ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলএনজি না আসায় বন্ধ সামিটের গ্যাস সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫২০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন এলএনজি কার্গো টার্মিনালে যুক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় এতদিন মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করছিল সামিট। মজুত প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ করতে হয়েছে।

এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে। অথচ দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি সরবরাহে সামিটের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়।

এদিকে সমুদ্র উত্তাল থাকায় একটি এলএনজি কার্গো সামিটের টার্মিনালে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে সোমবার থেকে ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ কমাতে শুরু করে সামিট। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় সরবরাহ। বর্তমানে এক্সিলারেটের আংশিক চালু থাকা টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে সৌদি আরামকোর সরবরাহ করা ‘আল হামরা’ নামের আরেকটি এলএনজি কার্গো নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিমা-সংক্রান্ত আপত্তির কারণে কার্গোটি কোনো টার্মিনাল গ্রহণ করেনি। কার্গো পরিবর্তনের জন্য সৌদি আরামকোকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। গ্যাস সংকটের মধ্যেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। ফলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাপ আরও কমেছে। এতে উৎপাদননির্ভর শিল্পে সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সমুদ্র পরিস্থিতির উন্নতি হলে শুক্রবার রাতে কার্গো টার্মিনালে যুক্ত করার প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে শনিবার থেকে সামিটে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় চালু করতে আরও সময় লাগবে। ফলে সামিটের সরবরাহ ফিরলেও দেশে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশের নামাজের সময় সূচি

সেহরির শেষ সময় - ভোর: ৪:২১
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা: ৬:১৫
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২৭
  • ১২:০০
  • ৪:২৫
  • ৬:১৫
  • ৭:৩০
  • ৫:৪১

এলএনজি না আসায় বন্ধ সামিটের গ্যাস সরবরাহ

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশের গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন এলএনজি কার্গো টার্মিনালে যুক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় এতদিন মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করছিল সামিট। মজুত প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ করতে হয়েছে।

এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে। অথচ দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি সরবরাহে সামিটের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়।

এদিকে সমুদ্র উত্তাল থাকায় একটি এলএনজি কার্গো সামিটের টার্মিনালে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে সোমবার থেকে ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ কমাতে শুরু করে সামিট। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় সরবরাহ। বর্তমানে এক্সিলারেটের আংশিক চালু থাকা টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে সৌদি আরামকোর সরবরাহ করা ‘আল হামরা’ নামের আরেকটি এলএনজি কার্গো নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিমা-সংক্রান্ত আপত্তির কারণে কার্গোটি কোনো টার্মিনাল গ্রহণ করেনি। কার্গো পরিবর্তনের জন্য সৌদি আরামকোকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। গ্যাস সংকটের মধ্যেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। ফলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাপ আরও কমেছে। এতে উৎপাদননির্ভর শিল্পে সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সমুদ্র পরিস্থিতির উন্নতি হলে শুক্রবার রাতে কার্গো টার্মিনালে যুক্ত করার প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে শনিবার থেকে সামিটে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় চালু করতে আরও সময় লাগবে। ফলে সামিটের সরবরাহ ফিরলেও দেশে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।