মাগুরায় দেড় মাসেও নিখোঁজ গৃহবধূ রতনাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫১৮ বার পড়া হয়েছে
মাগুরা সদরের পশু হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা রতনা খাতুনের নিখোঁজের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় বাটিকাডাঙ্গা এলাকার একটি দোকানের কাছে যাওয়ার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ। এরপর কেটে গেছে প্রায় দেড় মাস, কিন্তু এখনো তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। নিখোঁজ রতনা খাতুনের বয়স ৪৫ বছর। তিনি মৃত আফসার খানের মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার সময় এক প্রতিবেশী তাকে কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে বাজারে যাওয়ার কথা বলেন।
এরপর সন্ধ্যা ৭টা ১ মিনিটে বাটিকাডাঙ্গা অস্থায়ী কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় স্যানিটারি মিস্ত্রি ও চুলা বিক্রেতা আক্কাস আলী শেখের দোকানের কাছে যান তিনি। সেখানে পৌঁছে মুঠোফোনে আক্কাসের সঙ্গে মাত্র ১১ সেকেন্ড কথা বলেন। রতনা তাকে বলেন, ‘ভাই, আপনি কোথায়? আমি আপনার দোকানে এসেছি।’ জবাবে আক্কাস তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। এর কয়েক মিনিট পরই রতনার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় রতনার ছোট বোন স্বপ্না আক্তার ৮ জুলাই মাগুরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ১৩ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
পরিবারের দাবি, রতনার নিখোঁজের পেছনে তার সাবেক স্বামী ফারুকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। ফারুকের সঙ্গে রতনার মোহরানা ও যৌতুকসংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এর আগে যৌতুকের দাবিতে রতনাকে নির্যাতন এবং পরবর্তী সময়ে তালাক দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মামলা করার পর ফারুক ও তার বর্তমান স্ত্রীর কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার কথাও পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।
নিখোঁজ রতনার একমাত্র মেয়ে আঁচল বর্তমানে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। তার অভিযোগ, আক্কাস আলী শেখ রতনার সাবেক স্বামী ফারুকের পূর্বপরিচিত। নিখোঁজের আগে রতনার সঙ্গে আক্কাসের যোগাযোগ এবং পরে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আঁচলের দাবি, পুলিশ আক্কাসকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিলেও পরে ছেড়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে ফারুককেও এখনো আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন আঁচল। তবে নিখোঁজের ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। পরিবারের অভিযোগ ও সন্দেহের বিষয়গুলোও তদন্তসাপেক্ষ।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ১৩ আগস্ট এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে বাদীপক্ষ মামলাটি পিবিআইতে তদন্তের জন্য হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও রতনা খাতুনের সন্ধান না মেলায় উদ্বেগে রয়েছে পরিবার। ১১ সেকেন্ডের সেই ফোনকলের পর আসলে কী ঘটেছিল—এখন সেটিই হয়ে উঠেছে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।















