দীর্ঘদিন টিকে থাকার পর সর্বশেষ মধুমতিও গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ভৈরবের সিনেমা হলের সংখ্যা আরও কমে গেল।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রংপুরের সিনেমা হলের ইতিহাসও ছিল বেশ সমৃদ্ধ। শহরের প্রথম সিনেমা হল ছিল মডার্ন হল। সেটি বন্ধ হওয়ার পর একে একে গড়ে ওঠে শাপলা টকিজ, দরদী হল, ওরিয়েন্টাল, লক্ষ্মী টকিজ, নূর মহল, চায়না টকিজ, সেনাহলসহ মোট ১০টি সিনেমা হল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ। সর্বশেষ টিকে ছিল শাপলা টকিজ। ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই হলটিও দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে শুক্রবার থেকে বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। শনিবার সিনেমা হল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাপলা টকিজের ব্যবস্থাপক শাহাবুদ্দিন। শাপলা টকিজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিভাগীয় শহর রংপুর এখন পুরোপুরি সিনেমা হলশূন্য হয়ে গেল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দর্শক হারানো, ভালো সিনেমার স্বল্পতা, অনলাইন বিনোদনের বিস্তার এবং হল পরিচালনার বাড়তি ব্যয়সহ নানা কারণে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছে। একসময় যে সিনেমা হলগুলো ছিল মানুষের বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র, সেগুলো আজ একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু ব্যবসায়িক সংকট নয়; এটি দেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতির জন্যও বড় একটি সতর্কবার্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:২১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৬:১৫
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২৭
  • ১২:০০
  • ৪:২৫
  • ৬:১৫
  • ৭:৩০
  • ৫:৪১

লোকসানে বন্ধ মধুমতি ও শাপলা টকিজ

আপডেট সময় : ১০:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

একসময় নতুন সিনেমা মুক্তি পেলেই দর্শকের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠত দেশের সিনেমা হল। টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হলের সামনে জমজমাট আড্ডা—সব মিলিয়ে সিনেমা হল ছিল বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু সেই চিত্র এখন অনেকটাই অতীত।

দর্শক সংকট ও দীর্ঘদিনের লোকসানে বছরের অধিকাংশ সময়ই ফাঁকা পড়ে থাকে হলের আসন। লোকসান সামলাতে না পেরে একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দিচ্ছেন মালিকরা। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মধুমতি ও রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শাপলা টকিজ।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একসময় ছিল চারটি সিনেমা হল। ভৈরব বাজারে মেঘনার পাড়ে ছবিঘর, রেলওয়ে স্টেশনের পাশে পলাশ এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে ছিল মধুমতি ও দর্শন। এর মধ্যে অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে ছবিঘর ও পলাশ। দীর্ঘদিন টিকে থাকার পর সর্বশেষ মধুমতিও গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ভৈরবের সিনেমা হলের সংখ্যা আরও কমে গেল।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রংপুরের সিনেমা হলের ইতিহাসও ছিল বেশ সমৃদ্ধ। শহরের প্রথম সিনেমা হল ছিল মডার্ন হল। সেটি বন্ধ হওয়ার পর একে একে গড়ে ওঠে শাপলা টকিজ, দরদী হল, ওরিয়েন্টাল, লক্ষ্মী টকিজ, নূর মহল, চায়না টকিজ, সেনাহলসহ মোট ১০টি সিনেমা হল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ। সর্বশেষ টিকে ছিল শাপলা টকিজ। ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই হলটিও দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে শুক্রবার থেকে বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। শনিবার সিনেমা হল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাপলা টকিজের ব্যবস্থাপক শাহাবুদ্দিন। শাপলা টকিজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিভাগীয় শহর রংপুর এখন পুরোপুরি সিনেমা হলশূন্য হয়ে গেল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দর্শক হারানো, ভালো সিনেমার স্বল্পতা, অনলাইন বিনোদনের বিস্তার এবং হল পরিচালনার বাড়তি ব্যয়সহ নানা কারণে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছে। একসময় যে সিনেমা হলগুলো ছিল মানুষের বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র, সেগুলো আজ একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু ব্যবসায়িক সংকট নয়; এটি দেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতির জন্যও বড় একটি সতর্কবার্তা।